default-image

নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে করোনার নতুন দুটি ধরন (স্ট্রেইন) শনাক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিউইয়র্কের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে করোনার এই ধরনে মানুষের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার ধরন নিয়ে গবেষণা করা পৃথক দুটি গবেষক দল এই তথ্য জানিয়েছে। তাঁরা নিউইয়র্কে করোনার এই ধরন নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন বলেও জানানো হয়েছে।

গবেষকেরা বলেছেন, বি.১.৫২৬ নামের করোনার এই ধরনটি নিউইয়র্ক নগরসহ রাজ্যের উত্তর-পূর্ব দিকে ছড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের নতুন এই ধরনের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছড়ানো করোনার নতুন ধরনের মিল রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ওই ধরনের নাম বি.১.৩৫১।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুটি গবেষক দলের একটি কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মেডিকেল সেন্টারের গবেষকেরা। তাঁরা গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছেন, তাঁরা গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্য করেছেন, সংক্রমণের হার বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহে তা আশঙ্কাজনক হারে (১২ দশমিক ৭ শতাংশ) বেড়েছে।

এই গবেষণা দলের প্রধান ও কলম্বিয়ার অ্যারন ডায়মন্ড এইডস রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ডেভিড হো এক ইমেইল বার্তায় বলেন, শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন এই ধরন বাইরের নয়। এটা এ দেশেরই। সম্ভবত নিউইয়র্কেই জন্ম হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাস সব সময় রূপান্তরিত হয়। যত বেশি সংখ্যক মানুষ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়, তত বেশি ওই ভাইরাসের রূপান্তর ঘটার সম্ভাবনা থাকে। একজন সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরে কয়েক বিলিয়ন ভাইরাস থাকতে পারে। এর মধ্যে অল্প কিছু রূপান্তর ঘটায়।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা বলছেন, করোনার নতুন এই ধরনটি আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহে এই ধরনে অনেকেই সংক্রমিত হয়েছেন।

ডেভিড হো বলেন, ‘করোনার এই নতুন ধরনের সংক্রমণ শনাক্তের হার গত কয়েক সপ্তাহ থেকেই বাড়ছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, এই ধরনটি হয়তো যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনগুলোর মতোই অন্যান্য স্ট্রেইনকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে বলার মতো পর্যাপ্ত তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

এদিকে আরেকটি গবেষক দল হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, তাঁরা একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছেন, যা দিয়ে সহজেই নিউইয়র্কে বি.১.৫২৬ ভাইরাসের স্ট্রেইনটি শনাক্ত করা গেছে। সেখানে দেখা গেছে, নিউইয়র্কে ভাইরাসের নতুন এই ধরনের সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ ফেব্রুয়ারি পৃথক এই দুই গবেষক দল জানিয়েছে, নিউইয়র্কের মতো ক্যালিফোর্নিয়াতেও করোনার অন্য আরেকটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। এই ধরনটির নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.৪২৭/বি.১.৪২৯।

গবেষকেরা আশঙ্কা করছেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় করোনার এই ধরনটি শুধু সংক্রামকই নয়, বরং এর কারণে ভয়াবহ রোগও হতে পারে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় করোনার এই ধরন নিয়ে গবেষণা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটা নিয়ে আরও গবেষণা করতে হবে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ফ্রান্সিসকোর গবেষকেরা বলছেন, এই ধরনটি অনেকটাই সাধারণ ভাইরাসের মতো। গত সেপ্টেম্বরে কোনো নমুনাতেই এই ধরন শনাক্ত হয়নি। তবে জানুয়ারির শেষের দিকে তা শনাক্ত হয়। যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরনের চেয়ে এটি বেশ আলাদা।

এই গবেষণা দলের প্রধান ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ফ্রান্সিসকোর ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবের সহযোগী পরিচালক চার্লস চিউ বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরনটি অনেক বেশি সংক্রামক।

এই গবেষকেরা বলছেন, প্রমাণ পাওয়া গেছে, করোনার নতুন এই ধরন অনেক ভয়ংকর। এর সংক্রমণে অন্য আরও ভয়াবহ রোগ হচ্ছে। এই রোগীদের অনেক বেশি অক্সিজেনের দরকার হয়।

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন