default-image

বাড়ি কিনবেন নাকি ভাড়া বাসায় থাকবেন? এটি নির্ভর করবে আগামী কয়েক বছরে আপনার অবস্থানের ওপর। কয়েক বছরের মধ্যে বাসস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা, চাকরি, বিয়ে বা অন্য কোনো কারণে স্থানান্তর হওয়ায় পরিকল্পনা থাকলে বাসা ভাড়া করাই শ্রেয়। অল্প সময়ের মধ্যে লিজের মেয়াদ শেষে বাসস্থান পরিবর্তন করা যায়, কোনো রকম ঝামেলা পোহাতে হয় না। ভাড়া বাসায় নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করলেই হয়, এতে স্থানান্তর হওয়ার স্বাধীনতা বেশি। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ডাউনপেমেন্ট ও ক্লোজিং খরচ বাবদ বেশ ভালো পরিমাণে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিমাণে অগ্রিম ও নির্ধারিত ফি প্রদান করে বাসা ভাড়া নেওয়া সম্ভব। বাড়ি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিক্রি করে স্থানান্তর করা অনেক সময়ে কঠিন হয়ে পড়ে।

মানুষ স্থায়ী চাকরি, বিয়ে, পরিবার ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে স্থায়ীভাবে বসবাস করার উদ্দেশে বাড়ি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। আবার শুধু ইচ্ছা থাকলেই বাড়ি কেনা সম্ভব নয়। প্রয়োজন আছে বিশেষ প্রস্তুতির, ডাউনপেমেন্ট ও ক্লোজিং খরচের টাকা জোগাড় করার। ভেটেরান লোনে অবশ্য শূন্য ডাউনপেমেন্টে বাড়ি কেনা সম্ভব, কিন্তু শুধু উপযুক্ত ভেটেরান এই সুবিধা পাবেন। মর্টগেজ অনুমোদনের জন্য ক্রেডিট স্কোর ও নির্ধারিত পরিমাণ আয় থাকতে হবে। ২০ শতাংশের কম ডাউনপেমেন্ট দিলে অতিরিক্ত মর্টগেজ ইনস্যুরেন্স কিনতে হবে। বাড়ির মর্টগেজ পেমেন্টের পাশাপাশি প্রোপার্টি ট্যাক্স ও বাড়ির মালিকানা ইনস্যুরেন্স দিতে হবে। এ ছাড়া রয়েছে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সৌন্দর্য রক্ষার খরচ। কো-অপ কিংবা কন্ডোমিনিয়াম কিনলে রক্ষণাবেক্ষণের আলাদা ফি দিতে হয়। বাড়ির অবস্থান বন্যা অঞ্চলের মধ্যে হলে অতিরিক্ত ইনস্যুরেন্স কিনতে হবে।

বাড়ি ভাড়া কিংবা বাড়ি ক্রয় কোনটি আপনার জন্য লাভবান, তা নির্ধারণ করতে অনলাইনে বিভিন্ন ক্যালকুলেটর আছে। আপনার বর্তমান অবস্থা, নিকটবর্তী ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে আপনার জন্য কোনটা লাভজনক বেছে নিতে পারেন।
বিজ্ঞাপন

বাড়ি ক্রয় করা গর্বের বিষয়, সবার জীবনের অন্যতম আকাঙ্ক্ষার বস্তু। বাড়ি ক্রয় বাসস্থানকে স্থায়ী করে ও কমিউনিটি তৈরি করতে সহযোগিতা করে। বাড়ির মালিক হিসেবে গর্ববোধ করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ির পরিবর্তন-পরিবর্ধন যেকোনো কিছুই করা সম্ভব। বাড়ির মালিকানা কমিউনিটিতে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করে এবং পরিবার তৈরিতে বিশেষ অবদান রাখে।

বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো অর্থনৈতিক সুবিধা। বাসা ভাড়ার ক্ষেত্রে অন্যের মর্টগেজ পরিশোধ করেন, বর্তমান সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করাই মুখ্য। বাড়িতে ‘ইকুইটি’ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে নগদ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বাড়ির দাম বৃদ্ধি পেলে বাড়ি বেশি দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা পেতে পারেন। অন্যদিকে ভাড়া বৃদ্ধি নির্ধারিত হারে বৃদ্ধি পায়, যা অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি করে।

বাড়ির মর্টগেজে দেওয়া সুদ, প্রোপার্টি ট্যাক্স ইত্যাদি ট্যাক্স ফাইলে বাদযোগ্য খরচ, যা ট্যাক্সের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। বাড়ি ক্রয়ে বিনিয়োগ অনেকটা নিশ্চিত ও এর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব। বাড়ির মূল্য কিংবা ইকুইটি বৃদ্ধি পেলে ক্যাশ আউট রি-ফাইন্যান্সের মাধ্যমে নগদ অর্থ পাওয়া যায়।

ভাড়া বাসা নির্ঝঞ্ঝাট ও ময়লা ফেলা, স্নো পরিষ্কার ইত্যাদির কোনো ঝামেলা থাকে না। বাসা ভাড়ার সঙ্গে সব সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত থাকে। ভাড়া বাসা মেরামত কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো টেনশন থাকে না, সমস্ত কিছু নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকে বাড়ির মালিকের। বাড়ি দাম কমে গেলে কিংবা ট্যাক্স বৃদ্ধি পেলে ভাড়াটিয়া কোনো ক্ষতি নেই। অন্যদিকে আবার বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে বাসা ছেড়ে দিতে বলতে পারেন। ভাড়াটিয়া লিজের সব শর্তাবলি মানতে বাধ্য থাকে। গবেষণায় দেখা যায়, বাড়ি কিনে কমপক্ষে তিন বছর বসবাস না করলে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাড়ি ভাড়া কিংবা বাড়ি ক্রয় কোনটি আপনার জন্য লাভবান, তা নির্ধারণ করতে অনলাইনে বিভিন্ন ক্যালকুলেটর আছে। আপনার বর্তমান অবস্থা, নিকটবর্তী ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে আপনার জন্য কোনটা লাভজনক বেছে নিতে পারেন।

অভিমত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন