default-image

কমরেড বারীণ দত্তের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে ভার্চ্যুয়াল স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৩১ অক্টোবর স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় কমরেড বারীণ দত্ত নাগরিক স্মরণ সভা কমিটি যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত এ সভায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বিশিষ্টজনেরা যোগ দেন। কমরেড আলিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ রাজনীতিক মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস।

স্মরণ সভায় প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঐক্য ন্যাপের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য, কৃষক নেতা কমরেড আবদুল মালিক, প্রবীণ সাংবাদিক রণেশ মৈত্র, লেখক ও গবেষক তাজুল মোহাম্মদ, চারুকলা ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষক গোপেশ মালাকার, লেখক ও টিভি ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ প্রমুখ।

সভার শুরুতে কমরেড বারীণ দত্ত ও সম্প্রতি প্রয়াত কমরেড আইয়ুব আলীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে লেখক নাসরীন চৌধুরী কমরেড বারীণ দত্তের জীবনী পাঠ করেন।

মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ইতিহাসের যাত্রাপথে আমরা যেন নিজেদের মতো অবদান রাখতে পারি। কমিউনিস্ট আন্দোলনের জটিল পাঠ নিয়ে বারীণ দত্তরা তরুণ কমিউনিস্টদের শিক্ষা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিজমের সব আলামত এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশের মানুষের মধ্যে এক ধরনের নৈরাজ্যবাদী চিন্তা এখন প্রবল হয়ে উঠছে। এর মধ্যে নানা শক্তির উত্থান ঘটছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সাম্যবাদের প্রতিদিনের লড়াইয়ে বারীণ দত্তরা সদা উপস্থিত থাকবেন।

প্রগেসিভ ফোরামের সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম বলেন, আমিত্ব বিসর্জন দিয়ে দেশ ও প্রগতির লড়াই করেছেন বারীণ দত্তরা। সমষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে আদর্শবাদ বুকে ধারণ করার উদাহরণ রেখে গেছেন বারীণ দত্তের মতো নেতারা। চলমান সময়ের লড়াকুদের এ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য বারীণ দত্তের জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে গেরিলা যুদ্ধের জন্য ভারত সরকারের আলোচনায় বারীণ দত্তের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে নতুন ঐক্য করতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণের নির্বাচনের ব্যবস্থা করে বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের প্রয়াস নিতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে বারীণ দত্তর বীরত্ব আর ত্যাগের কথা আমাদের ছড়িয়ে দিতে হবে।

কৃষক নেতা কমরেড আবদুল মালিক উপমহাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনে বারীণ দত্তের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন। রণেশ মৈত্র বলেন, দেশে মৌলবাদের উত্থান ঘটছে। নতুন প্রজন্মকে মৌলবাদীরা বিভ্রান্ত করছে। আমাদের নিস্পৃহ থাকার আর কোনো অবকাশ নেই।

লেখক ও টিভি ব্যক্তিত্ব বেলাল বেগ বাংলাদেশ টেলিভিশনে কর্মকালীন বারীণ দত্তের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে এখন এক ঘোর অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাই আবার প্রগতির চেতনা সবার কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে।

কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম পত্রিকায় বারীণ দত্তর সংযুক্ত থাকার কথা জানা যায় তাজুল মোহাম্মদের আলোচনায়। পত্রিকায় বিভিন্ন নামে বারীণ দত্ত লিখেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট গড়ে ওঠার সময় বারীণ দত্ত জাতীয়তাবাদী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, আলোচনা করেন।

ঐতিহাসিক নানকার বিদ্রোহের অন্যতম লড়াকু ছিলেন বারীণ দত্ত। সিলেটের বিয়ানীবাজারে আশির দশকে নানকার বিদ্রোহের স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করতে বারীণ দত্তর আগমনের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন কমরেড আলীম উদ্দিন।

গোপেশ মালাকার বলেন, আদর্শের প্রশ্নে অবিচল মানুষ হিসেবে বারীণ দত্তের মতো নেতাদের কমই দেখা যায়। অসাধারণ দরদ দিয়ে মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করতেন বারীণ দত্ত।

সাংবাদিক নিনি ওয়াহিদ বলেন, বারীণ দত্তর অবদানের কথা নতুন প্রজন্মকে জানানোর মধ্য দিয়ে সমাজের কলুষিত অবস্থা থেকে মুক্তি আসতে পারে।

সাংবাদিক ইব্রাহীম চৌধুরী বলেন, যে দেশে বারীণ দত্তদের বিচরণ ছিল, সেই দেশ আজ হাঁটছে উল্টো পথে। নতুন প্রজন্মের কাছে বারীণ দত্তদের ত্যাগ আর দেশপ্রেমের বার্তা আমরা পৌঁছাতে পারিনি। কবি ও লেখক শামসুজ্জামান হীরা বলেন, এমন বিশাল হৃদয়ের মানুষ সমাজ ও রাজনীতিতে বিরল।

অধ্যাপক সৈয়দ মুজিবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বারীণ দত্তদের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানান।

অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন—সুলেখা পাল, মকবুল হোসেন, আবদুল্লাহ চৌধুরী, আবুল খান সামাদ, সৈয়দ রকীব আহমেদ, জাকির হোসেইন, শ্যাম চন্দ্র, বিজন সাহা, বারীণ দত্তর ছেলে কিশোর দত্ত, কাশেম আলী, আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী, মিল্টন বড়ুয়া, উৎপল দত্ত, মিনহাজ আহমেদ প্রমুখ।

প্রয়াত বারীণ দত্তের নাতনি ইস্পিতা দত্ত তাঁর বক্তব্যে প্রয়াত বারীণ দত্তকে নিয়ে সবার আলোচনায় তিনি আপ্লুত বলে উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সুব্রত বিশ্বাস অসুস্থ কমরেড হারুনের সুস্থতা কামনা করেন। তিনি দেশে বিদেশে সমমনাদের মধ্যে যোগসূত্র বৃদ্ধির প্রয়াসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

ভার্চ্যুয়াল সভায় প্রয়াত বারীণ দত্তসহ ত্যাগী নেতাদের জীবনী নিয়ে একটা স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0