default-image

ঝক্কি-ঝামেলা পেরিয়ে স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে আসা এক ব্যাপার। আর এই দেশের জীবনযাত্রায় নিজেকে যুক্ত করার লড়াইটা আরেক ব্যাপার। কোভিড-১৯ এর তাণ্ডবের সময়ে স্বপ্নের দেশে এসে স্বপ্ন ভঙ্গের নানা বিষয় ঘটবে—এমন প্রস্তুতি নিয়েই দেশটিতে এসে হাজির হয়েছি। দ্রুত জেনে ফেলি, স্বাধীন আর মুক্ত থাকার মায়াবী আহ্বান যে দেশটি জানায়, সেখানে জীবন ধারণ নানা নিয়মে বাধা।

ইচ্ছে করে ছুটে চলার স্বাধীনতাও যেন আর নেই। বিশাল দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় নগরকেন্দ্রগুলো আলাদা। একটি প্রান্তিক জনপদে ঠাঁই হলে চলাচলের বিপত্তিটাও টের পাওয়া যায়। গাড়ি ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। বাজার করতে হলেও কয়েক মাইল হেঁটে যেতে হয়। এই শুধু বাজার করা আর ঘরে বসে থেকে দেশের ভাবনায় মন খারাপ করার মধ্যেই জীবন আটকে রাখা যায় না।

এই দেশে গাড়ি বিলাসী বাহন নয়। বরং বাইসাইকেলকে বিলাসী বাহন মনে হয়। তাই ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হবে। পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার এক প্রান্তিক জনপদে আশ্রয় হয় অভিবাসনের শুরুতেই। দেখি প্রতিবেশীর বাড়িতে লোক দুজন। গাড়ি তিনটা। স্বামী-স্ত্রী বা পার্টনার। স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয়টাও দিতে চায় না। এমন পরিচয় নেই বলেই হয়তো। এঁদের ঘরে বাইসাইকেল দুইটা। সাইকেল চালায় ব্যায়াম করার জন্য।

বিজ্ঞাপন

এ দেশের জীবনযাত্রার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে অপরিহার্য বিষয় হলো নিজে গাড়ি চালাতে পারা। দুই ধাপের ড্রাইভিং টেস্ট দিয়ে পাস করে তবেই লাইসেন্স নিতে হলো। প্রথম ধাপ হচ্ছে কম্পিউটারে থিওরি টেস্ট। যেখানে শতাধিক প্রশ্ন। নানা নিয়ম কানুনের ওপর ২১টা প্রশ্ন স্ক্রিনে আসে। মাউস ক্লিক করে উত্তর দিতে হলো। ১৮টি উত্তর সঠিক হওয়ায় এ পর্বে উত্তীর্ণ হওয়া গেল। এ উত্তীর্ণ হওয়াকে বলে লার্নার পারমিট। তারপরই শুরু হলো দ্বিতীয় পর্বের রোড টেস্টের প্রস্তুতি। এ জন্য অবশ্যই একজন অনুমোদিত ড্রাইভার বা কোনো ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুল থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হলে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে চূড়ান্ত টেস্টের তারিখ নিতে হলো। বলে রাখা ভালো, কম্পিউটারে থিওরি টেস্টের সময় সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড, গ্রিন কার্ড ও প্রুফ ওয়েব অ্যাড্রেস সঙ্গে রাখতে হয়েছে। আর ফি তখনো দেওয়া যায়। ফি একবারই দিতে হয় এমন নয়। রোড টেস্টে ফেল করলে আবার ফি দিয়ে টেস্ট দিতে হবে।

এসব শত ঝক্কি মোকাবিলা করে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া এক নতুন অভিবাসীর জন্য বেশ সুখের। যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাপনে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার কাজটি হয়েছে মনে করে গাড়িতে উঠি। লাইসেন্স নিয়ে প্রথমবারের মতো গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে জানালাটা খুলে দিলে হালকা লাগে। নির্জন প্রশস্ত সড়কে গাড়ি এগিয়ে যায়। নতুন এক অভিবাসীর মনে কত প্রশ্ন দোলা দেয়। সড়ক পাশের বিস্তৃত সারি বাধা নগর প্রান্ত দেখতে দেখতে দেশের সবুজ সমাহারে উদাম পথে পায়ে হাঁটা জীবনের কথাই বেশি মনে পড়ে।

অভিমত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন