বিজ্ঞাপন

দলীয় জনমত জরিপে কিছুটা এগিয়ে আছেন অ্যান্ড্রু ইয়াং। সম্প্রতি নগরে ২০ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর ব্রঙ্কসের একটি হাউজিং প্রকল্পের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেছেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, নগরে পুলিশের উপস্থিতি বাড়াতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই নগর ভেঙে পড়বে।

নিউইয়র্ক নগরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশের উপস্থিতি নিয়েই নাগরিক বিতর্ক রয়েছে। গত বছরের মে মাসে মিনিয়াপোলিসে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর নাগরিক আন্দোলনে নিউইয়র্কে পুলিশের বিষয়টি জোরালো হয়ে উঠে। পুলিশের তহবিল কর্তনসহ পুলিশ আইনের সংস্কারের দাবি উঠে বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। পরিণামে নিউইয়র্ক পুলিশে সংস্কার আনা হয় দ্রুত। পুলিশি দমন–নিপীড়ন থেকে মানুষকে রক্ষায় নগর পুলিশ বিভাগকে ঢেলে সাজানো হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভ্যন্তরীণ নানা বিভাগেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

করোনা মহামারির বিপর্যয় পেরিয়ে নিউইয়র্ক নগর এখন পড়েছে ভিন্ন বিপর্যয়ে। মহামারিতে কর্মহীন বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ব্যাহত হয়েছে। বেকারভাতা দিয়ে কর্মহীন মানুষকে একদিকে সামাল দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে কাজে না যাওয়া এসব মানুষকে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে।

মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা অন্যতম প্রার্থী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এরিক অ্যাডামস। নগর পুলিশে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকার ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রত্যাশা থেকেও নির্বাচনের আগে তাঁর জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী দেখা যাচ্ছে। নগরে কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলে ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছেন এরিক। তাঁর নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয় এখন নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। তিনি নিউইয়র্ক পুলিশের জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ এবং আরেক দফা সংস্কারের কথা বলছেন।

বর্ধিত পুলিশ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নানা কৌশল প্রয়োগে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে নাগরিক আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। দলের উদারনৈতিক পক্ষকে সামাল দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এরিক সত্যিকার ভূমিকা রাখতে পারবেন কি না—এ নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয়ও রয়েছে।

বর্তমান মেয়র বিল ডি ব্লাজিওর সাবেক আইন উপদেষ্টা মায়া উইলি নগরের উদারনৈতিকদের পছন্দের প্রার্থী। উদারনৈতিক পক্ষ মনে করে, শুধু নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেই নগরেকে নিরাপদ করার চেষ্টা ব্যর্থ হবে। অপরাধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে নানা সামাজিক প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি চালুর পক্ষে তারা। কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে অপরাধে যাতে লোকজন জড়িয়ে না পড়ে, তাঁর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করেন নাগরিক আন্দোলনের সমর্থকেরা।

পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা বেড়ে গেছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় সব রাজ্যে ২০ ভাগ বেশি বন্দুক সহিংসতা ঘটছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তাই নিউইয়র্কের মতো বড় নগরে বন্দুক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিকদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করাই এখন নিউইয়র্ক মেয়র নির্বাচনের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী নভেম্বরে মূল মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে মূল নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে শুরু হচ্ছে দলীয় প্রাইমারিতে প্রার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। রিপাবলিকান দলের প্রাইমারি নিয়ে এই নগরে তেমন কোনো উৎসাহ নেই। দৃশ্যত কোনো তৎপরতাও নেই রিপাবলিকানদের। ডেমোক্রেটিক দলের আটজন প্রার্থী চষে বেড়াচ্ছেন পুরো নগর।

অ্যান্ড্রু ইয়াং ও এরিক অ্যাডামসসহ আট প্রার্থীর মধ্যে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—স্যানিটেশন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ক্যাথরিন গার্সিয়া, নিউইয়র্ক নগরের কম্পট্রোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্কট স্ট্রিঙ্গার, সাবেক মার্কিন গৃহায়ণমন্ত্রী শন ডোনোভান, সিটি করপোরেশনের সাবেক নির্বাহী রে ম্যাকগোয়ার ও মেয়র বিল ডি ব্লাজিওর সাবেক আইন উপদেষ্টা মায়া উইলি।

এবারে প্রথমবারের মতো ব্যতিক্রম পদ্ধতিতে নিউইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটাররা তাদের পছন্দের ক্রম অনুসারে প্রার্থীকে ভোট দেবেন।

জনমত জরিপ বলছে, ভোটাররা এখনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়নি। তাই এখনই বলা যাচ্ছে না, ডেমোক্রেটিক দলের মেয়র প্রার্থীর পদে কে জয়ী হবেন। ১২ জুন থেকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আগাম ভোট দেওয়া যাবে। দলের নিবন্ধিত ভোটাররাই কেবল স্ব স্ব দলের প্রাইমারিতে ভোট দিতে পারবেন।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন