default-image

বিশ্বের কোথাও কোথাও করোনার প্রাদুর্ভাব আবার ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। দেশে দেশে ব্যাপক হারে করোনার টিকাদান কর্মসূচিও শুরু হয়েছে। তারপরও করোনা সংক্রমণের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। তবে এই সময়ে নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ব্যাপক হারে টিকাদান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার কারণে এসব অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি ইতিবাচক।

নিউইয়র্ক নগর ও পার্শ্ববর্তী রাজ্য নিউজার্সিতে রেস্তোরাঁর ভেতরে বসে খাওয়ার কড়াকড়ি আদেশ শিথিল করা হয়েছে। এখন ভেতরে বসে খাওয়ার সক্ষমতা আগের ৩৫ শতাংশ থেকে উন্নীত করে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও আবার বাড়তে পারে, এর প্রমাণ আমরা আগে পেয়েছি। তাই আপাতত কড়াকড়ি আইন শিথিল করলেও সতর্কতা মেনেই চলতে হবে সবাইকে। তা না হলে নিজের ও কমিউনিটির সুরক্ষা ব্যাহত হতে পারে।

তাই করোনা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এই আনন্দে মাস্ক ছাড়া চলাফেরা করা যাবে না। আগের মতোই মাস্ক পরতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তাহলে হয়তো নিয়ন্ত্রণে আসা করোনা আর মাথা তুলতে পারবে না। আমরাও হয়তো আর স্বজনের সংক্রমিত হওয়ার বা এতে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর মতো দুঃসংবাদ আর শুনব না। বৃহত্তর স্বার্থে তাই সতর্কতা আমাদের মেনে চলতেই হবে।

খবরে জানা গেছে, ১৯ মার্চ থেকে নিউইয়র্ক নগর ও নিউজার্সির রেস্তোরাঁগুলোতে ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশ মানুষ একসঙ্গে ভেতরে বসে খাওয়া-দাওয়া করতে পারবে। রাজ্য গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ও ফিল মারফি দুই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এই ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ জানাতে গিয়ে নিউইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বলেছেন, এটা খুবই আশাব্যঞ্জক যে, গত কয়েক দিনে নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত কমছে। এভাবে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকলে ও টিকাদানের সংখ্যা বাড়াতে থাকলে আমরা একসঙ্গে এই অজানা শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করে টানেলের শেষপ্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হব।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ডিসেম্বরের দিকে নিউইয়র্কে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো রেস্তোরাঁর ভেতরে বসে খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরে আবার ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে রেস্তোরাঁর ধারণ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্রাহককে ভেতরে বসে খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তাই করোনা মহামারি শুরুর পর নিউইয়র্ক নগরের রেস্তোরাঁগুলোতে এবারই প্রথম একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানুষকে ভেতরে বসে খাওয়ার বা ইনডোর ডাইনিংয়ের অনুমতি দেওয়া হলো।

ধারণক্ষমতা বাড়ানোয় রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ খুশি হলেও কর্মীদের ধারণা, ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করায় করোনা সংক্রমণ আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁরা মনে করেন, এখন যারা ভেতরে বসে খেতে আসে, তাদের বেশির ভাগই শুরু থেকে করোনাকে গুরুত্ব সহকারে না নিয়ে অবহেলা করেছে।

রেস্তোরাঁ কর্মীদের এই ধারণা অমূলক নয়। তাঁদের ধারণাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ২০২২ সালেও লোকজনকে মাস্ক পরে চলাচল করতে হতে পারে। কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ একদম তলানিতে নামলে এবং দেশের অধিকাংশ মানুষ টিকার আওতায় চলে আসলেই কেবল মাস্ক ছাড়া চলাচলের কথা চিন্তা করা যেতে পারে।

করোনায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতির আর পুনরাবৃত্তি কেউ চায় না। আর তা না চাইলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

অভিমত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন