default-image

বাংলাদেশে রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ হত্যার ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এনবিসিনিউইয়র্ক ডটকমের গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের একটি আদালতে এই হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এ মামলায় ফাহিমের ব্যক্তিগত সহকারী হ্যাসপিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এদিন কারাগার থেকে স্কাইপের মাধ্যমে হ্যাসপিল আদালতের কাছে পরিকল্পিত খুনের কথা অস্বীকার করেন।

হ্যাসপিল আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হয়। আসামিপক্ষ এ ব্যাপারে রাজি হলে আগামী ১১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখেন আদালত।

ফাহিম সালেহ গত ১৩ জুলাই নিউইয়র্কে নিজ অ্যাপার্টমেন্টে খুন হন। প্রযুক্তি খাতের এই উদ্যোক্তাকে খুনের পর লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলা হয়। এ ঘটনায় হ্যাসপিলকে গ্রেপ্তার করে খুনের অভিযোগ আনা হয়।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, হ্যাসপিলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত খুন ছাড়াও অর্থসম্পদ লুট, চুরি, লাশ গুমের চেষ্টা এবং আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ফাহিমের আর্থিক ও ব্যক্তিগত বিষয়গুলো দেখতেন হ্যাসপিল। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ফাহিমের মোটা অঙ্কের অর্থ সরিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই অর্থ কিস্তিতে পরিশোধে রাজিও হয়েছিলেন।

তদন্তের প্রথম দিকে বলা হয়, ফাহিমের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে হ্যাসপিল প্রায় ৯০ হাজার ডলার ধার নিয়েছিলেন। এই অর্থ ফেরত না দেওয়ার জন্যই তিনি ফাহিমকে হত্যা করেছেন। তবে চূড়ান্ত তদন্তে দেখা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে ফাহিমের অর্থ চুরি করে আসছিলেন হ্যাসপিল। হত্যাকাণ্ডের পরও অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আগে সংঘটিত অপরাধের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন সালেহ। বিষয়টি কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় গড়াতে পারত। সে ক্ষেত্রে তিনি সাক্ষ্য দিতেন। সেই পথ বন্ধ করতেই তাঁকে খুন করা হয়েছে।

অর্থ চুরির ঘটনা ছাড়া আর কোনো পুরোনো অপরাধের কথা আদালতে প্রকাশ করা হয়নি।

হত্যার আগে টেজার ব্যবহার করে ফাহিমকে অজ্ঞান করা হয়েছিল। এই টেজারের সূত্র ধরেই হ্যাসপিলকে শনাক্ত করার কথা জানায় পুলিশ। হত্যার পর ফাহিমের শরীর খণ্ড-বিখণ্ড করার কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক করাতসহ পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী কেনার ভিডিও ফুটেজও খুনিকে চিহ্নিত করার শক্ত প্রমাণ বলে সরকারি কৌঁসুলিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0