default-image

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের তারিখ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সহিংসতার আশঙ্কা। বড় বড় নগরীতে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে। দোকানের শেলফ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে রাখা হচ্ছে। নগরীগুলোর পুলিশ বিভাগ আগে থেকেই সহিংসতা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছে।

নির্বাচনের আগের সপ্তাহান্ত চলছে। ৩০ অক্টোবর নিউইয়র্ক নগরীর ম্যানহাটন ঘুরে দেখা গেছে, মেসিসসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে কাঠ দিয়ে বেষ্টনী দেওয়া হচ্ছে। ম্যানহাটনের মধ্যভাগ থেকে দক্ষিণে বিপুলসংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে লুটপাটের শিকার হয়েছে। এবার নির্বাচনের দিন বিকেল থেকেই নগরীতে উভয় পক্ষের সংঘবদ্ধ উপস্থিতির তথ্য রয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশের কাছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

ট্রাম্পবিরোধী মানুষের পাশাপাশি ট্রাম্প সমর্থকেরাও মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তথ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে এমন সহিংসতার আগাম আশঙ্কা আর কখনো করা হয়নি। এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া নাগরিক আন্দোলনের লোকজন কার্যত এখনো মাঠে। প্রতি সপ্তাহান্তেই বর্ণবাদ-বিরোধী, পুলিশি নৃশংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলমান আছে। এসব বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ সমর্থক ছাড়াও উদারনৈতিক নাগরিক আন্দোলনের নানা সংগঠন জড়িয়ে আছে।

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা দেওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে নিউইয়র্কের পুলিশ প্রধান আগেই জানিয়েছেন। আন্দোলনের সময় ঘাপটি মেরে থাকা লুটপাটকারীদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই নগরীগুলো আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। এ নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত ট্রাম্প টাওয়ার সম্ভাব্য হামলার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টাইমস স্কয়ার সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রধান নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া নগরী, শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি, মেনিয়াপোলিস ও সিয়াটলসহ আন্দোলনের জন্য প্রসিদ্ধ নগরীগুলোও সহিংসতা মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে।

default-image

ট্রাম্প সমর্থকদের সঙ্গে অন্যান্যদের সংঘর্ষ ও সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কোনো কারণে নির্বাচন নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে, পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে উঠতে পারে। ম্যানহাটন থেকে বেশ কিছু আবাসিক লোকজনকে নগরী ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ৩ নভেম্বরের পর নগরীতে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন আতঙ্কিত লোকজন।

লুটপাটের জন্য দামি ব্র্যান্ডের দোকান ও ইলেকট্রনিক দোকানগুলোকে টার্গেট করা হয়ে থাকে। নিউইয়র্ক নগরীর পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই ব্যবসায়ীরা কাঠ দিয়ে দোকান রক্ষার প্রয়াস নিচ্ছেন। কাচের দরজা, জানালা সবকিছু কাঠ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচনের পর বিভিন্ন গ্রুপের দীর্ঘস্থায়ী বিক্ষোভ সমাবেশ হবে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। যখন দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন বলে নিশ্চয়তা দেননি, তখন এমন সহিংসতার আশঙ্কা করার জোরালো কারণ রয়েছে।

যেকোনো সহিংসতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন নিউইয়র্কের পুলিশের কমিশনার ডারমট শিয়া।

শান্তিপূর্ণ কোনো বিক্ষোভ সমাবেশে বাধা দেওয়া হবে না। তবে সহিংসতার যেকোনো উদ্যোগ সঙ্গে সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে বলে জানিয়েছেন নগর কর্মকর্তারা।

মন্তব্য পড়ুন 0