বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডেমোক্রেটিক দলের আটজন প্রার্থী চষে বেড়াচ্ছেন পুরো নগর। জনমত জরিপ ওঠানামা করছে পারদের মতো। নির্বাচনী প্রচারের শুরুর দিকে জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন ব্যবসায়ী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সাবেক প্রার্থী অ্যান্ড্রু ইয়াং। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে ফেলেছেন নিউইয়র্ক পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা এরিখ এডামস। নগরের সাবেক স্যানিটেশন কমিশনার ক্যাথরিন গার্সিয়াও হঠাৎ করে চলে এসেছেন সামনের সারিতে।

ফন্টাস অ্যাডভাইজরস অ্যান্ড কোর ডিসিশন অ্যানালিটিক নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, এখনো সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন অ্যান্ড্রু ইয়াং। নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিকে আগে ভাগেই ব্যাপক প্রচারণা চালানো অ্যান্ড্রু ইয়াংয়ের সঙ্গে এরিখ এডামসের জনপ্রিয়তার ব্যবধান ছিল ১৬ শতাংশ।

প্রভাবশালী পক্ষগুলোর টানা সমর্থন ঘোষণার পর নিউইয়র্কে মাঠের রাজনীতিক ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এরিখ এডামস এ ব্যবধান কমিয়ে এনেছেন ৮ শতাংশে। এর মধ্যে ক্যাথরিন গার্সিয়াও উঠে আসছেন। সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে, ক্যাথরিন গার্সিয়া প্রচারের শুরুর দিকে বেশ পেছনে ছিলেন। শুরুতে দলের ভোটারদের মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ সমর্থন থাকলেও এখন দেখা যাচ্ছে, ভোটারদের কাছে তাঁর ৮ শতাংশ সমর্থন রয়েছে।

আট প্রার্থীর মধ্যে অন্য শক্তিশালী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—নিউইয়র্কে বনেদি ডেমোক্র্যাট বলে পরিচিত নগরের কম্পট্রোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্কট স্ট্রিঙ্গার, সাবেক মার্কিন গৃহায়ণমন্ত্রী শন ডোনোভান, সিটি করপোরেশনের সাবেক নির্বাহী রে ম্যাকগোয়ার ও মেয়র বিল ডি ব্লাজিওর সাবেক আইন উপদেষ্টা মায়া উইলি।

ক্যাথরিন গার্সিয়া প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের সমর্থন পাওয়ায় হঠাৎ জনমত জরিপে এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। রে ম্যাকগোয়ার ও শন ডোনোভান নির্বাচনী প্রচারে লাখো ডলার ব্যয় করছেন। নিউইয়র্ক নগরের সাধারণ ভোটারদের কাছে তাঁদের নাম পৌঁছানোর এ প্রয়াসে নগর সরগরম হয়ে উঠেছে।

জনমত জরিপে অ্যান্ড্রু ইয়াং ও এরিখ এডামসকে এখনো প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছে। নগরে ক্রমশ বেড়ে ওঠা হিস্পানিকদের মধ্যে এ দুই প্রার্থীর অবস্থান সমান সমান। এরিখ এডামস ব্যাপকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ ভোট পাবেন আর অ্যান্ড্রু ইয়াং এশীয়দের ভোট পাবেন বলে আশা করছেন। ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের এরিখ এডামসের জনপ্রিয়তা বেশি দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও নিউইয়র্কের অর্ধেকের বেশি লোকজন জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো কোনো প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেননি। তাই এখনই বলা যাচ্ছে না, ডেমোক্রেটিক দলের মেয়র প্রার্থীর পদে কে জয়ী হবেন। ১২ জুন থেকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আগাম ভোট দেওয়া যাবে। দলের নিবন্ধিত ভোটাররাই কেবল স্ব স্ব দলের প্রাইমারিতে ভোট দিতে পারবেন।

বহু জাতিগোষ্ঠীর নগর হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিদের আবাসন ঘটলেও এ নগরের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিরা এখনো উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারেননি। দেশের রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে নগরের জ্যাকসন হাইটস, ব্রঙ্কস, জ্যামাইকা, ব্রুকলিন ও ওজন পার্কে নিত্যদিন স্বদেশিদের কোলাহল থাকলেও মেয়র নির্বাচন নিয়ে তাঁদের মধ্যে মধ্যে তেমন কোনো ঐক্যবদ্ধ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

অবশ্য এর মধ্যে এগিয়ে থাকা চার মেয়র প্রার্থীকে নিয়েই নিউইয়র্কে কিছু সংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসীদের সভা করতে দেখা গেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ ও ট্রাফিকে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এরিখ এডামসকে সমর্থন জানিয়েছেন। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সাংগঠনিকভাবে এরিখ এডামসের প্রতি তাঁদের সমর্থন ঘোষণা করেছে।

অল্প বয়সী বাংলাদেশি প্রজন্মের কাছে অ্যান্ড্রু ইয়াংয়ের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাঁকে নিয়ে সমাবেশ করেছেন আমেরিকান বাংলাদেশি যুব প্রজন্মের কিছু লোকজন। বনেদি ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত স্কট স্ট্রিঙ্গার ও ক্যাথরিন গার্সিয়ার প্রতিও কিছু বাংলাদেশি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের নিয়েও একাধিক সমাবেশ করেছেন বাংলাদেশিরা। ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো প্রার্থীর পক্ষে বাংলাদেশিদের এখনো কোনো অবস্থান লক্ষ্য করা যায়নি।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের মধ্যে ভোটার তালিকাভুক্তি এবং ভোট প্রদানের হার খুবই কম। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিকে জটিল মনে করেন প্রথম প্রজন্মের অনেক প্রবাসী। অনেকেই ভোট প্রদানের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনুধাবনই করতে পারেন না। ফলে ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে স্বদেশি সভা-সমাবেশ, বনভোজন আর স্বদেশি সমিতির আনুষ্ঠানিকতায় ঘুরপাক খাচ্ছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনসমাজ।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন