নিউইয়র্কে মেট্রোপলিটন ট্রানজিট অথোরিটি (এমটিএ) পাতাল সাবওয়ে বা রেলের ভাড়া ও সেতুর টোল আগামী বছরের শুরু থেকে বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০০৯ সাল থেকে এজেন্সির নীতিমালা অনুসারে প্রতি দুই বছরে এমটিএ পাতাল রেলের ভাড়া ও সেতুর টোল বৃদ্ধি করতে পারবে। তবে এমটিএর নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিউইর্য়কবাসী।

১ ডিসেম্বর এমটিএতে সব দলের রাজনীতিবিদ, ট্রানজিট কর্মী, যাত্রী ও গাড়িচালকেরা এই সম্ভাব্য ভাড়া বৃদ্ধির প্রথম সরকারি শুনানিতে অংশ নেন। এ সময় তারা ভাড়া বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন।

নাসাও কাউন্টির সিনেটর টড কামিনস্কি বলেন, ‘আমাদের ট্রেনের যাত্রীরা কোনোভাবেই এই ভাড়া বৃদ্ধি মেনে চলার ক্ষমতা রাখে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতে ট্রেনের যাত্রী বাড়ানো অসম্ভব হবে। আমরা মানুষকে ট্রেনে ফিরে যেতে উৎসাহিত করতে চাই।’

গত মাসে এমটিএ ফিন্যান্স অফিসার মার্ক ইয়ং এজেন্সি বোর্ডের সদস্যদের জানান, পাতাল রেলের জন্য মূল ভাড়ার ১১ সেন্ট বৃদ্ধি, ৭ দিন ও ৩০ দিনের পাসগুলো বিলুপ্তকরণ এবং নতুন একক যাত্রার টিকিটের জন্য এক ডলার বাড়ানোর বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লং আইল্যান্ড রেল রোড এবং মেট্রো-নর্থে ভাড়ার জোন সংখ্যা কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হয়েছে। এদিকে, সেতু ও টানেলের টোল বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্রুকলিনের যাত্রী নিকোলাস সিউনারাইন নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘ভাড়া যে বাড়তে চলেছে, তা পুরোপুরি মেনে নেওয়া যায় না।’

নিকোলাস ১ ডিসেম্বর এমটিএর ভাড়া বৃদ্ধির শুনানিতে বলেন, ‘ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আমাদের কাছে যুক্তিসংগত ভাড়া নিতেন। ভাড়া এখনই ২ দশমিক ৭৫ ডলার হয়েছে, যা আমি মনে করি যথেষ্ট।’

এমটিএ বোর্ডের সদস্য অ্যান্ড্রু আলবার্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, একই সঙ্গে পরিষেবা কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করার সময় ভাড়া বাড়ানো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তিনি বলেন, ‘জনগণকে কম পরিষেবা দিয়ে বেশি অর্থ নিতে চাইলে তারা ট্রানজিট ব্যবহারের আগে চিন্তাভাবনা শুরু করবে, যা মোটেই শুভ চিন্তা নয়। আমরা চাই, জনগণ নিয়মিত ট্রানজিট ব্যবহার করবে।’

এদিকে, শুনানির শুরুতে এমটিএ চেয়ারম্যান প্যাট ফয়ে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, এই কঠিন সময়ে নিউইর্য়কবাসীর ওপর চাপ কমানো। আমরা জানি, যেকোনো ভাড়া বা টোল বৃদ্ধি নিউইর্য়কবাসীর ক্ষতির কারণ হবে।’

মন্তব্য করুন