বিজ্ঞাপন

এ দুটি মিউটেশন কিন্তু নতুন নয়। অনেক আগেই অন্য ভেরিয়েন্টের মধ্যে এগুলোর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। যেমন L452R নামের মিউটেশনটি প্রথম দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভেরিয়েন্টে (বি.১. ৪২৭/বি.১. ৪২৯)। গত বছরের ডিসেম্বরের দিকে সানফ্রান্সিসকোতে এই ধরনটি দ্রুত ছড়িয়েছিল। সংগৃহীত উপাত্ত থেকে জানা যায়, L452R মিউটেশনের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার ধরনটির সংক্রমণ সক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

এর আগে আরও দুটি ধরন—আফ্রিকান (বি.১. ৩৫১) ও ব্রাজিলিয়ান (পি.১) ধরনের স্পাইক প্রোটিনে পাওয়া যায় E484k নামের একটি মিউটেশন। যাকে বলা হয় ‘এস্কেপ মিউটেসন’। এই E484k মিউটেশনের খুব কাছাকাছি প্রকৃতির একটা মিউটেশন দেখা যাচ্ছে ভারতীয় ধরনে। এর নাম দেওয়া হয়েছে E484 Q; আশঙ্কা করা হচ্ছে যে এই মিউটেশন ব্রাজিলিয়ান এবং আফ্রিকান ধরনের মতোই প্রাকৃতিক উপায়ে লব্ধ ইমিউনিটিকে এড়িয়ে যেতে সক্ষম। ভারতীয় ধরনটি L452R মিউটেশনের মাধ্যমে অধিক সংক্রমণে সক্ষম, আর E484Q মিউটেশনের মাধ্যমে আংশিকভাবে হলেও প্রাকৃতিক ইমিউনিটিকে এড়িয়ে যেতে সক্ষম। এই দুই মিউটেশনের সহাবস্থানের জন্যই ভারতীয় ধরনকে এখন ‘ডাবল মিউটেন্ট’ ধরন বলা হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যথাযথ মাস্ক ব্যবহার না করে নির্বাচনী প্রচারের মতো বিশাল জনসমাগমের আয়োজন। বিজ্ঞানীদের মতে, এসব কারণেই ভারতের বর্তমান ভয়াবহ অবস্থা।

গত ডিসেম্বরের জরিপে দেখা যায়, তখন পর্যন্ত ভারতের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের অ্যান্টিবডি রয়েছে। পরে ২১টি রাজ্যের ডেটা নিয়ে মডেলিং স্টাডিতে দেখানো হয়েছিল, ভারত হয়তো শিগগির হার্ড ইমিউনিটির কাছাকাছি পৌঁছাবে। সরকার থেকেও করোনা রোধে স্বস্তি প্রকাশ করা হচ্ছিল। অথচ এর তিন মাস পরেই বি.১. ৬১৭ নামের নতুন ধরন শনাক্তের সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে এল। প্রায় একই ঘটনা ঘটেছিল ব্রাজিলেও।

এর অর্থ, প্রাকৃতিক উপায়ে অর্জিত অ্যান্টিবডি নতুন ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর নয়। তবে টিকার মাধ্যমে অর্জিত ইমিউনিটির ক্ষেত্রে এই কথাটা এখনো বলা হচ্ছে না। প্রায় সবগুলো টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানই বলছে, এ পর্যন্ত জানা সবগুলো ধরনের বিরুদ্ধেই তাদের টিকা কাজ করবে। এই নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ এখনো চলছে।

আরেকটি বিষয় হলো, নতুন ধরনগুলো দ্রুত ছড়ালেও মৃত্যুহার আগের মতোই। এর মানে হচ্ছে, যদি আমরা টিকা নিই এবং মাস্ক ব্যবহার অব্যাহত রাখি তাহলে চিন্তার তেমন কোনো কারণ নেই। টিকা নেওয়া ও মাস্ক ব্যবহার করলেও কেউ করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন। কিন্তু রোগের বিস্তার তেমন হবে না।

মূল কথা হলো—পাশের দেশের ভারতীয় ধরন যতই বিপজ্জনক হোক না কেন, আমরা একে প্রতিহত করতে পারব যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে। যেমন—সীমান্তে চলাচল রোধ করতে হবে। সীমান্তে অন্তত দুই মাসের জন্য কারফিউ দেওয়া উচিত। যারা ভারত থেকে আসবেন তাদের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করতেই হবে।

সারা দেশে দোকানপাট যানবাহন খোলা থাকুক, কিন্তু মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক এবং এই বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। যানবাহন-দোকানে-রেস্তোরাঁয় ধারণ ক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশের বেশি লোক সমাগমের অনুমতি দেওয়া যাবে না।

সভা-সমাবেশ ও বিয়ের অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের জমায়েত অন্তত তিন মাসের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

যত দ্রুত সম্ভব, অন্তত শহরগুলোতে হার্ড ইমিউনিটির লক্ষ্যে টিকাদান প্রকল্পকে প্রসারিত করতে হবে।

করোনার কাজ করোনা চালিয়ে যাবে। আমরাও আমাদের প্রতিরোধ-প্রতিরক্ষার কাজ চালিয়ে যাব। এতে জয় আমাদেরই হবে। জয় হবে মানুষের, জয় হবে মানুষের সুবুদ্ধির।

অভিমত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন