default-image

সিলেটে রায়হান হত্যায় অভিযুক্ত পুলিশ বাহিনীর সদস্য পলাতক আকবর ভূঁইয়ার সংবাদ দিতে পারলে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী সামাদ খাঁন। এতে দুটি বিষয় দিনের আলোর ন্যায় স্পষ্ট। সিলেটে ঘটে যাওয়া এমন অবিচারে সিলেটবাসীর ন্যায় প্রবাসে বসবাসরত সব সিলেটী প্রবাসী ফুঁসে উঠেছেন।

মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে একটি তাজা প্রাণ কীভাবে কেড়ে নিল পুলিশ, তা নিয়ে চলছে নানাভাবে ক্ষোভের প্রকাশ। নিষ্ঠুর এই ঘটনার মূল হোতা এসআই আকবরকে ঘটনার এত দিন পরও পুলিশ কেন গ্রেপ্তার করতে পারছে না। আকবর গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। অপরাধ কর্মকাণ্ডের মূল হোতা বলে বহুল আলোচিত এই আকবর পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে সিলেট ছেড়ে গেলেন, সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে।

বিজ্ঞাপন

সিলেটের সুশীল সমাজসহ সব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলছেন, একজন আকবরের দায় পুরো পুলিশ বাহিনীকে কেন বহন করতে হবে। দেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ ক্ষেত্রে এ গুরুতর অভিযোগ রেখে এসআই আকবর ও তাঁর সাথিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করে পুলিশ বিভাগ দায়মুক্ত হোক। নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে থাকেন, অনেক কষ্ট করেছি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে। যখন সুখের সময় এল, তখনই সব শেষ করে দিল এসআই আকবর ভূঁইয়া। তিনি বলেন, কয়দিন পর রায়হান যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার কথা। আকবর সব তছনছ করে দিল মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য।

সালমা আরও বলেন, ২০১৭ সালের দিকে ছেলে বিয়ে করে। ছোট চাকরি করলেও সংসারে আনন্দ ছিল সীমাহীন। স্ত্রী-সন্তান ও মায়ের প্রতি রায়হানের ভালোবাসার কমতি ছিল না। ছেলের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন মা সালমা বেগম।

পুরো সিলেট বিভাগসহ দেশের সব শান্তিপ্রিয় জনগণের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বড় বড় শহরে এ ধরনের চরম নৃশংসতার প্রতিবাদ চলছে। গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বিরাট একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। তেমনি নগরের ব্রঙ্কস ও জ্যামাইকাতে চলে প্রতিবাদ। প্রবাসীদের দাবি অবিলম্বে এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হোক। দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচারের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

প্রবাসীরা প্রশ্ন তোলেন, আমেরিকার এক শহরে পুলিশের হাতে একজন কৃষ্ণাজ্ঞ নিহত হওয়ার পর পরই সব অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারলে একজন নিরীহ সিলেটী তরুণকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পরও একজন পুলিশ অফিসার কেন গ্রেপ্তার হন না। পুলিশের এ ধরনের ভূমিকা রহস্যের সৃষ্টি করেছে। প্রবাসীরা দেশে গেলে নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা চান বলেই পুলিশ বাহিনীর মধ্যে লুকিয়ে থাকা ফ্রাংকেনস্টাইনদের খুঁজে বের করা হোক বলে দাবি জানানো হচ্ছে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0