প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন কর্ম আদর্শ ও দেশাত্মবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে গঠিত হয়েছে ‘জিয়াউর রহমান স্টাডি সার্কেল নিউইয়র্ক’। সংগঠন আত্মপ্রকাশ করতে না করতে অনুষ্ঠান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির নেতা–কর্মীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি ও দলাদলি চলছে। সংগঠনের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান করার আগে কয়েক দফা বক্তা পরিবর্তন হয়। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তাই বক্তব্য দিতে পারেননি। আবার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় ৩০ জানুয়ারি আরেকপক্ষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করে পোস্টার ছাপিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা দাবিদার ও যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন অভিযোগ করেন, ‘আমরা এই অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করার জন্য এক মাস ধরে পরিশ্রম করেছি। অথচ আমি নিজেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে পারিনি।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানের বক্তা অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে ষড়যন্ত্র করে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই অনুষ্ঠান করার আগে সংগঠনের নাম দেওয়া হয় ‘জিয়াউর রহমান গবেষণা পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র শাখা’। পরে অনুষ্ঠানের নাম বদলে যায়, নাম দেওয়া হয় ‘জিয়াউর রহমান স্টাডি সার্কেল নিউইয়র্ক’। অনুষ্ঠানটি বিএনপি ঘরানার পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের অতিথি করে সাজানো হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কারও নাম অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোস্টার ছাপানো হয়। এতে আলোচক ছিলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমেদ, ইতিহাস, সমাজ ও রাজনৈতিক পর্যালোচক তাজ হাসমী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য মাহবুব উল্লাহ, কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী আবিদ বাহার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি ইলিয়াস খান, সাংবাদিক মাঈনুদ্দিন, ভাসানী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম শিকদার।

অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে অতিথি হিসেবে যাঁদের নাম ছিল তাঁরা হলেন রুহুল কবির রিজভী, আনোয়ার হোসেন, সুলতান সালাহ উদ্দিন, রিটা রহমান, কাজী কামরুল ইসলাম ও ইশরাক হোসেন।

অভিযোগ উঠেছে, কিছুদিন পর অদৃশ্য ইঙ্গিতে পোস্টারে যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির নেতাদের নাম সংযুক্ত করা হয়। এঁরা হলেন—যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ও মিজানুর রহমান ভূঁইয়া। এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মূলধারার রাজনীতিবিদ গিয়াস আহমেদ, প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরীকে।

বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান ও মিজানুর রহমানের পোস্টার ছাপানোর পর শুরু হয় কাদা ছোড়াছুড়ি ও গ্রুপিং। পরবর্তী পোস্টারে অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক যুবদলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরীর নাম ছাড়াই অন্য আরেকটি পোস্টার ছাড়া হয়।

আরেক পক্ষ অনুষ্ঠানের সভাপতি গিয়াস আহমেদ ও সঞ্চালক মো. কাসেমের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে বিএনপির ব্যানারে পোস্টার ছাপানোর পর অনুষ্ঠান ঘনিয়ে আসলে বক্তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র শাখা বিএনপির কয়েক ডজন নেতার নাম যুক্ত করে আরও একটি পোস্টার প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা ও কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়।

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত তারিখের আগে নানা বির্তক ও পক্ষ–বিপক্ষ হয়ে গেলে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অনেক বক্তাই যোগ দেননি। এ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা শরাফত হোসেন বলেন, ‘একটি অনুষ্ঠানের আটবার পোস্টার ছাপানো হয়েছে। অনুষ্ঠানের একজন উদ্যোক্তা আওয়ামী ঘরানার মানুষ হিসেবে আমাদের কাছে প্রমাণ আছে। তাই এই ধরনের অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।’

অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক থেকে বাদ পড়া যুবদল সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী বলেন, ‘অনুষ্ঠানের সঞ্চালক কাশেম আমাকে সমন্বয়ক বানিয়েছিলেন। পরে অজ্ঞাত কারণে আমার নাম পোস্টার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে আমি অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছি।’

বিজ্ঞাপন

জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অসুস্থবোধ করায় আমি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারিনি।’

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক যুবদল নেতা মো. কাসেম দাবি করেন, ‘উদ্যোক্তা বা অতিথিদের কেউ কেউ বক্তব্য রাখতে পারেননি, এমন বিষয় আমার জানা নেই। সঞ্চালক হিসাবে আমি কারও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিনি।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি মূলধারার রাজনীতিবিদ গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে অনুষ্ঠানটিকে পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের বক্তা করে সাজানো হয়েছিল। পরে দলীয় লোকজনের আগ্রহের চাপে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সভাপতি হিসাবে অন্যদের সুযোগ করে দেওয়ায় আমি নিজেও বক্তব্য দিতে পারিনি। এখানে অভিযোগ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

গিয়াস দাবি করেন, ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটি সফল হয়েছে। বিভিন্ন পেশার ৩৫টি দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি মানুষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। নবগঠিত সংগঠনটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাদা ছোড়াছুড়ির বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন