বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মার্কিন সরকার এত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও গৃহহীন সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে আসা কোনো পর্যটক বড় বড় শহরের রাস্তাঘাটে গৃহহীন লোক দেখে অবাক হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে বসবাসকারী নাগরিকদের কাছে তা নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য।

নাগরিকদের যাতে আবাসন সমস্যা না হয় সে জন্য মার্কিন সরকার পাবলিক হাউজিং থেকে শুরু করে বাড়ি কিনতে ঋণ প্রদান করতেও সাহায্য করে থাকে। এত কিছুর পরেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ গৃহহীন অবস্থায় আছে। সরকারি এ হিসাব ছাড়াও আরও অসংখ্য লোক গৃহহীন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

স্ট্যাটিসটা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ১৭ জন গৃহহীন অবস্থায় কাটায়।

যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা ব্যবস্থা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম ব্যয়বহুল। এ খাতে বিরাট অঙ্কের টাকা ব্যয় করার পরেও প্রত্যেক নাগরিকের জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পারছে না। এসব গৃহহীন লোকের মধ্যে রোগ অন্যান্য সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে বেশি। প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার গৃহহীন মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে মারা যাচ্ছে, যাদের গড় আয়ু মাত্র ৫০ বছর। গৃহহীন সমস্যার সমাধান করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা খাতও প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে।

নিউইয়র্ক শহরের কথা উঠলে প্রথমেই এ শহরের সাবওয়ে ব্যবস্থা, স্ট্যাচু অব লিবার্টি, টাইমস স্কয়ার কিংবা উঁচু উঁচু দালানের চিত্র ভেসে উঠবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ গৃহহীন লোক নিউইয়র্ক শহরে বাস করছে। প্রতি ১০ হাজার জনে এ সংখ্যা ১০০-এর বেশি। বেঁচে থাকার জন্য এসব গৃহহীনরা নানা অপরাধ কর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাই নিউইয়র্ক শহরের অপরাধ প্রবণতাও অন্য শহরের চেয়ে বেশি।

শারীরিক অক্ষমতা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, নাগরিকদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা করতে না পারা গৃহহীন লোকের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ। বাইডেন সরকার যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন লোকের সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য খুব জোর প্রদান করেছে। এ জন্য জাতীয়ভাবে ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গৃহহীনদের জন্য স্থায়ী আবাসনের পাশাপাশি সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য প্রতিটি স্থানীয় সরকারকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন