বিজ্ঞাপন

রেড লাইটের সিগন্যাল অমান্য করে ছুটে যাওয়া প্রাইভেট কারের ধাক্কায় বরকতের ছিটকে পড়ায় ঝরে গেছে তাঁর সোনালি ভবিষ্যৎ গড়ার এক যূথবদ্ধ স্বপ্ন। যে স্বপ্নের সারথি ছিলেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার দেউটি ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ বাবা-মা ও ভাই-বোনেরা।

১১ জুলাই সন্ধ্যায় ম্যানহাটন ডাউন টাউনের আসসাফা ইসলামিক সেন্টারে বরকতের জানাজায় অংশ নেন বিপুলসংখ্যক তরুণ-যুবক। যাদের অধিকাংশই নিউইয়র্ক নগরে ক্রমবর্ধমান স্বাধীন পেশা ফুড ডেলিভারির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তিন বছর আগে নিউইয়র্কে আসার পর থেকে কাজের পাশাপাশি কমিউনিটিতে খেলাধুলা থেকে শুরু করে নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডে থাকলেও কাজ এবং আড্ডায় বেশির ভাগ সময় ব্যয় করতেন ম্যানহাটনের ডাউন টাউনে। আসসাফা মসজিদের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। জানাজা পূর্ব আলোচনায় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির কণ্ঠে সেটাই উচ্চারিত হয়েছে।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ ইন্‌ক-এর সভাপতি নাজমুল হাসান, বৃহত্তর বেগমগঞ্জ সোসাইটির সভাপতি গোলাম সারোয়ার, বরকতের ভাই ফয়েজ উল্যাহ, আসসাফা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুলতান আহমেদ, বরকতের চাচাতো ভাই মোরশেদ আলম, আহসান মামুন, এনওয়াইপিডির দুই কর্মকর্তা এবং বরকতের বন্ধু-সহকর্মী রুবেল। দোয়া পরিচালনা এবং জানাজায় ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম মাওলানা রফিক আহমেদ।

আহসান মামুন বলেন, ৮ জুলাই বিকেলে বৃষ্টি ছিল। এর মধ্যে বরকত বাসা থেকে বের হতে চাইলে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, কোথায় যাবে? উত্তরে বলেছিল, ‘মন ভালো নেই ভাই, কাজ করব না। একটু ম্যানহাটন থেকে ঘুরে চলে আসব।’ সেই ছিল তাঁর শেষ যাওয়া, আর বাসায় ফেরা হয়নি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবর পাই আমরা।

জানাজার পর শোকার্ত মানুষ যখন শেষবারের মতো কফিনে বরকত উল্যাহ মুন্নাকে এক নজর দেখছিলেন, তখন বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছিলেন তাঁর বড় ভাই ফয়েজ উল্যাহ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কেন তাঁর আগে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল প্রিয় ছোট ভাই। ছোট ভাইয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করেন তিনি।

স্বজনেরা জানান, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার দেউটি ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের মালের বাড়ির জালাল আহম্মদের দুই ছেলে দুই মেয়ে। বরকত ছেলেদের মধ্যে ছোট। তিন বছর আগে সহায় সম্বল বিক্রি-বন্ধক রেখে স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। দ্রুতগামী গাড়ির চাপায় তাঁর স্বপ্নের করুণ সমাপ্তি ঘটে।

১২ জুলাই রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে নবগ্রাম মসজিদের কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন