default-image

যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য অভিবাসী গোষ্ঠীর ন্যায় ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশি মার্কিনরা। মূলধারায় ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীরা। এই এগিয়ে চলার দলে পুরুষেরা যেমন আছে, তেমনি আছেন বাংলাদেশি মার্কিন নারীরাও। এবার ঐতিহাসিক মার্কিন নির্বাচনে পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু কি রাজনীতি? ডাক্তার, নার্স, উকিল, পুলিশ, শিক্ষকতাসহ নানা পেশায় এ দেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীদের এগিয়ে চলা চোখে পড়ার মতো।

এমনই একজন জ্যাকলিন টি গোমেজ। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ। সুনামের সঙ্গে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট লেভেল টু-এ কর্মরত। কথা প্রসঙ্গে বললেন, এ দেশে এসেই আর দশটা পরিবারের মতো তিনিও ছেলেমেয়েকে বড় করার কাজে ব্যস্ত থেকেছেন। তারা একটু বড় হতেই অনলাইনে আবেদন করে পরীক্ষার নানা ধাপ সাফল্যের সঙ্গে পাশ করেই ট্রাফিক পুলিশের কাজে যোগ দিয়েছেন।

জ্যাকলিন বলেন, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এ দেশ অনেক সম্ভাবনার দেশ। কেউ কাজ করতে চাইলে, তার সামনে হাজারো বিকল্প থাকে। তবে তার কাছে পুলিশের কাজটাই চ্যালেঞ্জিং ও আগ্রহোদ্দীপক মনে হয়েছে। তাই এই কাজে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বাংলাদেশি নারী পুলিশ হিসেবে কোন সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় কিনা, এমন প্রশ্নে বলেন, একদমই না। এ দেশে চাকরির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ আলাদা করা হয় না। সবাই অনেক বন্ধুসুলভ ব্যবহার দিয়ে কাজের প্রশংসা করে। মাঠে কাজ করতে গিয়ে বলা যায় প্রতিদিনই দারুণ মিশ্র অভিজ্ঞতা অর্জন করি।

বিজ্ঞাপন

জ্যাকলিন বলেন, অনেকে যখন কাজের প্রশংসা করে তখন বেশ ভালো লাগে। আর বিশ্বসেরা নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কাজ করছি, এটা ভেবেও সময়-সময় নিজেই রোমাঞ্চিত হয়।

জ্যাকলিন এনওয়াইপিডির পাশাপাশি লন্ডনভিত্তিক নন–গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশন স্যার উইলিয়াম বেভারিজ ফাউন্ডেশনের ইউএস অ্যাম্বাসেডর অ্যান্ড ইউনাইটেড নেশনসের রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করে দেশে থাকাকালে গ্রামীণফোনের কাস্টমার সার্ভিস ডিভিশনের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন।

পুলিশের কাজে স্মরণীয় দিন সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বলেন, ‘নিউইয়র্ক পুলিশ সদর দপ্তরে গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। সে দিনের সার্টিফিকেট নিয়ে শপথ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ভোলার নয়। তবে করোনার সময়ে খুব ভয়ে কাজ করতে হয়েছে। করোনায় ঘরের বাইরে কাজ করতে গিয়ে মানুষের দুর্দশা কাছ থেকে দেখেছি। বেশ কজন সহকর্মীকে হারিয়েছি। তাই সে সময়টা জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল।’

জ্যাকলিন বাংলাদেশের আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। বাপা সম্পর্কে বলেন, এই সংগঠনটি কমিউনিটির জন্য যা করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

জ্যাকলিনের স্বামী অভিনেতা খাইরুল ইসলাম (পাখি)। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি এখানে আবাসন ব্যবসায়ী। জ্যাকলিন–খাইরুল দম্পতি নিউইয়র্ক শহরের বাস করেন। এই দম্পতির দুই সন্তান, মেয়ে অরণি গুনগুন, ছেলে রণবীর রাজ্য। স্বামী ও পরিবারের উৎসাহ ও সমর্থন পেয়ে জ্যাকলিন এত দূর আসতে পেরেছেন বলে জানান।

জ্যাকলিন চান, তার এই পেশায় আরও বাংলাদেশি নারীরা আসুন। খুব একটি কঠিন কাজ নয়। একটু মনযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেই এই পেশায় যোগ দেওয়া যাবে। তিনি বলেন, শুধু কফিশপ বা অন্যান্য বিক্রয়কর্মীর কাজ না করে আরও বেশি মেয়েদের এই পেশায় আসা উচিত।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0