default-image

রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট কনভেনশন শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী বাতাস এখন তুঙ্গে থাকার কথা, কিন্তু এখনো তা নয়। কারণ কোভিড-১৯। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ বা ‘লেবার-ডে’ উইকএন্ডের পর হয়তো ঝড় বইবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাসের তোয়াক্কা না করে বড়বড় সমাবেশ করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন নির্বাচনী মাঠে নেই। ডেমোক্র্যাট নেতা-কর্মীরা এতে উদ্বিগ্ন। বাইডেন ক্যাম্পেইন তাই ঘোষণা দিয়েছেন, ‘লেবার-ডে’ সপ্তাহান্তের পর তাঁরা মাঠে নামছেন। ট্রাম্প আক্রমণাত্মক খেলছেন। বাইডেন এখনো ডিফেন্সিভ।

ডেমোক্র্যাট সম্মেলন সাদামাটা ছিল। তাই রিপাবলিকানরা বলেছিলেন তারা কনভেনশন কাকে বলে তা দেখাবেন। কনভেনশনের শেষ দিনে অর্থাৎ ট্রাম্পের মনোনয়নগ্রহণ ভাষণের দিন তাঁরা তা দেখিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের বিশাল মিলনায়তনে হাজারো মার্কিন পতাকা ঝলমলে স্টেজে ট্রাম্পের ভাষণের সময় হলভর্তি গণ্যমান্য অতিথি উপস্থিত ছিলেন। মুহুর্মুহু করতালিতে বারবার হলঘর উচ্ছলিত হয়। ডেমোক্র্যাটরা এই অবস্থা দেখে বলেছেন, রিপাবলিকান কনভেনশন দেখে মনে হয়, দেশে করোনা নেই। বাইডেনের ভাষণের সময় কেউ উপস্থিত ছিলেন না, সে রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ট্রাম্প তাঁর ভাষণে বলেন, মানবতার ইতিহাসে আমেরিকা গ্রেটেস্ট কান্ট্রি বা মহান দেশ। আমরা ভীতুর জাতি নই, বরং দুর্বার সাহসী। বিশ্বে কেউ আমাদের সমকক্ষ নয়। তিনি বলেন, জয়ী হলে আগামী চার বছরে আমেরিকাকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলব এবং গর্বিত জাতি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করব। ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি চীনের পিছু ছাড়বেন না? ডেমোক্র্যাটরা চীনের ব্যাপারে সোচ্চার নন, যদিও আমেরিকানরা কোভিড-১৯–এর জন্য চীনকে দায়ী করছে। বাইডেন ডেমোক্র্যাট সম্মেলনে বলেছিলেন, জয়ী হলে আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমেরিকা, আমেরিকার জনগণ ও জাতিকে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য হুমকি থেকে রক্ষা করব।

বিজ্ঞাপন

রিপাবলিকান সম্মেলনে ট্রাম্প পত্নী মেলোনিয়া ট্রাম্প বলেন, আমি আমার স্বামীকে চিনি, তিনি আমেরিকাকে ভালোবাসেন। তিনি স্বামীর জন্য আরও চার বছর সময় চান এবং দেশরক্ষার দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। মেলোনিয়া বলেন, আমার স্বামী প্রথম দিন থেকে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অঙ্গীকার রক্ষায় তিনি সবকিছু করবেন।

ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প বলেছেন, আমার বাবা একবার অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়েছেন, আবারও ঘোরাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, বাইডেন প্রেসিডেন্ট হলে সন্ত্রাসীরা খুশি হবে।

ডেমোক্র্যাটরা প্রশ্ন করেন, এটি রিপাবলিকান কনভেনশন না ট্রাম্প কনভেনশন? উল্লেখ্য, সম্মেলনের চার রাতে প্রতিদিন ট্রাম্প পরিবারের একজন ভাষণ দেন। সোমবার সম্মেলনের প্রথম রাতে ট্রাম্প–পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও তাঁর মেয়েবন্ধু কিম্বার্লি গুইলফয়েল; দ্বিতীয় রাতে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, এরিক ট্রাম্প, টিফাইনি ট্রাম্প ভাষণ দেন। এরিক ট্রাম্পের পত্নী লারা ট্রাম্প বুধবার ভাষণ দেন এবং কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তাঁর বাবা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরিচয় করিয়ে দেন। ২০১৬ সালে কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

ট্রাম্প–পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র বলেন, ওবামা-বাইডেন ৮ বছরে যা করতে পারেননি, আমার বাবা মাত্র ৪ বছরে তা করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, বাইডেন ও র‍্যাডিক্যাল লেফট আমাদের বাক-স্বাধীনতা খর্ব করতে চান।

পূর্বাহ্ণে ট্রাম্প অটো ওয়ার্কারদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাইডেনকে ভোট দিলে বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং চাকরির বাজার সংকুচিত হবে। নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানি বলেন, বাইডেন যদি কোনোভাবে জিতে যায়, তাহলে নিউইয়র্কের সর্বস্তরে সন্ত্রাস, লুটপাট, ডাকাতি, খুন বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়বে। সাউথ ক্যারোলাইনার দুই মেয়াদের গভর্নর, জাতিসংঘের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিকি হেলি বলেছেন, সমাজতন্ত্র আমেরিকার উল্টো। আমেরিকা রেসিষ্ট কান্ট্রি বলে যাঁরা সমালোচনা করেন, তাঁদের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে নিকি হ্যালি বলেন, আমি ভারতীয় বংশোদ্ভূত, আমার বাবা পাগড়ি এবং মা শাড়ি পড়তেন। সাদা-কালো বিশ্বে আমি ছিলাম ব্রাউন।

ট্রাম্প পূর্বাহ্ণে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা করোনা নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। কনভেনশনে ভালো কভারেজ দেওয়ায় তিনি সিএনএনের প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্পের ভাষণের সময় কেন জানি ভারতের বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে নরেন্দ্র মোদী এবং ড. মনমোহন সিংয়ের কথা স্মরণে আসে। ট্রাম্প ও মোদী দুজনেই একাই এক শ, সবার কথা শোনেন, সিদ্ধান্ত নেন নিজে। পক্ষান্তরে ড. মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কোনো আলোচনায় ছিলেন না, কোনো সিদ্ধান্ত নিতেন না, সব আপনাআপনি হতো বা অন্যরা সিদ্ধান্ত নিত। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হলেও কি তাই হবে? বাইডেনকে কি দুর্বল মনে হয় না? ওবামা বা বিল ক্লিনটন কিন্তু দুর্বল ছিলেন না। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ভালো হলে ট্রাম্প হয়তো পরাজিত হতেন, দুর্বল বাইডেন দিয়ে সেটা কি সম্ভব হবে?

বিজ্ঞাপন

এরপরও ব্যাটলগ্রাউন্ড ষ্টেটগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন বিভিন্ন জরিপে এগিয়ে রয়েছেন। উইসকনসিনে বাইডেন ৭ পয়েন্টে এগিয়ে, ২০১৬ সালে ট্রাম্প এই অঙ্গরাজ্যে জিতেছিলেন। আগেরবার ট্রাম্প ফ্লোরিডাতে জয় পান, এবার ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে। অ্যারিজোনাতে গত ৭০ বছরে মাত্র একবার ডেমোক্র্যাটরা জিতেছিল, এবার সমান-সমান। নর্থ ক্যারোলিনায় গত ১০টি নির্বাচনে ৯তেইটি রিপাবলিকানরা জিতেছে, এবার সমান-সমান। টেক্সাসে দুই প্রার্থীর ব্যবধান মাত্র ৫ শতাংশ। এ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে বাঘে-মহিষে লড়াই হবে?

বাণিজ্য ও মেডিকেয়ার প্রশ্নে ইতিমধ্যে বাইডেন-কমলা হ্যারিস মতপার্থক্য স্পষ্ট হচ্ছে।

অভিমত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন