দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে

নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

বিজ্ঞাপন

বিপদ কখনো একা আসে না। প্রচলিত এ কথা যে কত বড় সত্য, তা নিউইয়র্কের মানুষ এবার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারিতে সবচেয়ে বিপর্যস্ত শহরের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে নিউইয়র্ক। এত মানুষকে একসঙ্গে হারাতে হবে, কেউ ভাবতেও পারেনি। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে নেওয়া লকডাউনের মতো পদক্ষেপ ধসিয়ে দিয়েছে নগর অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতিকে। প্রশাসনিক তহবিলে টান পড়েছে। ফেডারেল সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েনের জেরে অর্থছাড়ও করা যায়নি সময়মতো। চরম অর্থনৈতিক সংকট ও মহামারির মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে আরেক মহামারি। সেটা অপরাধ। আরও ভালো কররে বললে সহিংসতা।

গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিউইয়র্কে গোলাগুলির ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বছরের প্রথম আট মাসে নিউইয়র্ক নগরে ১ হাজার ১৪টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার ৫৪১টিই ঘটেছে গত মাসে। আট মাসে ঘটা এসব গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৯১ জন। শুধু আগস্টেই খুন হয়েছে ৫৩ জন। শুধু গোলাগুলি কেন, ছিনতাই ও ধর্ষণও বেড়েছে। আট মাসে ছিনতাই হয়েছে সাত হাজারের বেশি। আর শুধু আগস্টেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৬০ জন।

নিউইয়র্ক নগরে অপরাধ কতটা বেড়েছে, তা আগের বছরের হিসাবের দিকে তাকালে বোঝা যাবে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে গোলাগুলির ঘটনা বেড়েছে ১৬৬ শতাংশ। এসব গোলাগুলিতে খুন বেড়েছে ৫০ শতাংশ। আর ছিনতাই বেড়েছে ৪২ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিরাপদ নগর হিসেবে নিউইয়র্কের সুনাম রয়েছে। কিন্তু এই সুনামকে এখন সুদূর অতীত মনে হচ্ছে। ডাকাতির মতো ঘটনা হরহামেশা ঘটছে। ছোটখাটো মারামারির ঘটনা নৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির জন্য করোনা মহামারিকে দায়ী করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দায়ী করা হচ্ছে সম্প্রতি হওয়া পুলিশ সংস্কার আইনকে।

করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে বহু অপরাধীকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে। ফলে নিউইয়র্কের রাস্তায় এখন পুরোনো অনেক অপরাধী ফিরে এসেছে। সন্ত্রাসী দলগুলো জেগে উঠেছে আবার। তাদের এই তৎপরতা বৃদ্ধির পেছনে রসদ জোগাচ্ছে অর্থনৈতিক সংকট ও পুলিশ সংস্কার আইন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর শুরু হওয়া ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল পুলিশের কর্মপন্থায় বদল আনা। পুলিশের কার্যক্রমকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা। ওঠে পুলিশের তহবিল কমানোর দাবিও। এখন এগুলোই বুমেরাং হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। তহবিল কমে যাওয়ায় পুলিশ বিভাগের বহু কর্মী আর আগের মতো ওভারটাইম করছেন না। অতি সতর্কতার কারণে তাদের তৎপরতাও কমে গেছে। এরই সুযোগ নিচ্ছে নগরে ফিরে আসা পুরোনো দাগি অপরাধীরা। এ অবস্থায় অনেকেই এখন ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনকে দায়ী করতে চাইছে। ট্রাম্প প্রশাসন ও তাঁর সমর্থকেরা এ কাজটিই করছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সত্য হচ্ছে—পুলিশ ব্যবস্থা সংস্কারের যে দাবি উঠেছিল, তা যৌক্তিক। মুশকিল হলো, সেই দাবির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কমিউনিটির লোকজন তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কিন্তু বাস্তবতা

হচ্ছে, কমিউনিটিগুলো সক্রিয় না হলে পুরোনো ব্যবস্থা বদলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।

অপরাধ দমনের জন্য পুলিশ ও কমিউনিটির মধ্যে সমন্বয় স্থাপনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ তাই জরুরি

হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন