default-image

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি, গাড়ি, ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ইত্যাদি কিস্তি কিংবা লোনে কেনার জন্য ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকা খুবই জরুরি। করোনা মহামারির এই সময় অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার কারণে অনেকে ক্রেডিট কার্ডের অর্থ সময়মতো পরিশোধ করতে সক্ষম হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। ধারণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গড় ক্রেডিট স্কোর কমে আসবে। কিন্তু জনপ্রিয় একটি ক্রেডিট স্কোরিং সংস্থার তথ্যমতে, করোনা মহামারির সময়েও জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গড় ফিকো ক্রেডিট স্কোর ছিল ৭১১।

করোনা মহামারির সময়ে লাখ লাখ মার্কিন যখন কাজ হারিয়ে অলস বসে আছেন, তখন অনেকেই বকেয়া বিল ও ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। এমতাবস্থায় গড় ক্রেডিট স্কোর বাড়ায় বিশেষজ্ঞরা আশ্চর্যান্বিতই হয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী ফিকো স্কোর গবেষণা ও বিশ্লেষণমূলক বিকাশের নেতৃত্বদানকারী ইথান ডারনহেলম বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে দেখবেন, এক বা দুটি পেমেন্ট মিস করলেও ফিকো স্কোর খুব দ্রুত বদলে যায় না।’ তিনি আরও বলেন, ফিকো স্কোর দিয়ে একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বোঝার কোন উপায় নেই।

বিজ্ঞাপন

২০০৮ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে মহামন্দার সময় গড় ক্রেডিট স্কোর তলানিতে যায়নি। কিন্তু সময় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ২০০৯ সালের শেষের দিকে এর প্রভাব অনুধাবন করা যায়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েক মাস অনেকেই বকেয়া বিল পরিশোধ করতে পারেনি বলে গড় ক্রেডিট স্কোর কমতে থাকে।

ডারনহেলম মনে করেন যে করোনা মহামারির সময়ে প্রাপ্ত বেকারভাতা, স্টিমুলাস চেকের ফলে অনেকেই তাদের বকেয়া বিল পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছেন, যার ফলে ২০০৮ সালের মহামন্দার মত এবারে ক্রেডিট স্কোরের ওপর এত প্রভাব পড়বে না। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ে মাত্র ৭.৩ শতাংশ মার্কিন তাদের ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বিল পরিশোধ করতে সক্ষম হয়নি। জানুয়ারি মাসে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৮.১ শতাংশ। ক্রেডিট স্কোর গণনার সময় ৩৫ শতাংশ নির্ভর করে সময়মতো বিল পরিশোধ করার ওপর। এটিও জুলাই মাসে গড় ক্রেডিট স্কোর বাড়ার অন্যতম কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার কিছুটা কমে আসলেও এখনো স্থিতিশীল হয়নি। আরেকটি স্টিমুলাস চেকের বিল পাশ হবে কিনা, এর নিশ্চয়তাও নেই। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে গড় ক্রেডিট স্কোর কোনদিকে যাবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

মন্তব্য পড়ুন 0