বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে তালেবানরা উৎসবে মেতে ওঠে, তারা এটি ‘ঐতিহাসিক ক্ষণ’ এবং ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন সেনা নেই, এখন দেখা যাবে তালেবানের আসল চেহারা। কাবুলে এখনো কোনো সরকার নেই, দ্রুত সরকার গঠন করতে না পারলে তালেবানের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেবে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে তালেবানের এ বিজয় ‘মলিন’ হতে বেশি সময় লাগবে না। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা ইতিমধ্যে মিডিয়ায় এসেছে। ক্ষমতার কাছাকাছি দুই গ্রুপ, স্বদেশি জঙ্গি তালেবান এবং বিদেশ, বিশেষত কাতার থেকে আগত গ্রুপ। দেখা যাক কী হয়।

কী ঘটবে আফগানিস্তানে? উত্তর এই মুহূর্তে সবার অজানা। এর আগে কাবুল বিমানবন্দরে হামলার দায় আইসিস স্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউস বলেছে, আমরা ভুলব না, ক্ষমা করব না, প্রতিশোধ নেব। কিছুটা প্রতিশোধ নিয়েছে, ড্রোন হামলায় দুই জঙ্গি নিহত হয়েছেন, গোলাবারুদ বোঝাই একটি ট্রাক ধ্বংস করেছে। তাতে কী কাজ হবে?

বাইডেন প্রশাসন চাপে আছে। বাইডেনের সমর্থন এখন ৪০ শতাংশের নিচে। যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে এসেছে, তালেবানের বীরত্ব এখন ‘নিরীহ আফগান ও নারীর’ ওপর প্রদর্শিত হবে?

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল এইচ আর ম্যাকমাস্টার বলেছেন, ‘সবে তো শুরু’। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা নজর রাখছে।

তালেবান মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ার ধ্বংসে বিন-লাদেন জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ নেই। এতে কি কিছু বোঝা যায়? লক্ষণীয় যে, তালেবান কাবুল বিমানবন্দরে বোমা-বিস্ফোরণকে ‘সন্ত্রাসী আক্রমণ’ বলে মন্তব্য করেছে।

default-image

পাকিস্তান তালেবান উত্থানে উৎফুল্ল। ইমরান খানের ক্ষমতাসীন পার্টির নেত্রী নিলম বলেছেন, তালেবানরা কাশ্মীর ছিনিয়ে এনে আমাদের দেবে। তিনি আরও বলেন, ভারত পাকিস্তানকে দুই টুকরো করেছিল, আবার তা জোড়া লাগবে। তাঁর এ বক্তব্যের নিন্দা করি ও প্রতিবাদ জানাই।

কাবুল বিমানবন্দরে নিহতদের মধ্যে নাকি ২৮ জন তালেবান। প্রশ্ন হচ্ছে, আমেরিকা ও উন্নত বিশ্ব এবং ভারত ‘মানবিক কারণে’ যত আফগানকে শরণার্থী হিসেবে নিজ দেশে আশ্রয় দিচ্ছে, তাদের মধ্যে কি তালেবান নেই? রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন কিন্তু জানিয়ে দিয়েছেন, শরণার্থীর আড়ালে জঙ্গি থাকতে পারে, তাই তাঁরা আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেবে না।

অভিমত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন