default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার সবচেয়ে বেশি আগাম ভোট পড়বে—এমন অনুমান আগে থেকেই করা হচ্ছিল। আদতে হচ্ছেও তাই। নির্বাচনের এখনো সাত দিন বাকি। অথচ আজ ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৬ কোটি ৪০ লাখের বেশি আগাম ভোট পড়েছে, যা এর আগের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের আগে আরও ভোট পড়বে নিশ্চিতভাবেই।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগাম ভোটের হার দেখে নির্বাচনে কে জয়ী হবেন, তা বলার সুযোগ নেই। তবে এই হার নির্বাচনপূর্ব বিভিন্ন জরিপের ফলকে সমর্থন করছে। ফলে জনমত জরিপগুলোতে উঠে আসা তথ্যের ওপর আস্থা বেড়ে যাচ্ছে।

নির্বাচনপূর্ব বিভিন্ন জনমত জরিপের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ অন্য যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে বেশি। সিএনএন/এসএসআরএসের সর্বশেষ জনমত জরিপে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ভোটারদের ৮৮ শতাংশই জানান, তাঁরা এবার ভোট দেবেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে এ হার ছিল ৮৩ শতাংশ। নির্বাচনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা ও বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ফাইভথার্টিএইটের পূর্বাভাস বলছে, এবার ১৫ কোটি ৪০ লাখের মতো ভোট পড়তে পারে। গেলবার ১৪ কোটি ভোট পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল ওয়েবসাইটটি।

নির্বাচনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা ও বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ফাইভথার্টিএইটের পূর্বাভাস বলছে, এবার ১৫ কোটি ৪০ লাখের মতো ভোট পড়তে পারে। গেলবার ১৪ কোটি ভোট পড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল ওয়েবসাইটটি।
বিজ্ঞাপন

সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এবার ভোট দেওয়ার হার সর্বোচ্চ হতে পারে। শতাংশের হিসাবে ১৯৭১ সালে ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী ভোটারদের সর্বোচ্চসংখ্যক ভোট দিয়েছিলেন। সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়, ভোট বেশি পড়লে এর অবধারিত প্রভাব হিসেবে জনমত জরিপগুলোর ফলের প্রভাব বেড়ে যায়। ভোট পড়ার হার কম হলে নির্বাচনের ফল নিয়ে পূর্বানুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই দুই দলের প্রার্থী বাছাই ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোর ফল আগে থেকে বোঝাটা কঠিন হয়। কারণ, এসব নির্বাচনে ভোটার অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। আবার নিবন্ধিত ভোটারদের শনাক্ত করাটা সম্ভাব্য ভোটারদের চেয়ে সহজ। ভোট পড়ার হার বেড়ে গেলে এই দুই ধারা মিলে যায়। ফলে জনমত জরিপগুলোর পক্ষে আগে থেকে নির্বাচনের ফল অনুমান করা সহজ হয়।

এবারের ভোটে আরও কিছু প্রবণতা চোখে পড়ছে। সিএনএন জানায়, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ফ্লোরিডায় এবারের আগাম ভোটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখা গেছে। এ দুই অঙ্গরাজ্যে সরাসরি ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রিপাবলিকান সমর্থকের সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা বেশি দিচ্ছেন ডাকযোগে ভোট। পেনসিলভানিয়াতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অন্য বছরগুলোয় ঠিক উল্টো প্রবণতা দেখা গেছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সব অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের মধ্যে আগাম ভোট দেওয়ায় এত আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত যে ৬ কোটি ৪০ লাখের বেশি ভোট পড়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই পড়েছে সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ ১২টি অঙ্গরাজ্যে। এই ১২ অঙ্গরাজ্যেই এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এই ১২ অঙ্গরাজ্যে গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যতসংখ্যক ভোট পড়েছিল, তার অর্ধেকই এর মধ্যে দেওয়া হয়ে গেছে।

আগাম ভোটের বিষয়ে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আগ্রহ বেশি। ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত পাঁচটি সুইং স্টেটে রিপাবলিকানদের চেয়ে প্রায় ২০ লাখ বেশি ডেমোক্র্যাট ভোট দিয়েছেন

ইউনাইটেড স্টেটস ইলেকশনস প্রোজেক্টের তথ্যমতে, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যত ভোট পড়েছিল, তার ৪৬ শতাংশই আগাম ভোট হিসেবে এবার দেওয়া হয়ে গেছে।

এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে এবার বহু অঙ্গরাজ্যই নিজেদের ভোট দেওয়ার নিয়মে কিছু বদল এনেছে। ভোটের দিনে ভিড় এড়াতে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য প্রথমবারের মতো ডাকযোগে ভোটের সুযোগ করে দিয়েছে। আবার বেশ কয়েকটি ভোটের নির্ধারিত দিনের আগে সরাসরি আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ অবারিত করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ট্রাম্প-সমর্থক ও ট্রাম্প-বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে ভোট প্রদানের বাড়তি আগ্রহের বিষয়টি।

আগাম ভোটের বিষয়ে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আগ্রহ বেশি। ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত পাঁচটি সুইং স্টেটে রিপাবলিকানদের চেয়ে প্রায় ২০ লাখ বেশি ডেমোক্র্যাট ভোট দিয়েছেন। ২০১৬ সালে যে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প, এবার সেখানে পড়া আগাম ভোটে অনেক এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা। অঙ্গরাজ্যটিতে যতসংখ্যক রিপাবলিকান আগাম ভোট দিয়েছেন, তার তিনগুণ দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও এবার প্রচুর আগাম ভোট পড়েছে। ২০১৬ সালে অঙ্গরাজ্যটিতে পড়া মোট ভোটের ৮০ শতাংশের বেশি এরই মধ্যে দেওয়া হয়ে গেছে। আর অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, নেভাদা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় পড়েছে গত নির্বাচনে পড়া মোট ভোটের ৬০ শতাংশের বেশি।

বিজ্ঞাপন
default-image

সুইং স্টেটগুলোয় ২০১৬ সালে পড়া মোট ভোটের হিসাবে ফ্লোরিডায় ৬৩, নর্থ ক্যারোলাইনায় ৬৭, ওহাইওতে ৩৯, মিশিগানে ৪৩, পেনসিলভানিয়ায় ২৮, অ্যারিজোনায় ৬০, উইসকনসিনে ৪৫ ও আইওয়ায় ৪৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে বিবেচিত জর্জিয়ায় ৬৬, মিনেসোটায় ৪০, নেভাদায় ৬৬ ও টেক্সাসে ৮২ শতাংশ ভোট এরই মধ্যে পড়েছে।

করোনার কারণে প্রথমবারের মতো আগাম ভোটের সুযোগ দেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক অন্যতম। এ অঙ্গরাজ্যে এরই মধ্যে ৪ লাখ ২২ হাজার ভোট পড়েছে, যা ২০১৬ সালে পড়া মোট ভোটের ৫ শতাংশ। অঙ্গরাজ্যটিতে মাত্রই আগাম ভোট শুরু হয়েছে, চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত। ফলে নিউইয়র্কের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোয় আরও বহু আগাম ভোট পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোয় আগাম ভোট পড়ার হার বেশি। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন বেশি এমন অঙ্গরাজ্যগুলোয় আগাম ভোট পড়ার হার কম।

এই সাধারণ প্রবণতা থেকে সুইং স্টেটগুলোর ফল নিয়ে পূর্বানুমানের সুযোগ থাকলেও, তা না করাটাই শ্রেয়। কারণ, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে যেহেতু সরাসরি ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেশি, তাই ভোটের দিন বহু হিসাব বদলে যেতে পারে। আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের বেশি অংশগ্রহণের তথ্য ভোটের দিন বহু ডেমোক্র্যাট সমর্থককে নিস্পৃহ ভূমিকায় ঠেলে দিতে পারে। ট্রাম্প চাইবেন এ বিষয়টিকে কাজে লাগাতে। আর জয় পেতে হলে বাইডেনকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, তাঁর সমর্থকেরা যেন ৩ নভেম্বরও ভোটকেন্দ্রে যান। প্রতিটি ভোট মূল্যবান—এই বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এখন বাইডেনের সবচেয়ে বড় কাজ।

মন্তব্য পড়ুন 0