নিউইয়র্কে করোনাভাইরাসের প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে বলা যায়। নগরের সবকিছুই খুলে দেওয়া হচ্ছে ধাপে ধাপে। তবে নিউইয়র্কের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রেস্তোরাঁ পুরোদমে খোলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমতি দেওয়া হয়নি রেস্তোরাঁয় বসে খাবারের। গ্রাহকদের খেতে হয় রেস্তোরাঁর বাইরে ফুটপাথ বা খোলা জায়গায় বসে। রেস্তোরাঁ, পানশালা পুরোপুরি খুলে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে এখনো অটল রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ও নগরের মেয়র বিল ডি ব্লাজিও। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কুমো ও ব্লাজিওর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কুইন্সের রেস্তোরাঁর মালিক টিনা ওপেডিসন।

২৪ ঘণ্টা চালু এই নগরের রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো পরিবার। কর্মচারীদের অধিকাংশই অভিবাসী। কয়েক হাজার বাংলাদেশিও এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। করোনায় বেঁচে গেলেও এখন অন্ধকার দেখছেন রেস্তোরাঁ মালিক-কর্মচারীরা। নগরের সাধারণ জনগণও প্রাত্যহিক জীবনযাপনে ছন্দে ফিরতে পারছে না। অথচ একই রাজ্যের নাসাউ কাউন্টিতে রেস্তোরাঁর ভেতরে খাবার খাওয়ার অনুমতি দিলেও কুইন্স ও অন্যান্য শহরে বিধিনিষেধ এখনো বলবৎ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

টিনা ফক্স নিউজকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে মেয়র বিল ডি ব্লাজিও মন্তব্য করেছিলেন, রেস্তোরাঁর ভেতরে খাবারের ব্যবস্থা কেবল মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের জন্য। আমার কাছে এটি খুবই হাস্যকর, সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।’

টিনা আরও বলেন, ‘আমার রেস্তোরাঁ থেকে মাত্র ৫০০ ফুট দূরে ভেতরে খেতে দেওয়া হয়েছে। আর আপনি কুইন্স সীমানায় প্রবেশ করলে অথবা পাঁচটি বারোতে প্রবেশ করলেই রেস্তোরাঁর ভেতরে বসে খাবারের অনুমতি নেই।’

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে এমনিতেই ধস। ভেতরে খাবারের অনুমতি না দিলে রেস্তোরাঁ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে বলে নোটিশ দেন টিনা। ইতিমধ্যে অন্য রেস্তোঁরা মালিকরা ব্যবসা গুটিয়ে চলে গেছেন বলে এতে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ম্যাক্স রোজ ফক্স নিউজে বলেন, নগরের মেয়র মহামারির এই সময় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের মেরে ফেলেছেন। অতি দ্রুত এর সমাধান না করলে বাকি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের কপাল পুড়বে।

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের স্পিকার কোরি জনসন ২ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বলেন, বিষয়টি জটিল হলেও নিউইয়র্কের রেস্তোরাঁগুলো অবিলম্বে পুরোদমে খুলে দেওয়া উচিত। ইনডোর ডাইনিং বা ভেতরে বসে খাবার গ্রহণের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত ধারণ ক্ষমতার কম ও নির্দেশনা কঠোর করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

নিউইয়র্ক নগরের রেস্তোরাঁ এখানকার পর্যটন শিল্পের অন্যতম আকর্ষণ। বছরের এ সময়ে রেস্তোরাঁগুলো জমজমাট থাকে। নগরের বেশির ভাগ মানুষই সপ্তাহের বেশ কয়েক দিন রেস্তোরাঁয় খেয়ে থাকে। নানা জাতিগোষ্ঠীর খাবার বৈচিত্র্য নিয়ে নিউইয়র্ক সময় সরগরম থাকে। এখন সীমিত অনুমোদন দেওয়া হলেও রেস্তোরাঁর মালিকেরা সীমিত পরিসরে ফুটপাথে খাবার সরবরাহ করে বা ডেলিভারি, পিক আপ অর্ডার নিয়ে পুষিয়ে উঠতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার শীত শুরু হবে। এর মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে বাইরে বসে খাবার গ্রহণের ব্যবস্থাটাও আর চালু রাখা যাবে না।

অবশ্য মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বলেছেন, তিনি আশা করছেন, এ মাসের মধ্যেই এ নিয়ে একটা নির্দেশনা দিতে পারবেন। তবে রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো বলেছেন, নিউইয়র্ক নগরে রেস্টুরেন্ট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে হবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ নিয়েও স্বাস্থ্যসেবীদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে নগরের রেস্তোরাঁগুলো সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন