default-image

করোনা মহামারির কারণে থমকে আছে সারা বিশ্ব। এর প্রভাবে ২০২০ সালে বিশ্বের সংগীতাঙ্গনও ‌অনেকটা থমকে ছিল। গত বছর বাংলাদেশের কণ্ঠশিল্পীদের গানের সংখ্যা সীমিত ছিল। তবে পশ্চিমা ধারার শ্রোতারা একেবারে বঞ্চিত হননি। আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন প্রজন্মের শিল্পীর সংখ্যা বেড়েছে বেশ। তাদেরই একজন নতুন প্রজন্মের উদীয়মান শিল্পী গৌরব গল্প।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে শব্দ প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা ও ধ্রুপদি সংগীতের দীক্ষা নেওয়া গৌরব গল্পের মিউজিক ভিডিও ‘এলোমেলো কল্পনা’ মুক্তি পায় গত ১২ ডিসেম্বর। এটি তাঁর তৃতীয় মিউজিক ভিডিও। গানটির কথা ও সুর করেছেন কে জিয়া। সংগীতায়োজন করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিল্লা।

এর আগে বঙ্গবিডির ব্যানারে প্রলয় সমদ্দারের কথা এবং গৌরব গল্পের সুরে ও ফাহাদের কম্পোজিশনে প্রথম মৌলিক গানের ভিডিও ‘কখনো’ এবং ‘আমার ভালোবাসা’ গান দুটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। ইউটিউব চ্যানেলে (https://youtu.be/7KncSO6pKgs) শ্রোতা-দর্শকেরা গানগুলো উপভোগ করতে পারবেন।

সংগীতকে একটি স্বাধীন ভাষা বলে মনে করেন গল্প। তাঁর দৃষ্টিতে, গানের মূল বিষয় সুর। গান সুরেলা না হলে গানকে অসম্মান করা হবে। গানে স্ল্যাং শব্দ ব্যবহারের ঘোর বিরোধী তিনি। তিনি বলেন, ‘গানের শব্দ হতে হবে শৃঙ্খলাবদ্ধ। গান আমাদের জীবনে অনেকটা পবিত্র গ্রন্থের মতো।’

বিজ্ঞাপন

নিজের সংগীত ভ্রমণ সম্পর্কে গল্প জানান, ২০০৫ সালে ওস্তাদ টিপু স্যারের কাছ থেকে সংগীতের তালিম নেওয়া শুরু করেন তিনি। তারপর এক সময়কার সোলস ব্যান্ডের কি-বোর্ডিস্ট হেমলেট তূষারের কাছ থেকে কি-বোর্ড বাজানো শেখেন। এভাবেই গানের জগতে প্রবেশ করেন তিনি।

গল্পের গানের মূল ভাব ও ধারা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মূল থিম গান। মিউজিক ভিডিও আমার এলিমেন্ট। আমি একজন শিল্পী। আমার গানের মূল ধারা মেলো-রক, প্রতিটা গানেই আমি সেটা বজায় রাখার চেষ্টা করি। তবে মিউজিক সেট-আপে পার্থক্য থাকে।’

গল্প জানান বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে যাওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম অনেকটাই পশ্চিমামুখী। তাদের আমি বোঝাতে চাই যে, পশ্চিমা ধারাতেও আমরা বাংলাকে নিয়ে যেতে পারি; করতে পারি সমৃদ্ধ।’

বাংলা গানে র‌্যাপ ধাঁচ আনার কারণ সম্পর্কে গল্প বলেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্ম, শ্রোতা বা শিল্পীদের মধ্যে যারা পশ্চিমা ধারা পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে রিমিক্সের মাধ্যমে বাংলাকে পৌঁছে দিতেই এ ধাঁচকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।

প্রবাসের সঙ্গে দেশীয় শিল্পীদের থাকা ব্যবধান সম্পর্কে গল্প বলেন, ‘মর্যাদা বিবেচনায় দেশীয় শিল্পীদের তুলনায় প্রবাসী শিল্পীরা পিছিয়ে। শুধু বাংলাদেশি শিল্পীদের ভালোবাসা নয়, প্রবাসে থাকা সংগীত শিল্পীদের সংগীত জগতে উৎসাহিত করতে সমান মর্যাদা ও সম্মান দিতে হবে। তা না হলে আমাদের মতো প্রবাসী শিল্পীরা একদিন হারিয়ে যাবে। সংগীতকে বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে।’

গল্প জানান, তাঁর আজকের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছেন তাঁর মা-বাবা, বড় বোন এবং তাঁর সহধর্মিণীর উৎসাহ ও ‌অনুপ্রেরণা। সংগীত মানুষের জীবনে একটি ওষুধের মতো কাজ করে বলে মনে করেন গল্প। তিনি বলেন, ‘সংগীত একটা ধ্যান। শরীরের অসুখ সারাতে যেমন রাসায়নিক ওষুধের দরকার, তেমনি রাগ, ক্ষোভ, হতাশাসহ বিভিন্ন মনের অসুখ থেকে সেরে উঠতে ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সংগীত দরকার।’

গৌরব গল্প মিউজিক সফটওয়্যারের ওপর ডিপ্লোমা করেছেন হলিউড থেকে। প্রায় সব বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী তিনি। পিয়ানোর স্টাফ নোটেশনে রয়েছে তাঁর জাদুকরী দখল। এ ছাড়া ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যান্ড ‘সরাজ’-এর সঙ্গে মূল ভোকাল ও কি-বোর্ডিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। সরাজ থেকে বেশ কিছু ট্রিবিউট গানও করেছেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রীসহ বাস করছেন ভার্জিনিয়ার স্প্রিং হিলসে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন