default-image

রিপাবলিকান পার্টির নেতা বাংলাদেশি মার্কিন গিয়াস আহমেদ বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের অবজ্ঞা করে ইসরায়েলের সঙ্গে অসম চুক্তি, মুসলমানসহ অভিবাসীদের ব্যাপারে ঘৃণার মনোভাব, মুসলিম ব্যান, অভিবাসন কর্মসূচিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং ওবামা কেয়ার নিষিদ্ধে তামাশা করতে থাকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। তাই রেজিস্টার্ড রিপাবলিকান হওয়া সত্ত্বেও ভোট দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী জো বাইডেনকে।

নিউইয়র্কভিত্তিক একটি অনলাইন পোর্টালের উদ্যোগে আয়োজিত টক শোতে গিয়াস এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা দলের সদস্য হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে কাজ করেছি। এবারও সব বাংলাদেশিকে উৎসাহিত করেছি ট্রাম্পকে ধরাশায়ী করতে। এ ক্ষেত্রে আমি জাতীয় স্বার্থ ও অভিবাসীদের স্বার্থকে সব সময় প্রাধান্য দিয়ে আসছি। এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার।’

২০০২ সালে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট ও ২০০৪ সালের নির্বাচনে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হিসেবে লড়েন গিয়াস আহমেদ। জয়ী হতে না পারলেও উঠতি কমিউনিটিকে মার্কিন মূলধারা রাজনীতিতে জড়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির সঙ্গে জড়িত থেকেও সর্বস্তরের প্রবাসীদের স্বার্থে সোচ্চার হতে কুণ্ঠা করেননি কখনো।

বিজ্ঞাপন

গত দুই মেয়াদে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজের মধ্যেও বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন গিয়াস। তিনি বলেন, ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ আরও বেশি সুবিধা পাবে। কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সোচ্চার গিয়াস বলেন, এই ককাসের ৯৮ শতাংশ সদস্যই ডেমোক্র্যাট। তাই বাংলাদেশের স্বার্থে ককাসের ভূমিকা জোরদারে ডেমোক্র্যাটরা হোয়াইট হাউসে থাকলে সুবিধা বেশি। অতীতে তা ঘটেছে।

গিয়াস আহমদ বলেন, এবারের নির্বাচন নিয়ে যে শঙ্কা বিরাজ করছে, তার অবসান ঘটবে ফল পূর্ণভাবে প্রকাশিত হলে। তবে ট্রাম্পের অপশাসনের বিরুদ্ধে ভোটাররা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন, করোনা সত্ত্বেও আগাম ভোট দিয়েছেন ব্যাপকভাবে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একটি ইতিহাস।

বাংলাদেশ মার্কিন এই রাজনীতিক বলেন, প্রবাসের স্বপ্ন পূরণের অভিপ্রায়ে সবাইকে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। মার্কিন রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে কে কোন দল করছেন, সেটি বড় কথা নয়, মূলধারার সঙ্গে সম্পর্ক রাখাই হচ্ছে মূল কথা। সম্পর্ক মধুর হলেই দাবি আদায়ের পথ সুগম হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0