default-image

বৈশ্বিক মহামারি করোনা এখনো চলছে। করোনার কারণে সারা বিশ্বে অনেক ব্যক্তির ব্যবসায় ধস নেমেছে। আবার অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অপ্রত্যাশিত লাভের মুখও দেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে এবার আয়কর দাখিল করতে হবে। আর আয়কর দাখিলে বাংলাদেশি কর দাতাসহ অন্যদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেজ্ঞরা। অন্যথায় আইআরএসের তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে যেকোনো আয়কর দাতাকে, যেটি কোনাভাবেই কাম্য নয়।

এবার রিকভারি রেবিট ক্রেডিট আপডেট করতে আয়কর দাখিলের কাজ দেরিতে শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আয়কর দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে ২০২০ সালে বেশির ভাগ মানুষ বেকার ভাতা নিয়েছেন। ব্যবসার কাজে নিয়েছেন পিপিপি ঋণ ও ৩০ বছর মেয়াদি এসবিএ ঋণ। এ ছাড়া ১০ হাজার ডলার করে ডিজাস্টার ঋণ গ্রহণ করেছেন অনেকে। এসব বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে আয়কর দাখিল করতে হবে। তবে, প্রণোদনা থেকে পাওয়া অর্থের কোনো আয়কর দিতে হবে না। যারা সেলফ এমপ্লয়ি ও ট্যাক্সি ক্যাবচালকদের খরচের রসিদ যত্ন করে রাখতে হবে। কারণ রসিদ ছাড়া আয়কর দাখিল করতে আসলে আইআরএসের ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।

বিদেশ বিভুঁইয়ে আমরা যেন কেউ ভুল তথ্য দিয়ে আয়কর দাখিল না করি। এতে অডিট বা নিরীক্ষার ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। আয়কর দাখিলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় নথিপতত্র সরবরাহ করতে হবে। এবার যারা প্রণোদনার ডলার পাননি, তাঁরা আয়কর দাখিলের সময় রিকভারি রিবেট ক্রেডিট হিসেবে আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

২০২০ সালে আর্নড ইনকাম ক্রেডিট বেড়েছে। গত বছর এক সন্তানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আর্নড ইনকাম ক্রেডিট ছিল ৩ হাজার ৫২৬ ডলার। আর এবার এক সন্তানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আর্নড ইনকাম ক্রেডিট দেওয়া হবে ৩ হাজার ৫৮৪ ডলার। তিন বা ততোধিক সন্তানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আর্নড ইনকাম ক্রেডিট দেওয়া হবে ৬ হাজার ৬৬০ ডলার। আর্নড ইনকাম ক্রেডিটের ক্ষেত্রে সন্তানের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছর হলে অবশ্যই পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হতে হবে। অন্যথায় আর্নড ইনকাম ক্রেডিট পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে না। এবার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। এ বিষয়টিও সবাইকে মাথায় রাখতে হবে।

করোনাকালে যারা প্রণোদনার চেক পাননি, তাঁরা আয়কর দাখিলের সময় অভিযোগ জানালে যোগ্য বিবেচিত হওয়া সাপেক্ষে তা রিফান্ড পেতে পারেন—এই বিষয়েও খেয়াল রাখা জরুরি। এ ছাড়া যাদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নেই, মার্কেট প্লেস হেলথ ইনস্যুরেন্সের জন্য তাদের ১০৯৫-এ ফরম পূরণ করতে হবে। আর আয়কর দাখিলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে। তাহলে অযথা কাউকে নিরীক্ষার ঝামেলায় পড়তে হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য আয়কর দাখিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে। কেউ অবসরে গেলে তিনি রাষ্ট্রীয় সুযোগ–সুবিধা কী পরিমাণ পাবেন, কীভাবে পাবেন, সেটি আয়কর দাখিলের ওপর অনেকটা নির্ভর করে। অবসর জীবনে রাষ্ট্র থেকে ভালো পেনশন পেতে হলে আয়কর দাখিল স্বচ্ছ এবং নির্ভুল হতে হবে। কোনো ধরনের আয়কর ফাঁকি বা অস্বচ্ছতা থাকলে তা যেকোনো সময় তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে। সুতরাং হয়রানি এবং আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচতে সঠিকভাবে আয়কর দাখিলের বিকল্প নেই।

অভিমত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন