করোনা মহামারির দুঃসময়ে কয়েক শ কমিউনিটি সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব সংগঠনের সংবিধানে কমিউনিটি সেবার কথা স্পষ্টভাবে লেখা থাকলেও বেশির ভাগ সংগঠনকে সুবিধাবাদী কার্যক্রম ছাড়া সমাজসেবামূলক তেমন কোনো কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশিরা নিজ জেলা–উপজেলা অনুযায়ী তৈরি করেছেন কমিউনিটি সমাজসেবামূলক সংগঠন। দেশের বিভিন্ন স্কুল–কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইয়ের অনেক সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বাকিদের বনভোজন পার্টি ছাড়া তেমন কোন কার্যক্রম নেই। অনেক সংগঠন দেশ থেকে আসা রাজনৈতিক বা বিশেষ ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়ার কাজটি করতে ব্যস্ত থাকেন।

নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি সমিতি, অ্যালামনাই মিলে পাঁচ শতাধিক সংগঠন রয়েছে। সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজেদের সব সময় কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট বলে দাবি করেন। নিজেদের যেকোনো কার্যক্রম গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করতে পছন্দ করেন। তালিকায় শত শত সংগঠনের অস্তিত্ব থাকলেও সেবামূলক কাজে তাদের দেখা যায়নি। বেশির ভাগ সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা করোনাকালে কমিউনিটির মানুষ বা স্বজনদের খোঁজখবরও রাখেননি। অনেকেই তাদের নিজের মুঠোফোনও বন্ধ রাখেন। বেশির ভাগ সামাজিক সংগঠনের নেতাদের মানুষের সুবিধা–অসুবিধায় পাওয়া যায়নি। জ্যামাইকায় বসবাসরত রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, করোনায় আমি ও আমার পরিবারের লোকজন অসুস্থ ছিল। আমাদের সমিতির কারও সঙ্গে যে শলাপরামর্শ বা সহযোগিতা চাইব, সে রকম কাউকে পাইনি।

বিজ্ঞাপন

ব্রুকলিনের আলাউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘করোনায় আমি পরিবারের একজন সদস্যকে হারিয়েছি। মরদেহ দাফন কোথায় করব এবং হাসপাতাল থেকে কীভাবে মরদেহ আনব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। নিজ এলাকার সমিতির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। কারণ তাদের কোন কবর কেনা ছিল না। পরে বাংলাদেশ সোসাইটির সহযোগিতায় আমরা তাঁর লাশ দাফন করি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রঙ্কস, জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকার তিন পরিবারের প্রধান অভিভাবক মারা গেছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা শিশু সন্তানদের নিয়ে বেশ কষ্টে আছেন। অথচ সমিতির পক্ষ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা বা অনুদান পাননি।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব সংগঠন–সমিতি শুধু বানানো হয়েছে নিজেদের প্রচারের জন্য, মানুষকে সহযোগিতার জন্য নয়।

মন্তব্য পড়ুন 0