default-image

নিউইয়র্কে ঘরে বসে লটারি খেলার সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের নিয়ন্ত্রকেরা ‘স্ক্র্যাচ অব লটারি’ নামের জনপ্রিয় লটারি নিজের মোবাইল ফোনেই খেলার সুযোগ করে দিচ্ছেন। প্রযুক্তিকে ধারণ করে লটারি (জুয়া) খাতে রাজ্যের রাজস্ব বাড়ানোর জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন মূল্যমানের ‘স্ক্র্যাচ অব লটারি’ এখন খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনতে হয়। মুদি দোকানসহ নিউইয়র্কের পাড়া মহল্লার দোকানেও পাওয়া যায় ‘স্ক্র্যাচ অব লটারি’। কাগজে ছাপা এসব লটারি কিনে ক্র্যাচ করে জয়ী নম্বর মেলাতে হয়। এক ডলার থেকে শুরু করে তিন লাখ ডলার পর্যন্ত জিতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এসব লটারিতে। এসব লটারি কেনার জন্য রাজ্য অনুযায়ী আইনে প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হয়।

নিউইয়র্কের রাজ্য গ্যাম্বলিং কমিশন চলতি সপ্তাহেই ‘স্ক্র্যাচ অব লটারি’র অ্যাপস চালুর অনুমোদন দিয়েছে। এটা চালু হলে মেগা মিলিয়নসহ অন্যান্য লটারির মতো ‘স্ক্র্যাচ অব লটারি’ও ক্রেতারা নিজের হাতে থাকা ফোনের মাধ্যমে কিনতে পারবেন। ৬০০ ডলারের নিচে জিতরে অনলাইনেই নগদ পুরস্কার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করে নেওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

এ নিয়ে নাগরিক ও খুচরা বিক্রেতাদের উদ্বেগ থাকলেও বলা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের লোকজনকে আকৃষ্ট করার জন্য এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে স্ক্র্যাচ অব লটারি আরও জনপ্রিয় হবে বলে রাজ্য নিয়ন্ত্রকেরা মনে করছেন।

জ্যাকপকেট নামের প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী পিটার সুলিভান বলেছেন, বাবা-দাদাদের সময়ের পরিবর্তন ঘটেছে। এখন একটা লটারি কেনার ছেলে মেয়েরা গলির মোড়ের দোকানে যাবে না। নতুন প্রজন্মের জন্য লটারি কেনা এমন সহজলভ্য করা ক্রেতা ও রাজ্যের জন্য ভালো হবে বলে তিনি মনে করেন।

নিউইয়র্কের রাজ্য গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো নিজেও এ ধারণার পক্ষে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় বর্ধিত কুইক ড্র গেম নামের জুয়া খেলার মেশিন স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন গভর্নর কুমো।

করোনা মহামারি ও দীর্ঘ লকডাউনের কারণে লটারি খাতে নিউইয়র্ক রাজ্যের আয় কমে গেছে। এ খাতে বছরে সোয়া দুই বিলিয়ন ডলারের আয়ের ৯ শতাংশ নিউইয়র্কের শিক্ষা খাতে অনুদান হিসেবে যাওয়ার কথা।

নিউইয়র্ক অ্যাসোসিয়েশন অব কনভেনিয়েন্স স্টোরসের প্রেসিডেন্ট জিম ক্যালভিন বলেছেন, নিউইয়র্কের পুরো জুয়া ব্যবস্থাকে অনলাইনভিত্তিক করে ফেলার এ পদক্ষেপ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ নিয়ে তাঁদের তীব্র ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন জিম ক্যালভিন।

নিউইয়র্কের প্রবীণ নাগরিক সংগঠক সুব্রত বিশ্বাস বলেছেন, নিউইয়র্কের একজন বাসিন্দা হিসেবে এমন সংবাদে আমাদের খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। অ্যাপসভিত্তিক এমন স্ক্র্যাচ অব লটারি খেলার সুযোগ সৃষ্টি হলে নতুন প্রজন্মের কাছে জুয়া খেলার চর্চা বাড়বে। হাতের মুঠোয় সহজেই এমন লটারি কেনার জন্য ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারসহ নানা সংকট ও বিরূপ প্রভাব সমাজে দেখা দেবে বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন