বিজ্ঞাপন

ইতিবাচক চিন্তা কবে আসবে?

কোথাও কোথাও এসেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের তিন ইন্টার্নি ডাক্তার এখন প্রশংসায় ভাসছেন। মহামারিতে যুদ্ধরত চিকিৎসা সৈনিকদের মনোবল চাঙা ও মানসিক প্রশান্তির জন্য তারা এক আনন্দ নৃত্য পরিবেশন করেন, যা দেখে অন্তত কিছুটা ক্লান্তি লাঘব হয়। নিউইয়র্কপ্রবাসী তরুণ সংগীত শিল্পী সিলেটের মুজা ও সুনামগঞ্জের লোকগীতি শিল্পী তোশিবার গাওয়া—

‘আইলারে নয়া দামান, আসমানেরও তেরা,

বিছানা বিছাইয়া দিলাম, হাইল ধানের নেরা,

দামান বও, দামান বও’

এই জনপ্রিয় আঞ্চলিক গানের সঙ্গে চিকিৎসকেরা সুন্দর নৃত্য পরিবেশন করেন। এ সময় তাদের পরনে ছিল মাস্ক, পিপিসহ চিকিৎসকের পোশাক। মেডিকেলের করিডরেই এর শুটিং হয়। সঙ্গে সঙ্গে এটি ভাইরাল হয়ে যায়। ইউটিউব ছাড়াও বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে এই নৃত্য বহুবার দেখানো হয়।

গত সপ্তাহের পুরোটা আমার কেটেছে দুঃস্বপ্নে দুঃস্বপ্নে। ভয়ে গুটিয়ে রেখেছি নিজেকে। এক হুজুরের কাছে শেখা দোয়া পড়েছি বারবার। প্রার্থনা করেছি আল্লাহর আশ্রয়ের।

শৈশবে বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে উচ্চ স্বরে আম্মা ডাকতেন, ‘মহবুব’ ‘মহবুব’। আমাদের মোগলাবাজারের বাড়িটি ছিল বেশ বড়। অবশ্য যে কোণেই থাকি না কেন, ডাক পৌঁছে যেত এবং সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিতাম।

স্বপ্নে শুনি, বারান্দার উত্তর কোণায় দাঁড়িয়ে আম্মা একইভাবে ডাকছেন ‘মহবুব’ ‘মহবু্ব’।

স্বপ্নে দেখি, এক সকালে বড় ভাই আতাউর রহমান (কক্সবাজার জেলার প্রথম এসপি) আমার নিউইয়র্কের বাসায় এসে তাগাদা দিচ্ছেন, তৈরি হতে বিলম্ব করছ কেন? এখনই যেতে হবে আটলান্টায়। বলে রাখি, অবসরের পর বড় ভাই আটলান্টায় বসবাস করতেন।

আম্মা ও বড় ভাই দুজনই এখন মরহুম। কারও কাছে স্বপ্ন দুটির ব্যাখ্যা জানার সাহস হয়নি। নিজেকে মনে মনে প্রস্তুত রেখেছি, হোক যা হওয়ার।

এ সময়ে মন খুশি থাকার কথা?

কথা নয়, তবুও খুশি।

চারপাশের সবকিছু ভালো লাগছে। মানুষ, প্রকৃতি। খাবার-দাবার, কথা বলা, আড্ডা।

আমার যেন সব আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জীবনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন লিখে শেষ করা যাবে না।এটা নিত্য সঙ্গী। চলতে চালাতে সব জায়গায় লাগে। আমাকে নিয়মিত যেতে হয় নানা জায়গায়। ওয়ালেট আমি ব্যবহার করি না। একটি খামে ড্রাইভিং, মেডিকেয়ার, ইনস্যুরেন্স, সোশ্যাল সিকিউরিটি ইত্যাদি পুরে পকেটে রেখে দিই।

কয়েক দিন আগে দেখি খামটি নেই, মিসিং। মাথায় হাত। অনেক খোঁজাখুঁজি হলো। কোথাও নেই। অবশেষে ঠিক করলাম, নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করব। কি দীর্ঘ প্রক্রিয়া! ঠিক এ সময় রুবা এসে জানাল, বাবা আপনার খামটি পাওয়া গেছে।

আহা, কি প্রশান্তি! অদ্ভুত এক শিহরণ। মনে হলো এই প্রথম আমেরিকার গ্রিনকার্ড আমার হাতে এসেছে।

আনন্দের আরও মুহূর্ত আছে।

কয়েক মাস ধরে আমি হুইল চেয়ারের বাসিন্দা। মাথা ঘুরে যেখানে-সেখানে পড়ে যাই। মনে মনে ধরে নিয়েছিলাম, বাকি জীবনটা এই চেয়ারেই কাটবে। কিন্তু গত সপ্তাহে ঘটল নাটকীয় ঘটনা। দেখি, আমি দাঁড়িয়ে গেছি এবং এক পা-দু পা করে পুরো আধ ঘণ্টা হাঁটতে পেরেছি।

যদিও বলা যাবে না, হুইল জীবনের সমাপ্তি এখানেই। তবু তো কিঞ্চিৎ আশা জেগেছে, একদিন সমাপ্তি টানা সম্ভব।

এই প্রাপ্তিই বা কম কিসে! তবে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তটি ছিল সম্প্রতি আমার বইয়ের প্রচ্ছদ দেখা।

প্রায় ৫০ বছরের সাংবাদিকতায় ছিটেফোঁটা কিছু লেখা আছে। এগুলো দিয়ে যে বই বের করা যায়, সে ধারণা ছিল না। এ ছাড়া ইচ্ছে জাগেনি কখনো। তবে সব ধারণা পাল্টে দিলেন তিনজন। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার আবাসিক সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী, সিলেটের দৈনিক যুগভেরীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অপূর্ব শর্মা ও আমার অনুজ রাজনীতিবিদ আতিকুর রহমান। তারা আমার বই বের করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেন।

লেখা? লেখাতো আমার সংগ্রহে নেই। ৩২ বছর আগে আমেরিকায় অভিবাসী হওয়া আর নিউইয়র্কে পাঁচবার বাড়ি বদলানোর পর অবশিষ্ট কিছু থাকে?

ফেসবুকে কিছু লেখা আছে। অবশ্য সমস্যার সমাধান হলো। অপূর্ব শর্মা ও ইব্রাহীম চৌধুরী প্রথম বইয়ের লেখাগুলো মোটামুটি ঠিক করে ফেললেন। গত সপ্তাহে আমার কাছে এল বইয়ের দুটি প্রচ্ছদ। একটি বাছাই করতে হবে।

প্রচ্ছদ দেখে এতই আবেগ আপ্লুত হলাম যে, বহুক্ষণ প্রচ্ছদের দিকে তাকিয়ে থেকেছিলাম। মনে হচ্ছিল, এ প্রচ্ছদ নয়, আমার এক সন্তান। বই বের হয়নি এখনো। লকডাউনে ব্যাহত হচ্ছে।

তবে আনন্দের অনুভূতি এত স্বতঃস্ফূর্ত যে, মনটা আপনিতে ভরে যায় খুশির হাওয়ায়।

লেখক: নিউইয়র্কপ্রবাসী সাংবাদিক।

অভিমত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন