যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম একটি ইস্যু সুপ্রিম কোর্টের নতুন বিচারক নিয়োগ। তাই সহিংসতার আশঙ্কায় আগে থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ৩৫ হাজার ইউনিফর্ম অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, নিউইয়র্ক নগরসহ সারা দেশে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরে গত জুলাই থেকে পুলিশ বিভাগ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করে। ২৫ মে মিনিয়াপোলিস পুলিশের হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েড নামে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার নামে আন্দোলন শুরু হয়। এনওয়াইপিডির ডেপুটি চিফ স্যামুয়েল রাইট বলেন, ১৯৯০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত এনওয়াইপিডিতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় তেমন কোন উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এনওয়াইপিডি কুইন্সের কলেজ পয়েন্টে অবস্থিত পুলিশ একাডেমিতে এ পর্যন্ত প্রায় আট হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আর বাকিদের নভেম্বরের মধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ডেপুটি চিফ রাইট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে এ জাতীয় বিক্ষোভের সম্মুখীন হইনি। আমরা দেখেছি, আমাদের অফিসারদের সঙ্গে যথাযথ পুলিশি কৌশল ও পদ্ধতিগুলো পর্যালোচনা করা দরকার। কারণ, এটি বিক্ষোভ ও বিশাল বিক্ষুব্ধ জনতাকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে খুবই জরুরি।’

বিজ্ঞাপন

ন্যাশনাল পুলিশ সেন্টার ফর ম্যাস ভায়োলেন্স রেসপন্স স্টাডিজের পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাব বলেন, এই গ্রীষ্মে আমেরিকার শহরগুলোতে পুলিশ বিভাগকে ব্যাপক বিক্ষোভ মোকাবিলার পরীক্ষা দিতে হয়েছে, যা তাদের কৌশলগত দক্ষতাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কিছু সহিংস সংঘর্ষ হয়েছিল, যা কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্ম দিয়েছিল। এর ফলে পুলিশের কৌশল পর্যালোচনা আরও জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফ্র্যাঙ্ক আরও বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রগুলোতে আমরা অফিসারদের মোতায়েনে সম্ভাব্য অপারেশনাল পরিকল্পনা তৈরি করছি। একই সঙ্গে আমরা কীভাবে একাধিক বিক্ষোভ সমাবেশ মোকাবিলা করব, তার কৌশলও রপ্ত করছি।’ নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত কিছু কর্মকর্তা ও ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনকারীরা এই গ্রীষ্মের বিক্ষোভগুলোতে এনওয়াইপিডির সমালোচনা করেছে। তারা পুলিশি বর্বরতার অবসান ঘটাতে ও পুলিশ বিভাগগুলোর আর্থিক বাজেট কমিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জুনের পর থেকে এনওয়াইপিডি অফিসাররা কয়েক শ বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করেছে, যারা বিক্ষোভের সময় সহিংসতা ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিক্ষোভকারী কখনো কখনো পুলিশ কর্মকর্তা ও পথচারীদেরও আহত করেছিল।

নিউইয়র্ক সিটির প্রতিবাদী সংগঠক ও তরুণ নেতৃত্বাধীন নাগরিক অধিকার সংগঠন ফ্রিডম মার্চ এনওয়াইসির সহপ্রতিষ্ঠাতা চেলসি মিলার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের নিরস্ত্র করতে এনওয়াইপিডি এই গ্রীষ্মে অতিমাত্রায় বলপ্রয়োগের কৌশল ব্যবহার করেছে।

অন্যদিকে এনওয়াইপিডি কর্মকর্তারা বলছেন, বিভাগটি বাক্স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সমর্থন করে। সাবেক এনওয়াইপিডি সোয়াট তত্ত্বাবধায়ক ও জন জে কলেজ অফ ক্রিমিনাল জাস্টিসের সহযোগী অধ্যাপক কিথ টেইলর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রয়াত বিচারকের পদ পূরণ করার জন্য ভোট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প হেরে গেলে কিছু ডানপন্থী উগ্রবাদী সহিংসতা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশের দায়িত্ব জনগণকে উগ্রবাদী এসব জনগণের হাত থেকে রক্ষা করা। এনওয়াইপিডির দুদিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ১৫০-২০০ পুলিশ কর্মকর্তাকে কীভাবে বিক্ষোভ সমাবেশে জনতাকে মোকাবিলা করবে, সে বিষয়ে আড়াই ঘণ্টা করে শ্রেণিকক্ষে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ডেপুটি চিফ রাইট বলেন, কীভাবে বড় বিক্ষোভ সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সম্ভাব্য সহিংস পরিস্থিতি ও বিক্ষুব্ধ মানুষকে কীভাবে চিহ্নিত করা যায়, তার কৌশল কর্মকর্তাদের শেখানো হচ্ছে। প্রতিকূল জনতার মুখোমুখি হওয়ার সময় কী ধরনের মানসিক শক্তি দরকার, কীভাবে শান্ত থাকতে হয়, সে সব উপায় বাতলে দেওয়া দেওয়া হচ্ছে এই প্রশিক্ষণে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0