বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কোভিড-১৯ কোনো চিহ্নিত অসুখ নয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত্যু সনদ দেওয়ার সময় মৃত্যুর কারণ হিসেবে সবক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়নি।

ফেমা অনুদান ঘোষণা করে আবেদনের সঙ্গে মৃত্যু সনদের প্রমাণ দিতে বলেছে। মৃত্যু সনদে কোভিড সংক্রমণের কারণে মৃত্যু হলে তাঁর জন্য অনুদান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে জমা দেওয়া আবেদনে বেশির ভাগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে কোভিড সংক্রমণের কথা লেখা নেই। আবেদনকারীদের বলা হচ্ছে, মৃত্যু সনদ সংশোধন করে নিয়ে আসার জন্য।

এদিকে মৃত্যু সনদ সংশোধন করতে অধিকাংশ চিকিৎসকই সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা বলছেন, আগের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখন আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার অবকাশ নেই। কোভিড-১৯ সংক্রমণের তাণ্ডবের সময় কোনো কোনো রাজ্যে প্রতিদিন হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে।

ফরেনসিক প্যাথোলজিস্ট প্রিয়া ব্যানার্জি বলেছেন, এখন পেছনে ফিরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ নেই। কোভিড-১৯ নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেছেন, এ রোগের নির্ণয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো স্বাস্থ্যসেবীদের হাতে নেই। নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া মৃত্যু সনদে পরিবর্তন আনারও কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রিয়া ব্যানার্জি বলেন, অনেকেই এ সুযোগে ভুয়া আবেদন করবে। মৃত্যু সনদ ঢালাওভাবে সংশোধনের ফলে ভুয়া আবেদনকারী অনুদান পেয়ে যেতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুয়া আবেদনকারীদের নিয়ে ফেমা আগে থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন রাজ্যে মৃত্যু সনদ সঠিকভাবে সংশোধন করে মৃত লোকজনের পরিবার বা স্বজনদের কাছে সাহায্য পৌঁছাতে দেরিও করতে ইচ্ছুক নয় ফেমা।

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলেছে, ফেমা এ সমস্যা নিয়ে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরিচালক র‌্যাচেল ওয়ালেনস্কিসহ কংগ্রেসওমেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ ও সিনেটর চাক শুমারের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন।

নিউইয়র্কের দুজন আইনপ্রণেতা সিনেটর চাক শুমার ও কংগ্রেসওমেন ওকাসিও নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত। এ দুজন আইনপ্রণেতার নির্বাচনী এলাকায় সবচেয়ে বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে।

সিনেটর চাক শুমার বলেছেন, তিনি নিউইয়র্ক রাজ্য ও নগর কর্তৃপক্ষসহ ফেমা কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আলাপ করছেন। বিশেষ ব্যবস্থায় মৃত্যু সনদ সংশোধন এবং দ্রুততার সঙ্গে অনুদানের অর্থ ভুক্তভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সমাধান হিসেবে বলা হচ্ছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণে মারা যাওয়া লোকজনের মৃত্যু সনদের সঙ্গে মূল চিকিৎসকের কাছ থেকে একটি আলাদা সনদপত্র চাওয়া হতে পারে। এ সনদপত্রে চিকিৎসক মৃত্যুর কারণ ব্যাখ্যা করে দিতে পারেন। হ্যারিকেন কার্টিনায় মারা যাওয়া লোকজনের স্বজন ও পরিবারকে এ প্রক্রিয়ায় ফেডারেল অনুদান দেওয়া হয়েছিল।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন