বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মুখ্য আলোচক জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণা প্রধান নজরুল ইসলাম তাঁর লিখিত প্রবন্ধে বলেন, নিউইয়র্ক স্টেট কর্তৃক দিনটির তাৎপর্য বিবেচনা করে যেভাবে মুক্তধারার প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহা ভিন্ন একটি দেশে বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ডে আইন পাস করিয়েছেন তা অভূতপূর্ব ঘটনা। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা ও বাঙালিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছিলেন। তাই বাংলাদেশি অভিবাসী দিবস হিসেবে এর চেয়ে ভালো দিন আর কী হতে পারে? এ বিষয়ে বাংলাদেশেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ছয়টায় বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ডের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলা ভাষণ, সিনেটে রেজুলেশন পাস, এ বিষয়ে আনিসুজ্জামান, আবুল মাল আব্দুল মুহিত, এ এইচ মাহমুদ আলীর প্রতিক্রিয়া, কংগ্রেসওমেন গ্রেস মেং ও সিনেটে বিল উত্থাপনকারী সিনেটর স্ট্যাভেস্কির বক্তব্য স্থান পায়।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুক্তধারা নিউইয়র্কের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বিশ্বজিত সাহা। তিনি তাঁর বক্তব্যে কোভিড এর মধ্যেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ইউনাইটেড স্টেট পোস্টাল সার্ভিস কর্তৃক স্মারক ডাকচিহ্ন প্রকাশ, নিউইয়র্ক স্টেট কর্তৃক ১৭ মার্চকে ‘বঙ্গবন্ধু ডে’ ঘোষণাসহ আমেরিকায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের উদ্যোগে শিশু-কিশোর মেলার কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন উপলক্ষে মুক্তধারা ২০১৬ সাল থেকে ছয় বছরব্যাপী কর্মসূচি পালন করে ২৬ মার্চকে নিউইয়র্ক স্টেট কর্তৃক ইনডিপেনডেন্ট ডে হিসেবে রেজুলেশন পাস করার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন—সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দীন, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দীন, বিজিএমইর সভাপতি ফারুক হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম ও সোমা সাঈদ।

মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দীন প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। বিজিমএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান ২৫ সেপ্টেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানের অতিথি নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন ল্যু তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশকে ভালোবাসার কথা এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইমিগ্রান্ট ডে পাসের সময় তাঁর ভূমিকার কথা বললে উপস্থিত সবাই হাত তালি দিয়ে সিনেটরকে অভিনন্দন জানান।

সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দীন আহমেদ দিনটির গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি মুক্তধারা নিউইয়র্ক কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০০ ছবি প্রদর্শনের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে জিয়াউদ্দীন আহমেদ মুক্তধারার পক্ষ থেকে নিউইয়র্ক স্টেট কর্তৃক ২০২১ সালে পাস হওয়া বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট ডে রেজুলেশনটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ক্লারা রোজারিও।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন