default-image

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল রিয়েল এস্টেট বা আবাসন এলাকার একটি হচ্ছে নিউইয়র্ক নগর। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর এই নগরে আবাসন ব্যবসা ঝিমিয়ে পড়েছিল। বিপুলসংখ্যক ফ্ল্যাট ও বাড়ি খালি হয়ে পড়ায়, নগরের বাড়িভাড়া কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। তবে ধীরে ধীরে আবার জেগে উঠছে এই খাত। বাড়ছে ক্রেতার আনাগোনা।

কোভিড-১৯ মহামারির আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নগরের অন্যতম এই নিউইয়র্ক। করোনাকালে সবচেয়ে বেশি কর্মহীন হয়েছিল নিউইয়র্কের মানুষ। তবে গত গ্রীষ্মে নগরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালুর পর থেকে নিউইয়র্কের নানা এলাকায় রিয়েল এস্টেট বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

বিগত কয়েক মাস ধরে নিউইয়র্কে বাড়ি–ঘর বেচকেনায় ব্যস্ততা বাড়ছে। মহামারির ধ্বংসস্তূপ থেকে নিউইয়র্কের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। প্রায় তিন বছর পর এই প্রথম নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে আবার গতি ফিরে এসেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েল্টরর্স–এর (নাইসার) ২০২০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিক্রির তালিকায় বাড়ির সংখ্যা সীমিত হওয়ার কারণে আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ সব ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলে রিয়েল এস্টেট মার্কেট প্রধানত বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এমন অবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট টার্মে ‘সেলার’স মার্কেট’ বা বিক্রেতাদের বাজার বলা হয়ে থাকে। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, এই সময়কালে বিক্রেতারা তাদের তালিকাভুক্ত বাড়ির দর হাঁকানো মূল্যের ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ পেয়ে বিক্রি করতে পেরেছেন। এটি গড়পড়তা একটি হিসাব। অনেক ক্ষেত্রেই দাবি করা মূল্যের চেয়ে বেশি দামও পেয়েছেন বিক্রেতারা।

বিজ্ঞাপন

বিক্রির তালিকায় চাওয়া মূল্যের অনুপাতে বিক্রীত মূল্য ঊর্ধ্ব হওয়া মানে বাজার বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার লক্ষণ। এমন বাজারে দর-কষাকষির ক্ষমতা বিক্রেতাদের হাতে বেশি থাকে।

২০২০ সালের আগের বছরের তুলনায় ২২ দশমিক ৬ শতাংশ কম বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হয়। যে কারণে নিউইয়র্ক রাজ্যের মধ্যমানের একটি বাড়ির মূল্য গড়ে ১১ দশমিক ছয় শতাংশ বেড়ে চলতি বছরে তিন লাখ দশ হাজার হয়েছে।

নগরের অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য যেখানে লকডাউন থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে ভিন্ন গতিতে, সেখানে ফ্ল্যাট, বাড়িঘর বিক্রি হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হারে এবং দ্রুত গতিতে। নিউইয়র্কের আবাসন বাজারের বর্তমান প্রবণতা অর্থনীতির এই খাতকে গতিশীল ও উষ্ণ করে রেখেছে এই শীত মৌসুমেও।

নাইসারর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শক্তিশালী ক্রেতা চাহিদা নিয়ে আবাসন বাজার তৎপর হয়ে উঠেছে।

বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত বাড়ির সংখ্যা ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১২ হাজার ২৬৫ হয়েছে। বিক্রির জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি বাড়ি। এখন এই সংখ্যা ১০ হাজার ৫৮৮। বিক্রয়যোগ্য বাড়ির সংখ্যা ২৬ দশমিক ৭ ভাগ কমে ৩৮ হাজার ৮৮৫ এককে পৌঁছেছে।

২০২১ সালে নিউইয়র্কে, বিশেষত নিউইয়র্ক নগরে বাড়ির দাম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে অনেক এস্টেট বিশেষজ্ঞ ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিউইয়র্ক যখন মহামারির দুর্যোগ থেকে ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করেছে, তখন নগরের বাড়ি মালিকদের জন্য ২০২১ সালটি হবে অর্থনৈতিকভাবে একটি লাভজনক বছর।

অন্যদিকে, আবাসন বাজারের এই প্রবণতা হয়তো দীর্ঘায়িত হবে না। যারা নিউইয়র্ক নগরে নতুন বাড়ি কেনার জন্য খোঁজ করছেন, এদের অনেকেই এখন না কিনে একটু ভাবছেন। বাজারে আরও নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এর ফলে বাড়ির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে চলে আসা পর্যন্ত অনেকে অপেক্ষা করবেন বলে মনে হচ্ছে।

বাড়ি কেনাবেচা ব্যাপকভাবে শুরু হওয়া মানে অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য ফিরে আসা। এক বছরে শুধু নিউইয়র্কেই মহামারিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ মারা গেছে। ইতিহাসের এ কঠিন সময়ে নিউইয়র্কের মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। ব্যাপক বেকারত্বের মধ্যেও লোকজনের মধ্যে সঞ্চয় করা এবং আমেরিকার স্বপ্ন লালনের প্রত্যয় থেকে মানুষ সরে আসেনি।

যারা গত চার দশকে বিভিন্ন সময়ে যারা ঘরবাড়ির মালিক হয়েছেন, তাদের অনেকেই এখন বাড়ি বিক্রি করে ভালো মুনাফা করছেন। অনেকেই নগর কেন্দ্রের কাছাকাছি বাড়ি বিক্রি করে একটু দূরে সরে যাচ্ছেন। স্থানান্তরিত হচ্ছেন। পুরোনো বাড়ি বিক্রি করে যা পাচ্ছেন, তার চেয়ে অনেক কম মূল্যে নতুন এলাকায় বাড়ি ক্রয় করছেন।

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন