default-image

মাদক বিক্রির মামলা থেকে বাঁচতে নিউইয়র্কের এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে করোনা রোগী সাজিয়েছে। ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে আদালতের কাছ থেকে একের পর এক সময় নিয়েছেন। এখন মাদক বিক্রির অপরাধের সঙ্গে যোগ হয়েছে কোভিড-১৯–এর ভুয়া রিপোর্ট দাখিলের অভিযোগ।

নিউইয়র্কের সাফোক কাউন্টি ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস থেকে গতকাল সোমবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, হেরোইন বিক্রি ও মজুত রাখার অভিযোগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ডেভন লুইসকে (৩৫) আদালতে হাজির করা হয়েছিল। মামলাটির শেষ শুনানি ছিল ২৪ সেপ্টেম্বর। ডেভন লুইস আদালতকে বলেছিলেন, তাঁর ৩৬ বছর বয়সী স্ত্রী ব্লায়ার ম্যাকডরমটের করোনা পজিটিভ। এ নিয়ে আদালতে তিনি একটি সনদও উপস্থাপন করেন। বিচারক দ্রুততার সঙ্গে বিচারের কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং করোনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সময় দেন।

১ অক্টোবর লুইস আদালতকে বলেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী ম্যানহাটনের একটা অ্যাপার্টমেন্টে কোয়ারেন্টিনে আছেন। ১৪ অক্টোবর লুইসের আইনজীবী আরেক দফা করোনা পজিটিভের সনদ দাখিল করে জানান, লুইসের স্ত্রীর আবারও করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। বিচার প্রক্রিয়া বিলম্ব করার জন্য এমন প্রয়াস নেওয়া হয়।

একপর্যায়ে লুইস তাঁর স্ত্রীর কোভিড পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে বলে জানালে গত ২২ নভেম্বর ডেভন লুইসের মামলার বিচার হয়। অবৈধ মাদক বিক্রি ও মজুত রাখার দায়ে আদালতে তাঁর দণ্ড হয়।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টা অবশ্য সেখানে থেমে গেলে ডেভন লুইসের বাকি কর্মটা জানা যেতো না। তাঁর বিরুদ্ধে আরেক তদন্তে পাওয়া গেছে, ডেভন লুইসের স্ত্রীর কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ ছিল শুরুতেই। জালিয়াতি করে তিনি আদালতে সুবিধা পেতে ফলাফল ঘষামাজা করে বদলে ফেলেন। এ ছাড়া ম্যানহাটনের অ্যাপার্টমেন্টে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন বলে আদালতে দেওয়া বক্তব্যও ছিল মিথ্যা। সে সময়টিতে লুইস সস্ত্রীক নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া, ম্যারিল্যান্ড প্রভৃতি রাজ্য ভ্রমণে গেছেন। মনের সুখে বিভিন্ন হোটেলে যাতায়াত করেছেন। ক্যাসিনোতে জুয়া খেলেছেন।

এসব ছাড়াও ডেভন লুইস আগস্টে আদালতে চিকিৎসকের একটা সনদ জমা দেন। যেখানে লেখা আছে, অপরাধের দণ্ড হিসেবে এ সময় তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হলে তাঁর জীবনের শঙ্কা রয়েছে। তিনি একজন কঠিন অ্যাজমা রোগী হিসেবে কোভিড-১৯ সংক্রমণের শিকার হতে পারেন। তদন্তে দেখা গেছে, এমন ডাক্তারি সার্টিফিকেটও ছিল ভুয়া।

লুইস ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে মিথ্যা বলায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিচারের রায় প্রভাবিত করতে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

মন্তব্য করুন