কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বাজারে আসার আগেই রাজনীতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভ্যাকসিনের সূত্র ধরে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের তথ্য সংগ্রহের প্রয়াস নিয়েছে প্রশাসন। সব ধরনের অভিবাসীর জন্য অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত অন্যতম অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কের গভর্নর এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, নির্বাচনের আগেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন চলে আসবে। গত মার্চ মাস থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নির্বাচনের ভোটগ্রহণও শেষ। এখন ফল ঘোষণার অপেক্ষা। কিন্তু করোনা ভ্যাকসিন এখনো আসেনি। প্রায় ১ কোটি লোক সংক্রমিত। এখন ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো দিন ভ্যাকসিন আসার আশাবাদের কথা শোনানো হচ্ছে। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য ও নগরকে ভ্যাকসিন বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা প্রায় দুই মাস আগেই জানানো হয়েছে ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে।

২ নভেম্বর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো জানান, ফেডারেল সরকার ভ্যাকসিন বিতরণের জন্য লোকজনের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে। এ তথ্য সংগ্রহ করে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নথিপত্রহীন অভিবাসীদের ধরতে তল্লাশি চালাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে পাঠানো এ সম্পর্কিত বার্তায় বলা হয়েছে, ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর এসব তথ্য ফেডারেল সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগ ব্যবহার করতে পারবে। গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো প্রশ্ন রাখেন, ভ্যাকসিন গ্রহীতার ড্রাইভিং লাইসেন্স, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, পাসপোর্ট নম্বরের তথ্য কেন প্রয়োজন হবে? এসবের কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ নেই উল্লেখ করে গভর্নর কুমো বলেন, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য থেকে তথ্য নেওয়ার জন্য ফেডারেল সরকার আরেকটি প্রয়াস গ্রহণ করেছে।

গভর্নর কুমো বলেন, তিনি বিষয়টি অনুমোদন করবেন না। ট্রাম্প প্রশাসনকে তিনি এ নিয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন। ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য এসব তথ্য কেন প্রয়োজন এবং কী কারণে এসবের ব্যবহার করা হবে জানার জন্য গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ট্রাম্প প্রশাসনকে পাল্টা চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0