default-image

করোনা মহামারি শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় শহর থেকে মানুষের অন্যত্র স্থানান্তরের হার বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বাফেলো, মিশিগান, ফিলাডেলফিয়া, আলবেনির মতো শহর। এসব শহরে মানুষ স্থানান্তরের ফলে সেখানে বাড়ি বেচা-কেনা বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। ক্রেতার চাহিদার কারণে ঘর-বাড়ির দামও ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

বড় বড় শহর যেমন নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়ায় ভাড়া ও বাড়ির দাম বেশি হওয়ায় মানুষ একটু ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলের দিকে বসত গড়ছে। মানুষের স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব রাখছে ঘর-বাড়ির দাম ও যাতায়াত ব্যবস্থা। তা ছাড়া করোনা মহামারি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনার কারণে অনেকে ঘরে বসেই কাজ করার সুবিধা পাচ্ছেন। এতে অনেকেই শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চলের দিকে স্থানান্তর হচ্ছেন।

নিউইয়র্কের বাফেলো ও মিশিগান রাজ্যের বেশ কয়েকটি শহরে ঘর-বাড়ির দাম এখনো হাতের নাগালে। ফলে অনেকেই নগদ অর্থ দিয়ে এসব জায়গায় বাড়ি কিনছেন। এতে ব্যাংক ঋণ বা মর্টগেজের ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে না। অত্যধিক হারে লোকজন স্থানান্তরের ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাড়ির চাহিদা বেড়েছে। অনেক জায়গায় বিক্রেতার চেয়ে ক্রেতার সংখ্যা বেশি। চাহিদা বেশি থাকায় তাই বাড়ির দাম স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাচ্ছে।

দা ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস (এনএআর) বিক্রির অপেক্ষায় থাকা বাড়ি-ঘর পর্যবেক্ষণ করে থাকে। এনএআর থেকে প্রকাশিত তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যা সবচেয়ে কম। ২০২০ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৯ শতাংশ কম।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি অভিবাসীদের বড় একটি অংশের বসবাস নিউইয়র্ক নগরে। বেশি বাসা ভাড়া ও বাড়ির উচ্চ মূল্যসহ জীবনযাত্রার অত্যধিক ব্যয়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিউইয়র্কে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু করোনা মহামারি শুরুর পর বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিউইয়র্ক নগর ছেড়ে অন্যত্র স্থানান্তরের হার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। বাংলাদেশিদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নিউইয়র্ক নগর থেকে প্রায় ৪০০ মাইল দূরের শহর বাফেলো।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গরাজ্য ভেদে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভিন্ন ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। বাফেলোর অবস্থান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় অনেকে এসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে এই শহরে বসতি গড়াকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তা ছাড়া কানাডার সীমান্তবর্তী ও নিউইয়র্ক শহর থেকে খুব দূরে না হওয়ায় অনেকে আত্মীয়ের বাসায় সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। বাফেলোতে অনেক বাংলাদেশি বসবাস করার ফলে ইতিমধ্যে এখানে বাংলাদেশি মসজিদ, মাদ্রাসা, গ্রোসারি ইত্যাদি গড়ে উঠেছে।

তবে বাফেলোতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে এখানকার বাড়ির দাম। নিউইয়র্ক শহরে যারা কখনো বাড়ি/ফ্ল্যাট কেনার কথা চিন্তাও করতে পারেন না, বাফেলোয় তারা এমনকি দুই/তিনটি বাড়ি কিনতেও সক্ষম। তবে অত্যধিক হারে মানুষ বাফেলোয় স্থানান্তরের ফলে সেখানেও বাড়ির দাম বাড়তে শুরু করেছে।

বাড়িভাড়া ও কেনাবেচার প্রতিষ্ঠান জিলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২০ সালের তুলনায় চলতি বছর বাফেলোর বাড়ির দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। বাফেলোয় বসবাসকারী বাংলাদেশি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিনই নিউইয়র্ক নগর থেকে তাঁদের কাছে ক্রেতা আসছে। ঘরবাড়ির দাম জানতে চাইলে তাঁরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছরে বাড়ির দাম বেড়েছে। তারপরও বাংলাদেশিরা এই দামে নিজস্ব বাড়ি কিনতে পেরে বেশ খুশি।

জিলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ঘরের চাহিদা থাকলেও মার্চ মাসে বাফেলোয় বিক্রির জন্য উপযুক্ত ঘরের সংখ্যা প্রায় ২.৫ শতাংশ বেড়েছে।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন