default-image

করোনা মহামারির শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লোকজনের এক শহর থেকে অন্য শহরে স্থানান্তর বেড়েছে। এতে বাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা ভালোই চলছিল। তবে বর্তমানে বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতা থাকলেও নেই বাড়ির বিক্রেতা। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত বাড়ির সংখ্যা অনেক কমেছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

দ্য ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েল্টরস (এনএআর) বিক্রিযোগ্য বাড়ি পর্যবেক্ষণ করে থাকে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিক্রির জন্য উপযুক্ত বাড়ির সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে বলে সংস্থাটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক সব ক্ষেত্রেই করোনা মহামারির প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে লোকজন এমন সব শহরে স্থানান্তরিত হচ্ছে, যেখানে জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধ্যের অনুকূলে রয়েছে। স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে বাড়ির দাম ও বাড়ি ভাড়া। নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বড় বড় শহরে বাসা ভাড়া ও বাড়ির দাম বেশি হওয়ায় বর্তমানে লোকজন একটু ছোট শহর এবং গ্রামাঞ্চলের দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

বিভিন্ন শহরে লোকজনের স্থানান্তরের হার সম্প্রতি বেড়ে যাওয়ায় এতে একদিকে যেমন নির্দিষ্ট শহরে বাড়ির চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে যেসব শহর থেকে মানুষ স্থানান্তরিত হচ্ছে সেখানে বাড়ি খালি পড়ে আছে।

বিজ্ঞাপন

যেসব শহরে অত্যধিক হারে লোকজন স্থানান্তরিত হচ্ছে সেখানে বাড়ির চাহিদা থাকলেও বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত বাড়ির অভাব দেখা দিয়েছে। আবার যেসব শহর থেকে লোকজন স্থানান্তরিত হয়ে আসছে সেখানে বাড়ির দাম কমে যাওয়ায় মালিকপক্ষ বর্তমান সময়ে বাড়ি বিক্রি করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে।

অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি কিনে থাকেন। যা মর্টগেজ নামে পরিচিত। বর্তমান সময়ে এ ঋণের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বনিম্ন সুদ প্রদানের সুযোগ এসেছে। এ কারণে অনেকে বাড়ি কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু কেনার মতো পর্যাপ্ত বাড়ির অভাব থাকায় ক্রেতার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

এনএআর থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যা সবচেয়ে কম। ২০২০ সালের এ সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বাড়ি না থাকা, ধীরে ধীরে ব্যাংক ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়ার জন্য চলতি বছর বাড়ি কেনাবেচার হার অনেকটাই কমে আসবে।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন