যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কয়েক লাখ লোক ফেডারেল সরকার ঘোষিত ১ হাজার ২০০ ডলারের চেক পাননি। তাদের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে হুবহু ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিসের (আইআরএস) মতো করে ওয়েবসাইট খুলে বসেছে একটি প্রতারক চক্র। ফোনে এসএমএস করে অর্থ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এই চক্র বিভিন্নজনের ব্যক্তিগত তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অর্থ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য নিচ্ছে। পরে এসব তথ্যের মাধ্যমে জালিয়াতি করে শত শত লোকের ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

জ্যাকসন হাইটসের আবদুল মোতালেব গত সপ্তাহে ডলার পাবেন বলে একটি ম্যাসেজ পান। তিনি তাদের দেওয়া ওয়েবসাইটের লিংকে গিয়ে সব ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে ফরম পূরণ করে তা সাবমিট করেন। পরে তাঁর কাছে অভিনন্দন বার্তা সংবলিত একটি ই-মেইল আসে। -ইমেইলটি আসার তিন দিন পরই তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ হাজার ডলার খোয়া যায়। পরে মোতালেব ব্যাংক থেকে ডলার উধাও হওয়ার বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা বলেন, অনলাইনে শপিংয়ের জন্য ওই ডলার তোলা হয়েছে। নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে উধাও হয়ে যাওয়া সেই ৩ হাজার ডলার এখনো ফেরত পাননি মোতালেব।

বিজ্ঞাপন

একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন ব্রঙ্কসের শাকিল আহমেদ। তিনি জানান, তাঁর কাছেও একই ধরনের এসএমএস এসেছিল। সেই এসএমএসে ফেডারেল সরকার ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে তাদের কথামতো তিনি এর খরচ বাবদ ১০০ ডলারের চেক দেন। কয়েক দিন পর ওই চেকে উল্লিখিত অঙ্ক বদলে ৭ হাজার ডলার ব্যাংক থেকে সরিয়ে নেয় ওই প্রতারক চক্র। বিপুল অর্থ খুইয়ে শাকিল আহমেদ এখন আক্ষরিক অর্থেই দিশেহারা।

শুধু আবদুল মোতালেব বা শাকিল আহমেদ নন, তাঁদের মতো শত শত লোকের সঙ্গে প্রতি দিন এমন প্রতারণা করা হচ্ছে। করোনা দুর্যোগে অনেকেই কাজ হারিয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছেন। অনেকে কাজ না হারালেও তাদের আয় কমেছে ব্যাপকভাবে। ফলে সরকারি সহায়তা তহবিল থেকে অর্থ পেতে মানুষ উদ্‌গ্রীব হয়ে আছে। অনেকেরই এই অর্থ পেতে দেরি হচ্ছে। ফলে দুর্দশাগ্রস্ত অনেকে জেরবার হয়ে পড়েছেন এই অর্থ পাওয়ার জন্য। আর এই বিষয়টিকে কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক চক্র।

এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী ইনকাম ট্যাক্সের কনসালট্যান্ট ইকরা তাসনিম বলেন, অনেকেই ম্যাসেজ পেয়ে আমাদের কাছে আসছেন ফরম পূরণ করতে। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যায়, এটি প্রতারক চক্রের কাজ। না বুঝে কোনো ফরম পূরণ এবং যে কাউকে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

মন্তব্য পড়ুন 0