বাংলায় একটা কথা আছে—প্রতিপক্ষের নরম স্থান বেছে আঘাত করতে হয়। কথাটি সামনে এল মার্কিন প্রশাসনের অভিবাসন বিভাগের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণে।

যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসনবিরোধী নানা পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়। এ ধারায় এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসনবিরোধী নানা পদক্ষেপের কথা বলেছেন। ক্ষমতায় আসার পর তিনি সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে নামেন। এর পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে ছয় মুসলিম দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষেধ করে নির্বাহী আদেশ থেকে শুরু করে সীমান্তে অভিবাসী শিশুদের তাদের পরিবার থেকে আলাদা করার নীতি সামনে আসতে থাকে। বাড়তে থাকে অভিবাসন পুলিশের তৎপরতা। এখন এই করোনাকালে এই অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

করোনাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আক্ষরিক অর্থে বন্ধ হয়ে যায়। সংক্রামক রোগের মহামারি ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে অভিবাসন বিভাগের আয় যায় কমে। কারণ, অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদনের ফি-ই হচ্ছে এ বিভাগের আয়ের অন্যতম উৎস।

বিজ্ঞাপন

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন অভিবাসন বিভাগ ব্যয় সংকোচনের নীতি নেয়। এরই অংশ হিসেবে গত মে মাসে ১৩ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগটি। পরে কংগ্রেসে উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার মুখে সে অবস্থান থেকে সরে আসে অভিবাসন বিভাগ। কিন্তু একই সঙ্গে নেয় বিভিন্ন অভিবাসন আবেদনের ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত। যুক্তি, এই দুর্যোগকালে এ ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই। নিজের কর্মীদের বহাল রাখতে হলে ফি বাড়াতেই হবে।

এই ফি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অভিবাসন বিভাগ ফি হ্রাসের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন শর্তকে আরও কঠোর করে। ফুড স্ট্যাম্পের মতো সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেন—এমন ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের জন্য ফি কমানোর আবেদন করাটা এখন দুরূহ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ফি হ্রাসের যোগ্যতা হিসেবে যে আয়সীমা, তাও কমানো হয়েছে। ফলে করোনাকালে এমনিতেই আর্থিক সংকটে পড়া অভিবাসীরা পড়েছেন বিপাকে। উচ্চ ফি দিয়ে তাঁরা আবেদন করতে পারছেন না। আবার ফি কমানোর আবেদনও করতে পারছেন না অধিকাংশই।

কোভিড-১৯ মহামারিতে পুরো যুক্তরাষ্ট্রই বিপর্যস্ত। অর্থনৈতিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। কাজ হারিয়েছে অগণিত মানুষ। কাজ হারানো মানুষের দলে অভিবাসীদের সংখ্যাই বেশি। ফলে এই সময়ে বর্ধিত ফি দিয়ে তাদের পক্ষে নাগরিকত্ব বা গ্রিনকার্ডের আবেদন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি প্রশাসনও বোঝে। কিন্তু তারা একে গুরুত্ব দিচ্ছে না। বরং এমনিতেই নাজুক জনগোষ্ঠী অভিবাসীদের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

বিজ্ঞাপন

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন করোনার অজুহাতে অভিবাসীদের ওপর খড়্গহস্ত হয়েছে। এই ভয়াবহ দুঃসময়ে তারা অভিবাসীদের নরম ও নাজুক স্থানটিতে হাত দিচ্ছে। যুক্তি খাড়া—করোনার সময় একটু মানিয়ে চলতে হবে। কিন্তু এটি চলতে পারে না। অভিবাসীদের এই দুঃসময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে অভিবাসী জনগোষ্ঠীকেই। এখন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন অভিবাসী গোষ্ঠীর অনেকেই মূলধারার রাজনীতি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সংযোগ রয়েছে স্থানীয় রাজনীতিকদের সঙ্গেও। এই সংযোগ ও কমিউনিটির শক্তিকেই এ ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে। নিজেদের ন্যায্য দাবি উপস্থাপন করতে হবে, যাতে এই অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে এমন চতুর্মুখী কঠোর নীতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসন অভিবাসীদের আরও প্রান্তে ঠেলে না দেয়।

অভিমত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন