আন্তর্জাতিক শাশুড়ি দিবসটি প্রতি বছর অক্টোবরের চতুর্থ রোববার উদ্‌যাপিত হয়। ১৯৩৩ সালের ৫ মার্চ টেক্সাসের আমারিলোতে স্থানীয় একটি পত্রিকার সম্পাদক প্রথম শাশুড়ির দিবস উদ্‌যাপন করেন। পরে এই দিনটি অক্টোবরের চতুর্থ রোববারে স্থানান্তরিত হয়। তবে দুঃখের বিষয় ইতিহাস সেই সম্পাদকের নামটি জানাতে পারছে না।

শাশুড়ি দিবসটি অবিস্মরণীয় হয়ে ওঠার কারণ ওই সম্পাদক। তিনি এ সম্পর্কিত এক লেখার উপসংহারে তাঁর শাশুড়ির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে লিখেছিলেন, ‘একজন নারী (শাশুড়ি) উভয় লিঙ্গের শিশুদের জীবনে মূল ভূমিকা পালন করে। কিন্তু তাঁর নিজস্ব কোনো ছুটি নেই।’ তিনি আরও লিখেছিলেন, ‘মা দিবস রয়েছে এবং শাশুড়ি আমার দ্বিতীয় মা। তাঁদের আমরা সেভাবে সম্মান জানাতে না পারাটা হবে ভীষণ পীড়াদায়ক।’

বিজ্ঞাপন

ওই নাম না জানা সম্পাদকের এই লেখাটির পরই ‘শাশুড়ি দিবস’ বিশ্বের নজর কাড়ে। বছরের পর বছর ধরে ‘মা দিবস’-এ মায়েদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার যে উদাহরণ তৈরি হয়েছে, তা শাশুড়িরা কখনো পাননি। মা-দিবস, বাবা দিবসের মতো শ্বশুর-শাশুড়ি দিবস পালনে অনীহার কারণ ডিভোর্সও হতে পারে। যত সময় যাচ্ছে বিয়ে বিচ্ছেদের হার তত বাড়ছে। এতে শ্বশুরবাড়ির প্রতি শ্রদ্ধার বোধটি দুর্বল হচ্ছে।

তবে কারণ যাই হোক, শ্বশুর-শাশুড়ি একটি বিশেষ দিন প্রাপ্য। তাঁরা আমাদের জীবনসঙ্গীটির জন্মদাতা-জন্মদাত্রী। অস্বীকার করার উপায় নেই, আজ সুন্দর একটি পরিবারে নিজের স্বামী-সন্তানদের নিয়ে যে সুখটা আমরা উপভোগ করছি, তার উৎপত্তি তাঁদের থেকেই। তাঁরা সন্তানটিকে জন্মের পর সেই শিশুকাল থেকে গড়ে তুলেছেন। তারপর আজ আমি বা আমরা তাদের সন্তানটিকে বর-বউ হিসেবে পেয়েছি।

মোট কথা, শিল্পীর নিখুঁত ভাস্কর্যটি বহু মূল্যে আমরা কিনেছি। এই সৃষ্টির কৃতিত্ব কিন্তু আমাদের নয়; সেটা শিল্পীর। শ্বশুর-শাশুড়ি আমাদের সেই শিল্পী। শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি এই মনোভাব শুধু মেয়েদের বেলায় নয়, বরং ছেলেদের বেলাও একই হতে হবে। একই রকমভাবে ভাবতে হবে দুই পক্ষকেই।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ শতাংশেরও বেশি মার্কিনির প্রকৃত কাছের বন্ধু হলো তাদের শাশুড়ি। মার্কিনরা মনে করেন, এই বিস্ময়কর ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বদা আমাদের জন্য রয়েছে সমর্থন ও প্রচুর ভালোবাসা। পারিবারিক কলহসহ যেকোনো কিছুতেই তাঁরা নিরপেক্ষ বিচার-বিবেচনা দিয়ে সম্পর্ক জোড়া দিতে সচেষ্ট থাকেন। তাঁদের প্রতি আমাদের প্রত্যেকের সম্মান সম্পর্কটিকে আরও সতেজ করে তুলতে পারে।

এ ক্ষেত্রে আমাদের ধারণা ভিন্ন বলা বাহুল্য। সত্যি বলতে, শাশুড়িদের সঙ্গে আমাদের প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো বিষয়ে সামান্য গরমিল থেকেই যায়। বিশেষ করে আমাদের সাংস্কৃতিক সমঝোতাগুলোতে এটি ব্যাপক প্রভাব ফেলে। অনেকের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তবু দিন শেষে শাশুড়িরাও মা। নিজের জন্মদাত্রী মায়ের ধমক, শাসন, দ্বিমতগুলো যেভাবে আমরা মানিয়ে নিই, শাশুড়িদের ব্যাপারে অনুরূপ যদি মানিয়ে নেওয়া যায়, তবে সেটা হতে পারে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে শোভনীয়। মন্দ দিকটার থেকে না হয় ভালো দিকটাই আমরা বিবেচনায় রাখলাম; ক্ষতি তো নেই!

বিজ্ঞাপন

শাশুড়ি দিবসের দিনটি ব্যতিক্রমী ও সদয় সুন্দর এক দিন। যদিও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এই দিনটিতে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই। তবে, আমরা চাইলে শাশুড়ি দিবসটিকে জনপ্রিয় করতে রেডিও বা টিভি চ্যানেল, সংবাদমাধ্যমে প্রতি বছর বিভিন্ন উৎসাহমূলক অভিজ্ঞতা নিয়ে রিপোর্ট করতে পারি। এই দিনটিকে অতীতের সমস্ত ভুল বোঝাবুঝিগুলো ভুলে গিয়ে শাশুড়ি, বউ, জামাতাদের মধ্যে দুর্দান্ত সুন্দর একটি সম্পর্ক স্থাপনের উপলক্ষ হিসেবে কাজে লাগাতে পারি। আসুন, এই দিনটিতে আমরা আত্মীয়তার উষ্ণ সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করি। ছেলে-বউ ও মেয়ে-জামাইয়েরা এই দিনে শাশুড়ির প্রিয় কাজটি করতে পারেন। যেমন, সুন্দর একটি রূপালি পানের বাটা বা শাল উপহার দেওয়া যেতে পারে। কিংবা প্রিয় খাবারটি উপস্থাপন করতে নিজে রান্না করে টেবিল সাজাতে পারেন। এই কাজটা শাশুড়িরা খুব পছন্দ করেন। কিংবা রেস্তোরাঁয় নিয়ে যেতে পারেন। একটি সুন্দর কার্ডে দুই লাইন ভালোবাসার কথা লিখে দিতে পারেন। পুত্রবধূ ও জামাতার থেকে শাশুড়িরা খুব দামি কিছু আশা করেন না। তাদের মনযোগ পাওয়াটাই শাশুড়িদের জন্য অনেক বড় উপহার।

মন্তব্য পড়ুন 0