করোনাভাইরাসে (কোভিড–১৯) মৃত্যুপুরী হয়ে ওঠা নিউইয়র্ক নগরে ধীরে ধীরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসছে। তবে কোলাহলের এই নগরে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য এখনো শুরু হয়নি। নিউইয়র্কে নতুন আসা লোকজন চায় একটি বাড়ির মালিক হতে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন থেকে এ নগরের জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া অনেক মানুষকে আবার দেখা যায় এই নগর ছেড়ে চলে যেতে। উচ্চবিত্তরা নগরের জীবন ছেড়ে এক সময় প্রান্তিক এলাকায় বসত করে। আসা–যাওয়ার এই দোলাচলে নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসা সব সময় জমজমাট থাকে।

তবে এবার করোনাকালে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। করোনার প্রকোপ কিছুটা কমে আসার পর নিউইয়র্ক নগরের অনেক মানুষ ঘরবাড়ি বিক্রি করতে চাচ্ছেন। অনেকে ঘরবাড়ি কেনার চেষ্টা করছেন। তবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল না হওয়ায় সেভাবে জমে উঠছে না আবাসন ব্যবসায়। বেশ অস্থিরতার মধ্যেই এই ব্যবসা চলছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার প্রথম শর্ত, ভালো সুদ হারে গৃহ ঋণ পাওয়া। নগদ কিছু অর্থ হয়তো আছে। গৃহ ঋণের সুদও অনেক কম এখন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এখন গৃহঋণের আগাম অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কোভিড-১৯ বিপর্যয়ের পর নিউইয়র্কে এখনো বেকারত্বের হার ১৫ শতাংশের কাছাকাছি। কর্মহীন এসব লোকজনের হাতে নগদ কিছু অর্থ থাকলেও গৃহঋণ অনুমোদন পাওয়ার মতো অর্থের প্রবাহ তারা দেখাতে পারছেন না। একই অবস্থা ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যে। যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায় জড়িত তারাও ঋণ পাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

ভাড়াটে ও বাড়ির মালিকদের মধ্যে সমস্যা চলছে। একদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভাড়াটেদের উচ্ছেদ করা যাবে না । এ সুযোগ নিচ্ছেন অনেক ভাড়াটে। হাজার হাজার বাড়ির মালিক ঘর ভাড়া আদায় করতে পারছেন না। এসব ভাড়াটেকে উচ্ছেদের মামলাও করতে পারছেন না তাঁরা। অনেকেই দুই ফ্যামিলির বাড়ি কিনে এক অংশ ভাড়া দিয়ে থাকেন। এসব খুদে বাড়ির মালিকেরা আছেন চরম বিপাকে।

অনেকেই আশা করছেন, ফেডারেল সরকার নতুন নাগরিক প্রণোদনা দেবে। এ প্রণোদনায় ভাড়াটেদের জন্য প্রণোদনা থাকবে। কেউ মনে করছেন, বাড়ির মালিকদেরও কোন প্রণোদনা দেওয়া হবে। বিভিন্ন উদারনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে এমন আশ্বাস বাণীর কথা শুনেই অনেকে ধরে নিয়েছেন, কিছু আসবে। অবশ্য আরেক দফা নাগরিক প্রণোদনা নিয়ে এখনো কেবল আলোচনাই চলছে। আলোচনায় কোন অগ্রগতি নেই। মধ্য সেপ্টেম্বরে কংগ্রেস আবার কাজে ফিরলে কিছু একটা সুরাহা হবে বলে আশা করছেন অনেকেই।

ভাড়াটে ভাড়া না দিলেও বাড়ির মালিককে ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল পরিশোধ তরে সংযোগ চালু রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি বকেয়া গৃহঋণও শোধ করতে হচ্ছে। ভাড়াটেদের অনেকের কাজ–কর্ম নেই। যারা রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন, উবার, ট্যাক্সি চালাতেন তাদের আয় কমে যাওয়ায় নতুন বাড়ি কেনা দুরূহ হয়ে উঠেছে।

নিউইয়র্কে আবাসনের ব্যয়বহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত ম্যানহাটনে ব্যবসা-বাণিজ্য এখনো স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। করোনায় এ নগরে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর পর অনেক নগর ছেড়ে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন তাদের কার্যালয় স্থানান্তর করছে বা কর্মীদের রিমোট কাজের সুবিধা দিচ্ছে । ফলে ম্যানহাটনে করোনার আগে যে আবাসন ব্যবসার অবস্থা ছিল, তা এখন নেই । কবে ফিরবে তা কেউ বলতে পারছেন না।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংক রেট নামক গৃহঋণ সংস্থার প্রধান গ্রেগ ম্যাকব্রাইড বলেন, ২০২১ সালে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ গৃহঋণ খেলাপি দেখা যাবে। নিউইয়র্ক নগরের কর্মসংস্থান স্বাভাবিক হওয়া ও খেলাপি ঋণ থেকে ঋণগ্রহীতা বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায় অস্থিরতা থাকবে।

রিয়েল এস্টেট এজেন্টরা বলছেন, প্রচুর বাড়ি কেনাবেচার বাজার আছে। বাজারে ক্রেতাও আছেন। কিন্তু বাড়ি কেনার আগে চলমান অস্থিরতা কিছুটা দেখে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন ক্রেতা–বিক্রেতারা।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন