default-image

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণের সুদের হার এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ফলে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্রেতা বেড়েছে। অনেকে এখন বাড়ি কিনতে বেশ উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। আর ক্রেতার বাড়তি চাপের কারণে বাড়ির দাম স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় সুযোগ আসলেও অনেক কিছু ভাবনা–চিন্তা করে ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এরই মধ্যে আবাসন সংক্রান্ত নানা খবর থেকে জানা যাচ্ছে, এখন ক্রেতার তুলনায় বাড়ির মজুত কম। এতই কম যে, নিউইয়র্কসহ কোনো কোনো নগরে একই বাড়ির জন্য ১০–১৫ জন ক্রেতা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। এসব ক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের আগে আসলে আগে পাবেন নীতি মেনে চলতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিক্রেতার চাওয়া দামের চেয়েও বেশি দামে বাড়ি বিক্রির অফার দেওয়া হচ্ছে।

নিউইয়র্কে বিক্রি হওয়া প্রতি পাঁচটি বাড়ির মধ্যে একটি বাড়ি বিক্রেতার চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে ক্রেতারা আগ্রহী বলে জানা যাচ্ছে। ভালো বাড়িগুলো ব্যবসায়ীরা নগদ অর্থে কিনে নিচ্ছেন। যার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের বাড়ি ক্রয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্রেতা আবার বাড়ির দামের অ্যাপ্রেইজাল (মূল্য নির্ধারণ) নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। যেসব ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি অফার থাকে, সেসব ক্ষেত্রে অ্যাপ্রেইজাল নিয়ে ভাবার কোনো অবকাশ থাকে না।

বিজ্ঞাপন

যেসব ক্রেতা বেশি ডাউন পেমেন্ট দিচ্ছেন, তাদের জন্য শুধু অ্যাপ্রেইজাল নয়, ভবিষ্যতে বাড়ির ব্যয়ভার বহন করাও কঠিন হবে না। কিন্তু যারা ৮০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বাড়ি কিনছেন, তাদের সতর্ক থাকা খুবই প্রয়োজন।

শুধু ভাড়াটিয়ার ওপরে নির্ভর করে থাকলে হবে না। বাড়ির মাসিক কিস্তি ও অন্যান্য ব্যয় চালিয়ে নেওয়ার মতো নিজেদের সামর্থ্য থাকতে হবে। সাধারণত, যুক্তরাষ্ট্রের আইন ভাড়াটিয়াদের পক্ষে কাজ করে। এক সময় ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে অসম্মতি জানালে বাড়ির মালিককে আইনের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া তাদের উচ্ছেদ করার আর কোনো উপায় থাকে না। আর এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার জন্য কমপক্ষে চার থেকে ছয় মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই, চড়া দামে বাড়ি কেনার আগে ভালো করে ভেবে দেখতে নানা মহল থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন