default-image

যুক্তরাষ্ট্রে সংগঠন নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি ও দলাদলির ঘটনা আগেও ঘটেছে। কিন্তু সংগঠনের যাত্রা শুরু করার আগেই দলাদলির কথা কমই শোনা গেছে। সম্প্রতি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন কর্ম আদর্শ ও দেশাত্মবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ‘জিয়াউর রহমান স্টাডি সার্কেল নিউইয়র্ক’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করতে না করতেই যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দলাদলি শুরু হয়েছে।

সংগঠনের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান করার আগে কয়েক দফা বক্তা পরিবর্তন হয়। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তাই বক্তব্য দিতে পারেননি। এমনকি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় গত ৩০ জানুয়ারি আরেকপক্ষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে পোস্টার ছাপিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদেশের মাটিতে নিজেদের মধ্যে এই দলাদলি-বিষোদ্গার-কাদা ছোড়াছুড়ি নিঃসন্দেহে হতাশার-অপমানের। দেশ-বিদেশের রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়, ভাবমূর্তি নষ্ট হয় দেশের ও কমিউনিটির।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই অনুষ্ঠান করার আগে সংগঠনের নাম দেওয়া হয় ‘জিয়াউর রহমান গবেষণা পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শাখা’। পরে অনুষ্ঠানের নাম বদলে যায়, নাম দেওয়া হয় ‘জিয়াউর রহমান স্টাডি সার্কেল নিউইয়র্ক’। অনুষ্ঠানটি বিএনপি ঘরানার পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের অতিথি করে সাজানো হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কারও নাম অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোস্টার ছাপানো হয়। কিছুদিন পর পোস্টারে যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির নেতাদের নাম সংযুক্ত করা হয়। এ নিয়েই শুরু হয় কাদা ছোড়াছুড়ি ও গ্রুপিং। আরেক পক্ষ অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সঞ্চালকের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে বিএনপির ব্যানারে পোস্টার ছাপানোর পর অনুষ্ঠান ঘনিয়ে আসলে বক্তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির কয়েক ডজন নেতার নাম যুক্ত করে আরও একটি পোস্টার প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা ও কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের নির্ধারিত তারিখের আগে নানা বিতর্ক ও পক্ষ-বিপক্ষ হয়ে গেলে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অনেক বক্তাই যোগ দেননি।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের লড়াইটা আর প্রথম স্তরে নেই। সেখানে এখন বাংলাদেশিদের তৃতীয় প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। তারপরও শুধু অনৈক্যের কারণে বিদেশ বিভুঁইয়ের অপরিচিত পরিবেশে রাজনৈতিক দিক থেকে তেমন অগ্রগতি হয়নি। নিউইয়র্ক নগরের বাংলাদেশি কমিউনিটির মূল সংকট দ্বিধা-বিভক্তি। নানা আঞ্চলিক সংগঠন ও বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠন ও এগুলোর রাজনৈতিক মতবিরোধের জেরে এই দ্বিধা-বিভক্তি। আর এর ফল কখনো ইতিবাচক হয়নি বলে প্রমাণ রয়েছে অনেক।

গত ২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট ২৪ কাউন্সিলম্যান পদের বিশেষ নির্বাচনেও আমরা একই চিত্র দেখেছি। শুধু অনৈক্যের কারণেই এই পদে বাংলাদেশের চারজন প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজয় নিয়েই ফিরে আসতে হয়েছে বাংলাদেশিদের।

নিজেদের মধ্যে দলাদলি, আর এ কারণে পরাজয় কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই সব বিভেদ ভুলে এক হতে হবে। বিষয়টি এখনই গুরুত্বের সঙ্গে সব পক্ষকেই ভাবতে হবে। না হলে বিদেশ বিভুঁইয়ে বাংলাদেশিদের পুরোনো সাফল্যও ম্লান হয়ে যাবে।

অভিমত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন