default-image

বুঝলে সু, কোনো স্পোর্টস আমি পছন্দ করি না।

কেন?

যেকোনো খেলায় এক পক্ষকে হারতে হয়। একজনের বা এক পক্ষের পরাজয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আরেকজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। যদিও খেলা, পরাজিতের চোখে আমি চোখ রাখতে পারি না। মনটা ভেঙে যায়! পরাজিত পক্ষের প্রতি আমার এক ধরনের সহমর্মিতা চলে আসে। হয়তো অচেতনভাবেই নিজেকে পরাজিত ভাবি।

শচীন টেন্ডুলকারের ছবি দেখিয়ে শাহানা মোবারককে বলছিলেন, কত বড় মাপের ক্রিকেটার ছিলেন টেন্ডুলকার। এর জের ধরেই মোবারক স্পোর্টস নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন। নিজে এক সময় মিসরের মরুভূমিতে দাপুটে ফুটবল খেলেছেন। তখন স্কুলে পড়তেন। মরুভূমির খেলোয়াড় মোবারকের জীবন পাল্টে গেছে। এক সময় বিপ্লবী হতে চেয়েছিলেন। বিপ্লবের চিন্তাও সেই কবে উবে গেছে! না খেলোয়াড় হলেন, না বিপ্লবী। মাঝে মাঝে নিজেকে এক ব্যর্থ মানুষই মনে হয়।

বিজ্ঞাপন

ডাক্তার মোবারকের স্ত্রী ফাতিমাকে এক মাসের বিশ্রাম দিয়েছেন। কেন এই বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে, কারও জানা নেই। আমেরিকার এই বিষয়টি মোবারকের খুব ভালো লাগে। একজনের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি আরেকজনের সম্মান। এমনকি স্ত্রীর ব্যক্তিগত শারীরিক সমস্যার কথাও অনুমতি ছাড়া স্বামীকে বলছে না ডাক্তার।

মোবারক মনে করলেন, তিনি যে দেশ থেকে এসেছেন, সেখানকার লোকজন হলে তাঁকে বা তাঁর স্ত্রীকে—কী হয়েছে? সন্তান সম্ভাবা নাকি? কয়বার বমি করেছে?—এমন কত-শত প্রশ্নের মুখে পড়তে হত।

ফাতিমাকে ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে যান নাতালিয়া। তিনিও জানেন না, ফাতিমাকে কেন এক মাসের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, জটিল কিছু নয়। শুধু কয়েক সপ্তাহ বিশ্রাম নিতে হবে।

আমেরিকার মানুষের মধ্যে একে–অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে কথা বলছিলেন মোবারক। অবশ্য আমেরিকার সরকার যে এখন নাগরিকদের ফোনে আড়িপাতার কাজ করছে ব্যাপকভাবে, তা নিয়ে খেদোক্তি করতেও ভুললেন না মোবারক।

নিউজার্সির এডিসন শহরে আজ তারা আড্ডায় যোগ দিচ্ছেন। নাতালিয়া ও জর্জ কিছুক্ষণের মধ্যেই আসার কথা।

নিউইয়র্কের হাডসন নদী পেরিয়ে আধা ঘণ্টার ড্রাইভ। ট্রেনে এডিসন শহরে নেমে শাহানা অবাকই হলেন। মনে হচ্ছে, দিল্লির ট্রেন স্টেশনে নেমেছেন। কোথাও কোন সাদা–কালো লোকজন নেই। কেবলই বাদামি লোকজনের হাঁটা চলা। অনেকেই হিন্দিতে কথা বলছে। পুরো ভারতীয় একটি শহর হয়ে উঠেছে এডিসন। এখানে–ওখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি পোস্টার।

default-image

ভারতীয় মিশ্রণের কমলা হ্যারিসকে সঙ্গে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী জো বাইডেন। এর ফলে ভারতীয় অভিবাসীদের ব্যাপক ভোট বাইডেন পাচ্ছেন না। শাহানা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেই টের পেয়েছেন, ভারতীয়দের পছন্দের খাতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোদি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়াও ভারতে হিন্দু–মুসলমান সমীকরণও এ ক্ষেত্রে কাজ করছে বলে ধারণা পাওয়া গেল এডিসন শহর ঘুরে।

মোবারক বলছিলেন, দুই দশক আগেও শহরটি এমন ছিল না। সব সাদা মানুষ আমেরিকার দক্ষিণে চলে যায়। এডিসন এলাকা থেকেও লোকজন দক্ষিণের শহরগুলোতে সরে গেছে। এডিসনসহ পুরো সেন্ট্রাল জার্সিতে এখন বাদামি চামড়ার লোকের ভিড়। বাদামি চামড়ার এশীয়দের এখানে এখন নতুন ব্ল্যাক মনে করা হয়।

‘ব্রাউনস আর নিউ ব্ল্যাক ইন আমেরিকা!’

জর্জ আর নাতালিয়া এসেই জানতে চাচ্ছিলেন, দেরি হয়ে গেল কি না।

মোবারক জানালেন, সু’কে একটা প্রশ্ন করে জবাব পাচ্ছেন না।

প্রশ্নটা কি?

এমন কোনো খেলার নাম বলতে হবে, যেখানে দুপক্ষেরই জয়ের সুযোগ আছে।

শাহানা মাথা নাড়ান। উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না। জর্জ মুচকি হাসেন।

বিজ্ঞাপন
জর্জ মাথা নাড়েন, আমেরিকার ইতিহাসে বব উডওয়ার্ড নামের সাংবাদিকটি পরিচিত হয়ে ওঠেন ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সংবাদ পরিবেশন করে। একই সাংবাদিক আবার ট্রাম্প কেলেঙ্কারির জন্য এখন আলোচিত হচ্ছেন। উডওয়ার্ডের রিপোর্টিংয়ের কারণে আমেরিকার ইতিহাসে একজন প্রেসিডেন্টকে অসম্মানের সঙ্গে হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। এবারও কি এমন কিছু হতে পারে?

ভয় পাচ্ছিলাম, এ প্রশ্নের জের ধরে জর্জ আবার কোন কান গরম করা কৌতুক বলে ফেলেন কি না!

দেখা গেল, মোবারক নিজেই প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতেই করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার কথা জানতেন! সময়মতো এই লোক সিদ্ধান্ত নিলে আমাদের দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হতো না।

জর্জ মাথা নাড়েন, আমেরিকার ইতিহাসে বব উডওয়ার্ড নামের সাংবাদিকটি পরিচিত হয়ে ওঠেন ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সংবাদ পরিবেশন করে। একই সাংবাদিক আবার ট্রাম্প কেলেঙ্কারির জন্য এখন আলোচিত হচ্ছেন। উডওয়ার্ডের রিপোর্টিংয়ের কারণে আমেরিকার ইতিহাসে একজন প্রেসিডেন্টকে অসম্মানের সঙ্গে হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। এবারও কি এমন কিছু হতে পারে?

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই উডওয়ার্ডকে ট্রাম্প বলেছেন করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার কথা। একই সময়ে তিনি জনগণকে বলছেন ভিন্ন কথা।

সাংবাদিক উডওয়ার্ডও তাঁর পেশার নৈতিকতাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে ফেলেছেন বলে বিতর্ক উঠেছে। কেন উডওয়ার্ড আগেই জানালেন না, প্রেসিডেন্ট জনসমক্ষে যা বলছেন তার চেয়ে ভিন্ন বক্তব্য তাঁর কাছে আছে।

মোবারক উত্তেজিত—‘সব কয়টা মিথ্যে কথা বলে। যাব কোথায়?’

জর্জ হাসতে হাসতে বলেন, এরা তোমার মতো সারা দিন মিথ্যা বলে না। সময় সুযোগমতো বলে।

–আমি সারা দিন মিথ্যে বলি? আর তুমি?

–সব সময় সত্য কথা বলি।

–আর ডোনাল্ড ট্রাম্প?

–বেচারা ডোনাল্ড ট্রাম্পতো সত্য আর মিথ্যার পার্থক্যই বোঝেন না—শাহানা উত্তর দেন। নাতালিয়া শাহানাকে পিঠ চাপড়ে বাহবা দেন!

আকবর রেস্টুরেন্টে খাবার চলে এসেছে। মোবারক হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানিতে হামলে পড়েছেন। জর্জ বিরিয়ানি খেতে খেতে প্লেটে কী পরিমাণ কার্বোহাইড্রেড আছে, তা জানার চেষ্টা করলেন।

সারা জীবন হট ডগ আর বিফ বার্গার খেয়েছ। এখন এই বুড়ো বয়সে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ গুনে কী করবে বন্ধু। খেয়ে ফেলো। জীবনে ভারতীয় খাবারের বৈচিত্র্য তো ঘুরে দেখতে পারলে না।

হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানির সঙ্গে ধনে পাতার চাটনি মেশাতে মেশাতে মোবারক বলছিলেন। জুড়ে দিলেন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে গল্প।

ফাতিমার ওজন বেড়ে গিয়েছিল একবার। ওজন কমানোর এক স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন ফাতিমাকে। চার ঘণ্টা স্কুলের ক্লাসে থাকার সময় কোন খাবারই খেতে পারতেন না। ফলে তিন মাসেই ফাতিমার ওজন কমে গেছে।

তার মানে ঘরে কি ফাতিমা খাওয়ার ওপরই থাকেন!

মোবারক কিছু না বলেই হাসতে থাকেন।

নাতালিয়া জানালেন, আজকের এই কৌতুকটি যেন মনে থাকে। ফাতিমার সামনে বলার পর আমরা দেখে নেব মোবারকের ঘাড়ে কয়টা মাথা!

–ইব্বি, তুমি আবার পৌঁছে দিয়ো না তোমার কবিতা শোনার পার্টনারের কাছে!

সাবধানে থেকো মোবারক! কবিতার সম্পর্কটাকে আমি ভয় পাই!

মোবারক শূন্যে তাকালেন। কী বলে প্রসঙ্গ থেকে সরা যায়, তা ভাবছিলাম। জর্জই উদ্ধার করলেন। শাহানার কাছে জানতে চাইলেন ম্যানহাটনের ট্রাফিকের অবস্থা। জানালেন, সেপ্টেম্বরের এ সময়ে ম্যানহাটন দিয়ে যাতায়াত বেশ দুরূহ বলে তিনি জানেন। সারা বিশ্বের নেতারা বিরাট লোক–লস্কর নিয়ে এ সময়ে পিকনিকে আসেন নিউইয়র্কে।

আমেরিকানরা রাষ্ট্রনেতাদের এই বার্ষিক আগমনকে পিকনিক হিসেবে বিদ্রূপ করে থাকে। এ সম্মিলন হয়ে থাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে। এবারে কোভিড-১৯–এর কারণে রাষ্ট্রনেতারা আসছেন না। ম্যানহাটনে কম ট্রাফিক। পর্যটক নেই। নানা দেশের মানুষের ভিড়ভাট্টাও নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যও নেই নিউইয়র্কে। সব যেন থমকে আছে

শাহানা জানালেন, আমেরিকানরা রাষ্ট্রনেতাদের এই বার্ষিক আগমনকে পিকনিক হিসেবে বিদ্রূপ করে থাকে। এ সম্মিলন হয়ে থাকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে। এবারে কোভিড-১৯–এর কারণে রাষ্ট্রনেতারা আসছেন না। ম্যানহাটনে কম ট্রাফিক। পর্যটক নেই। নানা দেশের মানুষের ভিড়ভাট্টাও নেই। ব্যবসা-বাণিজ্যও নেই নিউইয়র্কে। সব যেন থমকে আছে।

জাতিসংঘ নিয়ে কথা ওঠায় মোবারক ফ্লোর নিয়ে নিলেন। বোঝা গেল কোন কঠিন কৌতুক বলছেন তিনি। আগেই একবার হেসে নিলেন। বলতে শুরু করলেন, জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী একটা জরিপ পরিচালনা করবে। এক প্রশ্নের জরিপ। বিভিন্ন দেশে গিয়ে একটাই প্রশ্ন করে উত্তর নিয়ে আসতে হবে।

প্রশ্নটি হচ্ছে, ‘বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের সমাধানে কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন, সততার সঙ্গে তার একটা উত্তর দেবেন?’

খুবই ভালো প্রশ্ন। এ সমস্যাটি আমাদের আজও তাড়িত করছে। দেশে দেশে নিরন্ন অনাহারী মানুষের কষ্ট লাঘবে জাতিসংঘেরই এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দরকার। সাবেক এনজিও কর্মী শাহানা বলছেন, এই নিউইয়র্ক নগরেও দেখি ক্ষুধার্ত মানুষ হাত পেতে ভিক্ষা করছে। মনটা খারাপ হয়ে যায়।

মোবারক একটু থেমে বলেন, এই এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জাতিসংঘের খাদ্য সংকট বিমোচনের উদ্যোগটিই মাঠে মারা যায়।

কেন?

জাতিসংঘ কর্মীরা আফ্রিকায় গিয়ে জানতে পারে সেখানকার বহু লোক ‘খাদ্য’ কী, তাই জানে না। নাতালিয়াদের এলাকা পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে গিয়ে দেখা গেল সেখানের লোকজন ‘সৎ মতামত’ বলতে কী বোঝায়, তা জানে না।

বিজ্ঞাপন

পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে গিয়ে দেখা গেল, ‘সংকট’ বলতে কী বোঝায়, তা তারা জানে না। চীনে গিয়ে জানা গেল, ‘মতামত’ দেওয়া বলতে কী বোঝায়, তাই তারা জানে না। মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে দেখা গেল, সেখানকার লোকজন ‘সমাধান’ বলতে কী বোঝায়, তাই বোঝে না।

নাতালিয়া ফোড়ন কাটেন, তোমাদের দেশে গিয়ে জাতিসংঘের জরিপকারী কি পেল সু?

মোবারকই উত্তর দিলেন।

লোকটিকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আশা করি, ফিরে আসবে দ্রুত। আসলে হয়তো জানা যাবে প্রকৃত কী হয়েছিল। হয়তো জানা যাবে। হয়তো কোনো দিনই জানা যাবে না।

–আর আমেরিকায় জরিপকারীরা কি পেল?

–জরিপকারীরা আমেরিকার লোকজনকে জিজ্ঞেস করলে তারা পাল্টা প্রশ্ন করেছে, বাইরে আরেকটি ‘বিশ্ব’ আছে নাকি? যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও যে আরেকটা বিশ্ব আছে, এ নিয়েই ধারণা নেই বহু আমেরিকানের।

কৌতুকটি বলেই মোবারক বিদ্রূপের হাসি হাসতে থাকলেন।

এবারে কাশি দিলেন জর্জ। চশমা হাতে নিয়ে কাচটি ন্যাপকিন দিয়ে ঘষে নিলেন।

–এটা ঠিক, যুক্তরাষ্ট্রের লোকজন বাইরের বিশ্ব নিয়ে তেমন ভাবিত নয়। নিজেদের সড়ক নির্মাণ বন্ধ রেখে আমরা মাইলের পর মাইল সড়ক নির্মাণ করি আফগানিস্তানে। আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থী উপচে পড়ছে। আমরা স্কুল বানাই ইরাকে। এমন বহু হয়েছে। এবার আমাদের নিজের দিকেই নজর দেওয়া উচিত। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগান এবার এ কারণেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

–বিশ্বজুড়ে করা পাপের প্রায়শ্চিত্ত এসব! হাসি থামিয়ে মোবারক বেশ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

জর্জ হাত ওপরে উঠান। বলেন, তর্ক বাদ দাও বন্ধুরা। আজ আমার প্রাণের প্রিয় স্ত্রী নাতালিয়ার জন্মদিন। চলো নাতালিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই।

মুহূর্তেই সব উত্তেজনা থেমে যায়। আগে থেকে জানা ছিল না, নাতালিয়ার জন্মদিনের কথা। সবাই একযোগে হ্যাপি বার্থডে জানালেন নাতালিয়াকে। মোবারক ফাতিমার কথা মনে করলেন।

মোবারক জানালেন, তাঁর ফোন গাড়িতে রেখে এসেছেন। আমি যেন ফাতিমাকে কল দিই। ভিডিও কলে নাতালিয়াকে হ্যাপি বার্থডে জানানোর মুহূর্তে যুক্ত থাকবেন ফাতিমা। মোবারকের কথা শেষ হওয়ার আগেই কাজটি করি। ভিডিও কলে দ্রুত ফাতিমাকে দেখে নিচ্ছি। মোবারক ফোনটি তার কাছে দেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

শাহানা তাঁর আইফোনে পাবলো নেরুদার কবিতাটি ছেড়ে দিলেন—

I want you to live while I wait for you, asleep,

I want for your ears to go on hearing the wind,

for you to smell the sea that we loved together

and for you to go on walking the sand where we walked.

নাতালিয়ার চোখ ভিজে গেছে। সুখের কান্না দেখে শাহানাও তাঁকে জড়িয়ে ধরেছেন। আমার হাতের মুঠোফোনে ফাতিমার কথা শোনা যাচ্ছে। ফোনটি নাতালিয়াকে এগিয়ে দিই!

জর্জের কাঁধে আলিঙ্গনাবদ্ধ ভালোবাসার এক হাত রেখে নাতালিয়া বলছেন, সু’কে করা প্রশ্নের উত্তরটা আমি দিয়ে দিই।

আকবর রেস্টুরেন্টের গোলাপি বাতি উজ্জ্বল হয়ে পড়ছে নাতালিয়ার মুখে। জর্জ চশমার কাচে আবার ন্যাপকিন ঘষছেন।

নাতালিয়া বলছেন, একমাত্র ভালোবাসার খেলায় দুই পক্ষই জয়ী হয়। কেউ হারে না। জয় হয় কেবলই ভালোবাসার!

ibrahim. chowdhury@prothomalo. com

মন্তব্য পড়ুন 0