নিউইয়র্ক নগরের বাংলাদেশি অভিবাসী স্বামী-স্ত্রী দুজনই পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। স্ত্রী পুলিশেও অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ প্রথমে স্বামী, পরে স্ত্রীকেও আটক করেছে।

জানা গেছে, স্বামীর নাম সালাহ উদ্দিন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। তিনি দুই বছরে আগে বাংলাদেশে বিয়ে করেন। নিউইয়র্কে আসার দুই বছরের মধ্যেই তাদের পরিবার নানা বিষয় নিয়ে কলহ দেখা দেয়।

২৮ এপ্রিল আহত অবস্থায় পুলিশ সালাহ উদ্দিনকে উদ্ধার করে এস্টোরিয়া মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাঁকে তাঁর স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই ঘটনায় পরে স্ত্রীকেও পুলিশ আটক করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সালাউদ্দিনের স্ত্রীর গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে। তাঁর স্ত্রীর আগের একটি সংসার ছিল। আগের স্বামীর বাড়ি ছিল কুমিল্লায়। চার বছর আগে তার সেই সংসার ভেঙে যায়। পরে দুই বছরের বেশি সময় আগে সালাউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

সালাউদ্দিন অভিযোগ করেন, তিনি একটি হোমকেয়ার কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কিন্তু চাকরির অর্থ জমা হতো বউয়ের অ্যাকাউন্টে। কিছু হাত খরচ ছাড়া বাকি অর্থ তাঁর স্ত্রী খরচ করতেন। সম্প্রতি তিনি আংশিক বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেন। বেকার ভাতার অর্থও স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জমা হতো। সেই অর্থ সালাহ উদ্দিন চাইলে পারিবারিক কলহ বেড়ে যায়। এ ঘটনা নিয়ে স্ত্রী তার ওপর নির্যাতন করেছে। এতে তিনি মারাত্মকভাবে জখম হন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে সালাহউদ্দিনের স্ত্রী বা তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

তবে সালাহউদ্দিনের স্ত্রী উল্টো স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন। তিনি পুলিশে অভিযোগ করে বলেছেন, স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে তাঁকে নিউইয়র্কের এলমহাষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।

স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সালাহউদ্দিনকে আটক করেছে। পরে আবার সালাউদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়।

বর্তমানে দুজনই ১০৮ পুলিশ প্রিসিঙ্কটে আটক রয়েছেন। ৩০ এপ্রিল সকালে দুজনকে কুইন্স সেন্ট্রাল কোর্টে পাঠানো হবে। দুজনই জামিনের জন্য আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।

দুজনের আটক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী আযম বলেন, বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। অপরাধী যেই হোক, তার শাস্তি হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতিপ্রার্থী কাজী আশরাফ হোসেন বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মারামারি কোনোভাবেই কাম্য নয়। দুজনই যদি তাদের ভুল বুঝতে পারে, তাহলে বিষয়টি সমাধান করা সহজ হবে।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন