নিউ নরমাল

করোনায় যেভাবে কাটালেন টনি দম্পতি

বিজ্ঞাপন
default-image

১৯৮৯ সালে ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে’ যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর অভিনয় জীবনের পথচলা শুরু হয়। ১৯৯৪ সালে টেলিভিশনের পর্দায় অভিষেক হয়। ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি চার শতাধিক নাটক, ধারাবাহিক আর টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া তিনি পৌষ মাসের পিরিত ও মেঘের কোলে রোদ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

তিনি নন্দিত অভিনেতা টনি ডায়েস। ভালোবেসে বিয়ে করেন প্রিয়া ডায়েসকে। ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন তারা। বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের এক সময়ের জনপ্রিয় মুখ টনি ডায়েস। অভিনেতা ও বাচিক এই শিল্পী ও তাঁর স্ত্রী প্রিয়া ডায়েস এক যুগ ধরে আমেরিকাপ্রবাসী।

টনি ডায়েস শোবিজ জগৎ থেকে অনেক দিন ধরে দুরে আছেন। ১৯৯৪ সাল থেকে নিয়মিতই কাজ করেছেন টেলিভিশনের পর্দায়। তার অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছিল। তেমনি প্রিয়া ডায়েসও নৃত্য আর গান দিয়ে সবার মনে জায়গা করে নিয়েছেন। করোনায় কেমন যাচ্ছে এই দম্পতির সময়, কীভাবে কাটালেন প্রবাসে লকডাউনের দিনগুলো। তাঁরা জানালেন, করোনার প্রভাব ঘরে-বাইরে সব জায়গায়, মানুষের জীবনকে কঠিন ও জটিল করে তুলেছে। লকডাউনে ঘরে বসে মানুষ শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে তাদের ক্ষেত্রে এই করোনাকে কিছুটা ইতিবাচকভাবে দেখছেন টনি ডায়েস। বলেন, করোনাকালে লকডাউনে ঘরে থেকে তিনি ও প্রিয়া একজন আরেকজনকে আরও বেশি সময় দিতে পেরেছেন। দুজন দুজনকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। অলস সময়ে জীবন চলার পথে একে অন্যের সুখ–দুঃখ ভাগাভাগির ফলে জীবন আরও সহজ হয়েছে। টনি বলেন, ‘আমরা সে অর্থে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি। অনলাইনভিত্তিক কাজের পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে। তারপরও বেশ ভালো সময় কেটেছে এবং আমাদের।’ এই অভিনেতা বললেন, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে অনলাইনে তাঁর নাচের ক্লাস শুরু হয়। ২০ জন ছাত্রীকে নিয়ে কয়েকটা গ্রুপে ভাগ করে তাদের অনলাইনে নাচের ক্লাস নেন। এ ছাড়া প্রিয়া অনলাইনে ট্রাভেল এজেন্টের কাজ করছেন।

ছোট পর্দার এই অভিনেতা নিউইয়র্কের হিলসাইড হোন্ডাতে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর অফিস দুই মাস পুরোপুরি বন্ধ ছিল। জীবনের ব্যস্ত সময়ের মধ্যে হঠাৎ এই অবসর সময় সবাইকে নিয়ে কাছাকাছি ঘরে থাকার সুযোগ পেয়ে ভালোই লেগেছে তাঁর লাগছিল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টনি–প্রিয়া দম্পতির একমাত্র মেয়ে অহনা কলেজের ডরমিটোরিতে থেকে পড়াশোনা করে। করোনার কারণে মেয়ে ও পরিবারের সঙ্গেই ছিল। সবকিছু মিলে করোনাকাল ভালোই কেটেছে এই পরিবারের।

এই দম্পতি জানায়, করোনার শুরু থেকেই তাঁরা খুব সচেতন ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশি কমিউনিটি এই ভাইরাসকে শুরুতে তেমন গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি বলে অনেকেই অকালে প্রাণ হারিয়েছে। করোনায় কিছু কাছের বন্ধু, আত্মীয়কে হারিয়ে মন এখনো ভীষণ অস্থির এই দম্পতির। তাদের সন্তানদের কথা ভেবে খুব কষ্ট পান তাঁরা। তাই সেই সময় কিছু সচেতনতামূলক পজিটিভ ভাবনা থেকে ভিডিও বানিয়েছেন। একটাই ইচ্ছে ছিল, যেন সবাই সচেতন হয়। টনি ডায়েস বলেন, ‘অফিস দুই মাস বন্ধ থাকলেও একটা দিনও সময় নষ্ট করিনি। কাজ করেছি পরিবারের জন্য। দেশের মানুষের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী তহবলি সংগ্রহ করেছি। সেই সঙ্গে সহকর্মীদের নিয়ে করোনা মহামারি নিয়ে সহস্র সুমনের লেখা কবিতা ‘এই যাত্রায় বেঁচে গেলে’ ভিডিওচিত্র তৈরি করেছি। চেষ্টা করেছি পরিবার, সহকর্মীদের নিয়ে এই দুঃসময়ে একে অন্যের শক্তি হয়ে থাকতে।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রিয়া ডায়েস অনলাইনে অফিস করার পাশাপাশি অনলাইনে নানা প্রোগ্রাম করেছেন। নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে কবিতা, গান আর নাচের ভিডিও তৈরি করে নিজেদের মতো সংস্কৃতি চর্চা করেছেন। লকডাউনে যেন কেউ বিরক্ত না হয়, তাই বাসার ব্যাকইয়ার্ডে চড়ুইভাতি, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা করে নিজেদের তরতাজা রাখার চেষ্টা করেছেন। প্রিয়া রান্না করলে টনি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার কাজে সাহায্য করেছেন।

চার শতাধিক খণ্ড নাটক, ধারাবাহিক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া ‘মেঘের কোলে রোদ’সহ বেশ কয়েকটি প্রশংসিত চলচ্চিত্রেও দেখা গেছে তাকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন