default-image

আয়কর দাখিলে এবার আয়কর দাতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেজ্ঞরা। নানা কারণে আয়কর দাখিল অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি সচেতন থাকতে হবে বলে তাঁরা বলছেন। অন্যথায় আইআরএসের তদন্তের মুখে পড়তে হতে পারে যেকোনো আয়কর দাতাকে।

সরকারিভাবে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আয়কর দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর আয়কর দাখিল জানুয়ারি থেকে শুরু হলেও এবার রিকভারি রেবিট ক্রেডিট আপডেট করতে আয়কর দাখিলের কাজ বিলম্বে শুরু হয়েছে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে বেশির ভাগ মানুষ বেকার ভাতা নিয়েছেন। ব্যবসার কাজে নিয়েছেন পিপিপি ঋণ ও ৩০ বছর মেয়াদি এসবিএ ঋণ। এ ছাড়া ১০ হাজার ডলার করে ডিজাস্টার ঋণ গ্রহণ করেছেন অনেকে। এসব বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে আয়কর দাখিল করার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যারা বেকার ভাতা নিয়েছেন, তাদের অবশ্যই আয়কর দিতে হবে। তবে, প্রণোদনা থেকে পাওয়া অর্থের কোনো আয়কর দিতে হবে না।

একই সঙ্গে যারা সেলফ এমপ্লয়ি হিসেবে কাজ করেছেন, অবশ্যই তাদের আয়কর বিবরণী দাখিলের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খরচের রসিদ রাখার কথাও বলছেন আয়কর বিশেজ্ঞরা।

সাউথ ইষ্ট ইউএসএর সিইও এহতেশামুল হক বলেন, যারা সেলফ এমপ্লয়ি অথবা ট্যাক্সি ক্যাবচালক, তাদের বেশির ভাগই খরচের রসিদ রাখেন না। রসিদ ছাড়াই যারা আয়কর দাখিল করতে আসেন, তাদের আইআরএসের ঝামেলায় পড়া স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, বেশি রিটার্ন পাওয়ার আশায় বাচ্চাদের আলাদা করে স্বামী–স্ত্রী ভিন্ন ভিন্ন আয়কর দাখিল করেন। এতে অনেককেই বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চিশতী অ্যাকাউন্টিংয়ের সিইও মোহাম্মদ কে চিশতী বলেন, বিগত ১৪ বছর ধরে এই পেশায় আছি। যারা ভুল তথ্য দিয়ে আয়কর দাখিল করেছেন, তারা অডিটের ঝামেলায় পড়েছেন। আয়কর দাখিলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সরবরাহ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যারা প্রণোদনার ডলার পাননি, তারা আয়কর দাখিলের সময় রিকভারি রিবেট ক্রেডিট হিসেবে আবেদন করতে পারবেন।

কর্ণফুলী ট্যাক্সের সিইও ও এনরোল এজেন্ট মোহাম্মদ হাসেম বলেন, বেকারত্ব বেনিফিট, এসবিএ লোন, পিপিপি লোন, রিকভারি রিবেট ক্রেডিট, ফ্যামিলি অ্যান্ড সিক লিভ ক্রেডিটসহ অন্যান্য ক্রেডিটের কারণে এবার আয়কর দাখিল অনেকটা জটিল হবে। এই অর্থ বছরে অর্থাৎ ২০২০ সালে আর্নড ইনকাম ক্রেডিট বেড়েছে। ২০২০ আয়কর বছরে এক সন্তানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আর্নড ইনকাম ক্রেডিট দেওয়া হবে ৩ হাজার ৫৮৪ ডলার। ২০১৯ আয়কর বছরে এক সন্তানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আর্নড ইনকাম ক্রেডিট ছিল ৩ হাজার ৫২৬ ডলার।

২০২০ অর্থ বছরে দুই সন্তানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আর্নড ইনকাম ক্রেডিট হবে ৫ হাজার ৯২০ ডলার। ২০১৯ আয়কর বছরে দুই সন্তানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আর্নড ইনকাম ক্রেডিট ছিল ৫ হাজার ৮২৮ ডলার।

চলতি অর্থ বছর তিন বা ততোধিক সন্তানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আর্নড ইনকাম ক্রেডিট দেওয়া হবে ৬ হাজার ৬৬০ ডলার। আর ২০১৯ আয়কর বছরে তিন বা অধিক সন্তানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আর্নড ইনকাম ক্রেডিট ছিল ৬ হাজার ৫৫৭ ডলার।

আর্নড ইনকাম ক্রেডিটের ক্ষেত্রে সন্তানের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছর হলে অবশ্যই পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হতে হবে। অন্যথায় আর্নড ইনকাম ক্রেডিট পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবে না।

হাসেম আইআরএসের বরাত দিয়ে আরও বলেন, ২০২০ আয়কর বছরে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে। দম্পতির ফাইলিং যৌথভাবে ২৪ হাজার ৪০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৪ হাজার ৮০০ ডলার করা হয়েছে। পরিবারের প্রধানের ১৮ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ৬৫০ ডলার, সিঙ্গেল ১২ হাজার ২০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৪০০ ডলার এবং স্বামী–স্ত্রীর আলাদা আয়কর দাখিলে ১২ হাজার ২০০ ডলার থেকে ১২ হাজার ৪০০ ডলার করা হয়েছে।

হাসেম আরও বলেন, যারা প্রণোদনা চেক পায়নি, তারা আয়কর দাখিলের সময় ক্লেইম করলে যোগ্য বিবেচিত হওয়া সাপেক্ষে রিফান্ড পেতে পারেন।

মোহাম্মদ হাসেম বলেন, এবার আইটেমাইজড আয়কর দাখিল না করলেও ৩০০ ডলার ডিডাকশন নিতে পারবে। যাদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নেই, কিন্তু মার্কেট প্লেস হেলথ ইনস্যুরেন্সের জন্য তাদের ১০৯৫-এ ফরম পূরণ করতে হবে।

জ্যামাইকার আয়কর বিশেষজ্ঞ আরমান চৌধুরী বলেন, আয়কর দাখিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সংরক্ষণে রাখতে হবে। তাহলে আমাদের আয়কর দাখিলে সহযোগিতা করতে সহজ হবে। এবং কাউকে নিরীক্ষার ঝামেলায়ও পড়তে হবে না।

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন