default-image

বাংলাদেশ ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে পদার্পণ করছে। চলছে সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্যাপনের প্রস্তুতি। একই বছর মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ৩০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী।

সম্প্রতি মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিষদের এক সভায় বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও একুশ পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নূরুন নবীকে ৩০ তম বইমেলার আহ্বায়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়নে স্নাতক শেষ করে জাপানের কিয়ুশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মলিকিউলার বায়োলজিতে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা করেন। কোলগেট টোটালের অন্যতম আবিষ্কারক ড. নুরুন নবী দীর্ঘদিন কোলগেট কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর রয়েছে ৫০ টির বেশি পেটেন্ট।

১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে নুরুন নবী যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়া ছাড়াও তিনি ছিলেন যুদ্ধ পরিকল্পনাকারী ও বার্তাবাহক। মুক্তিযুদ্ধে দুঃসাহসী ভূমিকা রাখার জন্য নুরুন নবীকে টাঙ্গাইলে মুক্তিবাহিনীর ‘দ্য ব্রেইন’ আখ্যা দেয় ‘ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ সাময়িকীর ১৯৭২ সালের ৬ মে সংখ্যায়। একাত্তরের দুঃসাহসী এই মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে দুঃসাহসিক অভিযান নিয়ে লিখেছেন ‘বুলেটস অফ ৭১ ’এবং ‘আ ফ্রিডম ফাইটার’স স্টোরি’ নামে একটি গ্রন্থ।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া নুরুন নবী মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা ইতিহাসকে তুলে ধরে রচনা করেছেন আরও দশটি বই। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি তাঁকে ২০১৭ সালে সম্মানসূচক ‘ফেলোশিপ’ দেয়। ২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

ড. নবী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির প্লেন্সবরো টাউনশিপ কমিটির কাউন্সিলম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পরপর চারবার এই পদে নির্বাচিত হন।

৩০ তম বইমেলার আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করে ড. নবী বাংলাদেশের স্বাধীনতার আসন্ন মাইল ফলক যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কোভিড-১৯–এর কারণে ৩০ তম মেলার তারিখ এখনো ঠিক করা হয়নি। মুক্তধারা আশা করছে, একুশ সালের গ্রীষ্মের প্রারম্ভে কোভিড সংকট দূর হলে, এই মেলা শ্রোতা-দর্শকের উপস্থিতিতে উদ্যাপন সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে মুক্তধারার পরবর্তী পরিকল্পনা জানতে সংস্থার ওয়েবসাইট www.nyboimela.org এই ওয়েবসাইটে নজর রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন