default-image

উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের সহসভাপতি শফি চৌধুরীর (হারুন) মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ। করোনা থেকে সুস্থ্য হয়ে উঠার পর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে কয়েকদিন আগে সাউথ ক্যারোলিনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

শফি চৌধুরী কৈশোর থেকেই প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। খেলাঘর, উদীচী ও ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা। এসব সংগঠনের কর্মী ও সংগঠক হিসেবে আজীবন জড়িয়ে ছিলেন। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংগ্রামে আজীবন নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন পরবর্তীতে দেশ গঠনে সক্রিয় থেকেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর একপর্যায়ে উদীচীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন স্বামী–স্ত্রী দুজনে। সেই জড়িয়ে পড়া উদীচী ও উদীচী স্কুল হয়ে ওঠে নিত্যদিনের অনুষঙ্গ। একদিকে উদীচীকে সাংগঠনিকভাবে গড়ে তোলা, প্রচার–প্রসারে এগিয়ে নেওয়া। অন্যদিকে স্কুলে নতুন প্রজন্মকে বাংলা ও বাঙালি কৃষ্টি-সংস্কৃতিতে গড়ে তোলার একনিষ্ঠ প্রয়াস। উদীচী হয়ে উঠেছিল স্বামী–স্ত্রী দুজনেরই প্রাণের ও আত্মার আত্মীয়।

বিজ্ঞাপন

উদীচীর এই সহযোদ্ধা ছিলেন রবিঠাকুরের একনিষ্ঠ ভক্ত। মনপ্রাণ দিয়ে রবিঠাকুরের গান গাইতেন। এ দেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের বাংলা গানের মধ্য দিয়ে বাঙালিত্বের বীজ বুনতেন। প্রবাসের প্রতিটি সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলন সংগ্রামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক। প্রবাসে থাকলেও দেশকে কখনো ভোলেননি। দেশের বিপদে–আপদে সঙ্গী হয়েছেন। বিভিন্ন অন্যায় অপরাধ ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ব্যানার–ফেস্টুন হাতে দাঁড়িয়ে গেছেন নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায়। প্রতিবাদী গান গেয়েছেন হারমোনিয়াম গলায় ঝুলিয়ে।

একজন সৎ নির্লোভ, বিনয়ী বন্ধুবৎসল ব্যক্তি হিসেবে সবার কাছে ছিলেন প্রিয়। রোববার স্কুলে না এলে স্কুলই যেন প্রাণ পেত না। তার এ শূণ্যস্থানের বিকল্প গড়ে তোলা উদীচীর জন্য বড়ই কঠিন। তার এই চলে যাওয়া উদীচীর ভাইবোন, সহকর্মী, সহযোদ্ধা সবাই গভীরভাবে বেদনাহত ও বাকরুদ্ধ। রেখে যাওয়া স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ের প্রতি রইল উদীচীর অকৃত্রিম সহমর্মিতা।

নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন