default-image

নিউইয়র্কের রেস্তোরাঁ ব্যবসায় গ্রাহক শূন্যতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ম্যানহাটনের রেস্তোরাঁগুলোতে গ্রাহকের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। দিনে কিছু কিছু রেস্তোরাঁ খোলা থাকলেও গ্রাহকের অভাবে সন্ধ্যার পরই তা বন্ধ হয়ে যায়।

আগে শুক্র-শনিবার ম্যানহাটনের রেস্তোরাঁগুলোতে কয়েক গুণ বেশি বিক্রি বেড়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে উল্লেখযোগ্য কোনো বিক্রি নেই বলে জানিয়েছেন মালিকেরা। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, করোনার ভয়ে মানুষ বাসা থেকে বের হন না। বর্তমানে নগরীর সব রেস্তোরাঁয় ইনডোর ডাইনিং বন্ধ। তবে অ্যাপসভিত্তিক ডেলিভারি চালু রয়েছে।

আজ শুক্রবার রাজ্য গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো রেস্তোরাঁয় ইনডোর ডাইনিং চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন বলে জানানো হয়েছে।

ম্যানহাটন ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের পরিসর ছোট হয়ে আসছে। নগরীর কয়েক শ রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। করোনার কারণে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা ব্যবসা আবার চালুর বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আর যেসব প্রতিষ্ঠান খোলা আছে সেসবের অনেকগুলোই গ্রাহকের অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অনেক ব্যবসায়ী নিয়মিত প্রতিষ্ঠানের ভাড়াও পরিশোধ করতে পারছেন না।

বিজ্ঞাপন

গত দুই মাস আগের নিউইয়র্ক নগরীর এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় কয়েক শ রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। এই সংখ্যা আরও বাড়ছে। বন্ধ হওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরকারি সহায়তা পেলেও ব্যবসার ধীর গতি তথা বিক্রি কমে যাওয়ায় সরকারি সহায়তার ডলারও শেষ হয়ে গেছে। আরও এক ধাপ সহায়তার ঘোষণা দিলেও এ দফায় বেশি ডলার পাওয়ার আশা নেই ব্যবসায়ীদের। কারণ ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সরকারের নতুন নীতিমালায় প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর ম্যানহাটনের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ। হাতে গোনা কয়েকটি খোলা থাকলে গ্রাহকদের পদচারণা নেই বললেই চলে।

লেক্সিংটন অ্যাভিনিউ ও ২৮ স্ট্রিটে একাধিক বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে। করোনার আগে এসব এলাকায় রেস্তোরাঁর জমজমাট ব্যবসা হয়েছে। এখন সেখানে গ্রাহক শূন্যতা দেখা দিয়েছে।

ক্যাবচালক আমির উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয় সেখানে। তিনি বলেন, এখানে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ আছে। কিন্তু এখন খোলা আছে মাত্র একটি রেস্তোরাঁ। ওই রেস্তোরাঁতেও গ্রাহক তেমন নেই।

মেক্সিকান ফুড ব্যবসায়ী মার্কো বলেন, বেশ কয়েক মাস হয় তিনি রেস্তোরাঁ বন্ধ করে রেখেছেন। গ্রাহকদের বাইরে বসার জায়গাও করেছিলেন তিনি। তবুও গ্রাহক আসেন না। করোনার কারণে রেস্তোরাঁয় আসতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নগর কর্তৃপক্ষ ইনডোর ডাইনিং বন্ধ করার পর বাইরে অস্থায়ী টংয়ে গ্রাহকদের বসার অনুমতি দেন। কিন্তু সেখানে ঠান্ডা ও রেস্তোরাঁর ভেতরের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় গ্রাহকেরা বসতে আগ্রহী নন। এ কারণে সেখানেও বিক্রিবাট্টা নেই বললেই চলে।

রেস্তোরাঁর ব্যবসা প্রসঙ্গে জেবিবিএর সভাপতি শাহ নেওয়াজ বলেন, করোনায় অনেক ব্যবসা ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর আলোর মুখ দেখবে কিনা জানি না। তবে আমরা আশাবাদী, করোনা চলে গেলে আবার বন্ধ হওয়া রেস্তোরাঁ চালু হবে।

ব্রুকলিনের ব্যবসায়ী নিখিল বাবু বলেন, ব্যবসায় চরম মন্দা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানের ভাড়া পরিশোধ করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এই নাজুক পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য সবার প্রার্থনা করা উচিত।

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন