যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ১৬ বছর বয়স থেকে বেশি বয়সী যে কেউ এখন করোনার টিকা নিতে পারবে। ৩০ মার্চ থেকে ৩০ বছরের বেশি বয়সীরা এবং আগামী ৬ এপ্রিল থেকে ১৬ বছর বয়সীরা করোনার টিকা গ্রহণ করার জন্য সময়সূচি নিতে পারবে বলে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
২৯ মার্চ রাজ্য গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো এ নির্দেশনা জারি করে বলেছেন, হোয়াইট হাউস ঘোষিত আগামী ১ মের আগেই নিউইয়র্কে কোভিড-১৯ এর টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে। তিনি বলেন, টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং টিকা গ্রহণের সুবিধা সম্প্রসারিত করার মাধ্যমে নিউইয়র্কের প্রায় সবাইকে এর আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
গভর্নর কুমো বলেছেন, রাজ্যে বসবাসরত সংখ্যালঘু এবং ভিন্ন গাত্রবর্ণের লোকজন প্রায়ই সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে পেছনে পড়ে থাকেন। টিকা প্রদানের এ সম্প্রসারিত উদ্যোগ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজ্যের ওয়েবসাইটে গিয়ে বা ফোন করে টিকা নেওয়ার সময়সূচি গ্রহণের জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বছরে করোনার শুরুর দিকে সংক্রমণে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল নিউইয়র্কে। তাই করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় নিউইয়র্ক অন্যান্য রাজ্য থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। টিকা প্রদান করা হচ্ছে রাজ্যের সর্বত্র। ২৮ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের ২৯ শতাংশের বেশি মানুষকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ শতাংশের বেশি মানুষ দ্বিতীয় ডোজ সমাপ্ত করেছে।
নিউজার্সি রাজ্যে এখন পর্যন্ত ২১ শতাংশ জনগণকে টিকা দেওয়া হয়েছে। দুই রাজ্যেই দ্রুততার সঙ্গে ৭৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে স্বাস্থ্যসেবীরা মনে করছেন।
নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে করোনা সংক্রমণ সতর্কতা এখনো বলবৎ থাকলেও বিভিন্ন ধাপে সবকিছু খুলে দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, খুলে দেওয়ার জন্য আরও কিছুদিন সময় নিলে ভালো হতো। আবহাওয়ায় গ্রীষ্মের হাতছানির সঙ্গে সঙ্গে লোকজনও বেরিয়ে পড়ছে। মানুষের জমায়েত-সমাবেশ শুরু হয়ে গেছে।
মার্কিন সরকারের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা গ্রীষ্মের শেষের দিকে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রিত দেখার জন্য আশাবাদী।
গত এক বছরে করোনায় যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২৮ মার্চ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।